শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-প্রচারণা সবার অধিকার : আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-প্রচারণা সবার অধিকার : আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—উভয় পক্ষই প্রচারণা চালানোর অধিকার রাখে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাউকে এই প্রচারণা থেকে বিরত রাখবে না, কারণ এটি মানুষের সম্পূর্ণ নিজস্ব বিবেকবোধের বিষয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকার যেমন সবার আছে, তেমনি ‘না’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকারও সবার আছে। কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলের ব্যবস্থা দেশে অব্যাহত থাকুক, বৈষম্য ও নিপীড়ন আগের মতোই চলুক—তবে তিনি ‘না’ বলতেই পারেন। কাউকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখার কোনো অধিকার বা ইচ্ছা আমাদের নেই।”

তিনি অতীতের গণভোটের উদাহরণ টেনে বলেন, “আগে বাংলাদেশে যতো গণভোট হয়েছে, সবসময় সরকার একটি পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু এই গণভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন সরকার গঠিত হবে না। আমরা শুরু থেকেই তিনটি প্রধান কাজের কথা বলেছি—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল সংস্কার। আমরা সরকারে থাকবো না, কিন্তু জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বার্থে সংস্কারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনও বিশেষ দলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি না।”

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “আইনের ব্যাখ্যার চেয়ে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে জনকল্যাণ। আমরা দেখেছি, ১৫ বছর শাসনতান্ত্রিক সংস্কার না হওয়ায় দেশের কী অবস্থা হয়েছিল। আমরা যেসব সংস্কার সরাসরি করতে পারছি, সেগুলো করছি। তবে সংবিধান পরিবর্তনের মতো বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত প্রয়োজন, তাই বিষয়টি গণভোটে দিয়েছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংলাপে অংশ নেওয়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রক্রিয়াগত কিছু পার্থক্য থাকলেও মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে সবার মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। সরকারের এই প্রচারণা মূলত সংস্কারের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার) প্রদর্শনের অংশ।

কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার বাজরা-তারাকান্দি বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান জাকির।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহ-সভাপতি: মো. সোহেল রানা (বাজরা-তারাকান্দি), মো. শাকিল মিয়া (দারিয়াকান্দি) ও মো. আজিজুর রহমান আপেল (ছয়সূতী)।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. সালাহ উদ্দীন (বাজরা)। প্রচার সম্পাদক: মো. মিলন মিয়া (মনোহরপুর), মো. আল-আমিন মিয়া (আগরপুর) ও মো. শরিফ মিয়া (চর কামালপুর)। সহকারী প্রচার সম্পাদক: মো. রতন মিয়া (তারাকান্দি) ও মো. আহসানুল হাবীব আশিক (পৈলানপুর)। সম্মানিত সদস্য: কুলিয়ারচর উপজেলার সকল বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকবে এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে কুলিয়ারচরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলাররা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হোসেনপুর থানা পুলিশ-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢেকিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মো. খাইরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে অপর অভিযানে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রাম থেকে মোছা. নাছিমা আক্তার নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রিটন মেম্বারের বোন বলে জানা গেছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলেন।

অভিযান পরিচালনা করেন হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন ও এসআই ঈদুল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৭/০৯। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে হোসেনপুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদ্যোগে ‘মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন জেলখানা রোড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, হাসপাতালের পরিচালক রিয়াদ আহমেদ তুষার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও হয়বতনগর ইউএল কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর সভাপতি এ কে নাছিম খান এবং কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

পরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালী তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার আফরিন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা অংশ নেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল বর্জ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মেডিকেল বর্জ সংগ্রহ, পরিবহন ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে শহরের পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।