মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ভোটার নাম বাতিল, নাগরিকত্ব প্রমাণে ট্রাইব্যুনালে দৌড়
সংগ্রহীত
একসময় যাদের পূর্বপুরুষদের শাসন বিস্তৃত ছিল বাংলা, বিহার ও ওড়িশাজুড়ে, সময়ের বিবর্তনে আজ তাদেরই লড়তে হচ্ছে নাগরিকত্বের স্বীকৃতির জন্য। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের নবাব বংশের অন্যতম উত্তরসূরি নবাব মীর জাফরের প্রায় ৩৪৬ জন বংশধরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে এখন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে রাজবংশের উত্তরসূরিদের।
বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) কার্যক্রম শেষে লালবাগ নব আদর্শ হাই স্কুলের ১২১ নম্বর বুথের ভোটারদের নাম ২০২৫ সাল পর্যন্ত ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলী মীরজাসহ তার পরিবারের ৯ জন সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মীরজাও রয়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈয়দ রেজা আলী মীরজা বলেন, “শুনানির সময় আমি সব বৈধ নথিপত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলাম। কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন নাম বহাল থাকবে। কিন্তু সম্পূরক তালিকায় দেখলাম আমাদের পুরো পরিবারসহ নবাবী সম্প্রদায়ের শত শত মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।”
লালবাগের ঐতিহাসিক কিল্লা নিজামতের সন্নিকটে বসবাসকারী মীর জাফরের পঞ্চদশ প্রজন্মের এই উত্তরসূরি বলেন, “একসময় আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রজাদের বিচার করতেন, আর আজ আমাদেরই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
পরিবারটির দাবি, দেশভাগের সময় তাদের পূর্বপুরুষ ওয়াসিফ আলী মীরজা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি স্বাধীনতার পর মুর্শিদাবাদ তিন দিনের জন্য পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও তাদের পরিবারের উদ্যোগেই তা পুনরায় ভারতের অংশ হয় বলে দাবি করা হয়। নাগরিকত্বের বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট থেকেও ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর ফাহিম মীরজা।
আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবারটি।
এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসক আর. অর্জুন বলেন, নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে নাম বাদ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।













