কুলিয়ারচরে যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়ন-এ মো. হানিফ মিয়া (৩৪) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার(১৩ মে) গভীর রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে একটি পতিত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটিয়েছে।
নিহত হানিফ মিয়া ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং মো. ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি পেশায় ‘স’ মিল শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লসকর মিয়ার ছেলে মো. জাকির হোসেন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, রাত প্রায় ১২টার দিকে হানিফ আতঙ্কিত কণ্ঠে মোবাইল ফোনে তাকে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকিররা আমাকে মেরে ফেলবে।” এ কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে জাকিরদের বাড়িতে ছুটে যান। তবে সেখানে গিয়ে তারা বাড়ির গেট বন্ধ দেখতে পান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লসকর মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পতিত ক্ষেতে হানিফের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বাবা লসকর মিয়াকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে মূল অভিযুক্ত জাকিরসহ অন্যরা পালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা লসকর মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে একটি পাকা ঘর, ঘরের আসবাবপত্র এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এলাকাবাসীর ধারণা, মাদকসংক্রান্ত বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে পুলিশ এখনও ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি।
কাজী আরীফ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ এবং মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান জোরদার না হলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।










