র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তদন্ত ক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পৃথক একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয়।
বিল দুটি গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল। পরে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সদস্যদের ভিন্নমতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসআরবি বিলের মাধ্যমে ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র্যাব-সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র্যাব গঠনের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
২০০৪ সালে সংশোধিত অধ্যাদেশের আওতায় র্যাব গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে র্যাব সমালোচনার মুখে পড়ে। এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মোজিবুর রহমান ইকবাল আলোচনায় অংশ নেন।
বিলে পুলিশের অধীনে একটি এসআরবি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এ ইউনিট গঠন করা হবে।
এসআরবি সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এ ইউনিটের নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকবে।
এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হবে।
বিল অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র এবং অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নতুন আইনের অধীনে বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধিমালার আওতায় র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম ও আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি পরিচালনা, গ্রেপ্তার এবং সম্পত্তি জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিটের অধীনে আটক রাখার স্থান, গুদাম ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে।
নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির একটি অঙ্গীকার এবং বিলটি পাসে বিলম্ব হলে র্যাবকে বিদ্যমান রাখারই সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনমত গ্রহণের জন্য এটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি করবে।
তিনি বলেন, আইন পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র্যাব বিলুপ্ত হবে এবং পরবর্তী সময়ে এসআরবি নামে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে র্যাবের কাছে থাকা সম্পদ ও সরঞ্জাম অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি।
তিনি বলেন, নতুন সংস্থার কাছে এসব সম্পদ ও সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হলে নতুন করে অপ্রয়োজনীয় ক্রয় করতে হবে না।
এসআরবি বিল পাসের পর জাতীয় সংসদ ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ও পাস করে। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
বিলে পুলিশের অধীনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য অঞ্চলের ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন সাপেক্ষে এপিবিএন কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি পরিচালনা, সম্পত্তি জব্দ এবং গ্রেপ্তার করতে পারবে।
এ ছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এপিবিএনের কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে বা প্রকাশে সহায়তা করতে পারবেন না—এমন বিধানও রাখা হয়েছে।
বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং জনমত নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এপিবিএন বিল পাস করা হয়।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array