বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-প্রচারণা সবার অধিকার : আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-প্রচারণা সবার অধিকার : আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—উভয় পক্ষই প্রচারণা চালানোর অধিকার রাখে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাউকে এই প্রচারণা থেকে বিরত রাখবে না, কারণ এটি মানুষের সম্পূর্ণ নিজস্ব বিবেকবোধের বিষয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকার যেমন সবার আছে, তেমনি ‘না’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকারও সবার আছে। কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলের ব্যবস্থা দেশে অব্যাহত থাকুক, বৈষম্য ও নিপীড়ন আগের মতোই চলুক—তবে তিনি ‘না’ বলতেই পারেন। কাউকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখার কোনো অধিকার বা ইচ্ছা আমাদের নেই।”

তিনি অতীতের গণভোটের উদাহরণ টেনে বলেন, “আগে বাংলাদেশে যতো গণভোট হয়েছে, সবসময় সরকার একটি পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু এই গণভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন সরকার গঠিত হবে না। আমরা শুরু থেকেই তিনটি প্রধান কাজের কথা বলেছি—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল সংস্কার। আমরা সরকারে থাকবো না, কিন্তু জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বার্থে সংস্কারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনও বিশেষ দলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি না।”

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “আইনের ব্যাখ্যার চেয়ে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে জনকল্যাণ। আমরা দেখেছি, ১৫ বছর শাসনতান্ত্রিক সংস্কার না হওয়ায় দেশের কী অবস্থা হয়েছিল। আমরা যেসব সংস্কার সরাসরি করতে পারছি, সেগুলো করছি। তবে সংবিধান পরিবর্তনের মতো বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত প্রয়োজন, তাই বিষয়টি গণভোটে দিয়েছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংলাপে অংশ নেওয়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রক্রিয়াগত কিছু পার্থক্য থাকলেও মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে সবার মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। সরকারের এই প্রচারণা মূলত সংস্কারের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার) প্রদর্শনের অংশ।

র‌্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি ও এপিবিএন বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
র‌্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি ও এপিবিএন বিল পাস

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তদন্ত ক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পৃথক একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয়।

বিল দুটি গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল। পরে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সদস্যদের ভিন্নমতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসআরবি বিলের মাধ্যমে ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র‌্যাব গঠনের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

২০০৪ সালে সংশোধিত অধ্যাদেশের আওতায় র‌্যাব গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে র‌্যাব সমালোচনার মুখে পড়ে। এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মোজিবুর রহমান ইকবাল আলোচনায় অংশ নেন।

বিলে পুলিশের অধীনে একটি এসআরবি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এ ইউনিট গঠন করা হবে।

এসআরবি সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এ ইউনিটের নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকবে।

এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হবে।

বিল অনুযায়ী, র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র এবং অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নতুন আইনের অধীনে বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধিমালার আওতায় র‌্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম ও আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি পরিচালনা, গ্রেপ্তার এবং সম্পত্তি জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিটের অধীনে আটক রাখার স্থান, গুদাম ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে।

নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির একটি অঙ্গীকার এবং বিলটি পাসে বিলম্ব হলে র‌্যাবকে বিদ্যমান রাখারই সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনমত গ্রহণের জন্য এটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি করবে।

তিনি বলেন, আইন পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব বিলুপ্ত হবে এবং পরবর্তী সময়ে এসআরবি নামে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে র‌্যাবের কাছে থাকা সম্পদ ও সরঞ্জাম অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি।

তিনি বলেন, নতুন সংস্থার কাছে এসব সম্পদ ও সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হলে নতুন করে অপ্রয়োজনীয় ক্রয় করতে হবে না।

এসআরবি বিল পাসের পর জাতীয় সংসদ ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ও পাস করে। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

বিলে পুলিশের অধীনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য অঞ্চলের ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন সাপেক্ষে এপিবিএন কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি পরিচালনা, সম্পত্তি জব্দ এবং গ্রেপ্তার করতে পারবে।

এ ছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এপিবিএনের কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে বা প্রকাশে সহায়তা করতে পারবেন না—এমন বিধানও রাখা হয়েছে।

বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং জনমত নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এপিবিএন বিল পাস করা হয়।

হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ৯

হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯০৯ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট ১৯ হাজার ৯৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।

হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের একজন করে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, একসময় ভুলে যাওয়া রোগে পরিণত হওয়া হাম এবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালে হামের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলাকে পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তাঁরা। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যনির্ভর ও পরিকল্পিতভাবে কাজ না করার কারণে পরিস্থিতি দুঃসহ হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, তাঁর জানামতে, দেশে আগে হামে এত মৃত্যু ও সংক্রমণ হয়নি। এদিকে জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশে হামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে। এত সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড আগে নেই; এটি নজিরবিহীন।

চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও মার্চে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে মে মাসজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি চালানো হলেও সে সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যায়।

আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট। ২০২৫ সালে দেশে হাম শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জনের, ২০২৪ সালে ২৪৭ জনের, ২০২৩ সালে ২৮২ জনের এবং ২০২২ সালে ৩১১ জনের।

সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ

গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ঐক্য ধরে রাখা এবং সাংবাদিকতায় পেশাগত নীতি ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’ (জেজেইউ) আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটির ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন সাইফুর রহমান সাগর এবং সদস্যসচিব হয়েছেন আহসান কামরুল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য মানুষ মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছে। কিন্তু এরপর চারটি গণমাধ্যম ছাড়া সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একজন অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ কতটা কাম্য, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালে এত কষ্ট করলাম। কিন্তু এখন কিসের জন্য এত বিভাজন হলো? এসব দেখে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে লজ্জিত হই। আমরা আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে পারছি না। এত ত্যাগের পর মাত্র কয়েক দিন যেতে না যেতেই আমরা আবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি। যে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে শিষ্টাচারের অভাবের অভিযোগ কেন আসবে? আমরা কেন রক্ত দিয়েছিলাম, সেটি বারবার ভুলে যাচ্ছি। আমরা কবে মানুষ হব?’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজয় ঐক্যের ভিত্তিতে এসেছে। যারা শত শত মানুষ মেরে ফেলেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা এত ব্যস্ত হয়ে উঠলাম কেন?’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কামরুল আহসান বলেন, বর্তমান সরকারের ওপর মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে। মানুষ যাতে বাজার থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে এবং নিরাপদে বাঁচতে পারে, সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক একটি কর্মসূচির সমালোচনা করে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, সংকটের মধ্যে অনেক গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামে যাওয়া হয়েছে। অথচ ভার্চুয়ালিও সেই কর্মসূচি করা সম্ভব ছিল।

অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মে কোনো নারী নেই। এজন্য খারাপ লাগছে। অভ্যুত্থানে কিন্তু নারীদের অনেক ভূমিকা ছিল।’

সাংবাদিকতায় দলীয় পরিচয় পরিহারের আহ্বান জানিয়ে শহিদুল আলম বলেন, সাংবাদিকতা হতে হবে জনগণের স্বার্থে। দলীয় সাংবাদিক হওয়া যাবে না। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে নীতি মানতে হবে। প্রেসকার্ডের জোরে কোনো সুবিধা নেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে বলতে শুনি আওয়ামী লীগের সাংবাদিক, বিএনপির সাংবাদিক। এটা হওয়া যাবে না।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের বাইরে শেখ হাসিনার বিশাল ছবি ঝুলত, যা সাংবাদিকেরাই করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন শহিদুল আলম। ভবিষ্যতে অন্য কারও ছবি ঝুললেও তাতে অবাক হবেন না বলেও জানান তিনি।

মানবাধিকার, আইন ও গুম ইস্যুতে যেসব পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, সেসব এখনো দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন শহিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেজেইউর আহ্বায়ক সাইফুর রহমান সাগর বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আড়াই বছরেও এমন সংগঠন হয়নি। এখন কেন হয়েছে, এটি সময়ের প্রয়োজনেই হয়েছে। জুলাইয়ে যেসব সাংবাদিক অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা এই সংগঠনে থাকবেন।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে সাইফুর রহমান সাগর, সদস্যসচিব হিসেবে আহসান কামরুল, যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে লুৎফর রহমান বাদল ও তালুকদার রুমী এবং যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে আবদুর রহিম কেফায়েত ও শাকিলের নাম ঘোষণা করা হয়।