শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, সিআইপি আলহাজ সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন,
‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে আমরা এ ধরনের মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। ডাবলুর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
‘জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল সমঝোতা, হিজবুল্লাহর কড়া প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল সমঝোতা, হিজবুল্লাহর কড়া প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনার পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্বাক্ষরিত এই সমঝোতায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে। চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সমঝোতা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর এই কাঠামোগত সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। অপরদিকে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, “এটি কেবল শুরু—শুরুরও শুরু (the beginning of the beginning)।”

চুক্তির পর এক লিখিত বিবৃতিতে রুবিও জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেবে।

তিনি বলেন, এই কাঠামোর আওতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, সংগঠনটির সামরিক অবকাঠামো অপসারণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার একটি রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন (Military Coordination Group for Lebanon) নামে একটি পাইলট সমন্বয় কাঠামো গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই সমঝোতা দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করছে না। বরং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেওয়ার একটি কাঠামো মাত্র।

তিনি আরও বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে অস্ত্র বহনের অধিকার কেবল বৈধ রাষ্ট্রীয় বাহিনীরই রয়েছে।

আলোচনায় হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে মার্কো রুবিও জানান, সংগঠনটির সঙ্গে পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে হিজবুল্লাহকে লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের সামরিক সক্ষমতা দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি।

ওয়াশিংটনে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামেদা মোয়ায়েদ আলোচনাকে “দীর্ঘ ও কঠিন” উল্লেখ করে বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথে প্রথম ধাপ।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়াখেল লেইতার বলেন, “ইরান ও হিজবুল্লাহ বাইরে থাকলে ইসরায়েল-লেবানন শান্তির নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিতানি নদীর দক্ষিণ ও উত্তর অংশে দুটি পাইলট নিরাপত্তা অঞ্চল গঠন করা হবে। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সক্ষমতার লেবাননের সেনাবাহিনী এত বড় দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।

অন্যদিকে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাশেম বলেন, ইসরায়েলকে কোনো শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি বলেন, “লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অধিকার কারও নেই।”

ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, আলোচনার অন্যতম বিরোধপূর্ণ বিষয় ছিল তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন। এপ্রিল মাসে নির্ধারিত এই কাল্পনিক রেখাটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার লেবাননের অভ্যন্তরে বিস্তৃত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩১ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৯ জন আহত হয়েছেন।

ছয় মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের ১৩ দানসিন্দুক, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
ছয় মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের ১৩ দানসিন্দুক, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খোলা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ, আনসার, র‍্যাব, ফায়ার সার্ভিস, মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সিন্দুক খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

সিন্দুক খোলার পর এবার মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ছয় মাস ধরে জমা হওয়া বিপুল দান এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। সে সময় ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়। গণনা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর দানসিন্দুক খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। ফলে দানের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাগলা মসজিদে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দান-সদকা ও মানত নিয়ে আসেন। শুধু মুসলমান নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও গভীর বিশ্বাস ও আস্থা থেকে এখানে দান করে থাকেন। অনেকের বিশ্বাস, আন্তরিক নিয়তে এখানে দান করলে আল্লাহ তাদের মনের আশা পূরণ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশ-বিদেশের মানুষ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কারসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন।

শুধু অর্থই নয়, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, ধান, চাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়মিত দান করা হয়। এসব সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদের তহবিলে জমা দেওয়া হয়।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। মসজিদের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে আধ্যাত্মিক সাধক ‘পাগলা সাহেব’-এর স্মৃতি। তাঁর নাম থেকেই ‘পাগলা মসজিদ’ নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।

এদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও দানসিন্দুক থেকে ঠিক কত টাকা পাওয়া যায়, তা জানতে দেশজুড়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মোট অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করবে জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

করিমগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ৮ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
করিমগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ৮ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৮ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ।

র‌্যাব জানায়, বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৫ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩৫ মিনিটে করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় বালিখলা এলাকায় স্থাপিত একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালিয়ে তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রুহুল আমিন (৩৫), মো. জুবাই মিয়া (৩৫) এবং আল আমিন (৪০)। তাদের সবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

র‌্যাবের উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের দেহ তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা মালামাল পরীক্ষা করে ৮ কেজি অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য, জব্দকৃত আলামত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৪ জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।