হাওরের একজন কৃষকও না খেয়ে থাকবে না: অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান
“হাওরের একজন কৃষকও না খেয়ে থাকবে না। ক্ষুদ্র কৃষক ও বর্গাচাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সরকার।” — এমন আশ্বাস দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন-এর নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নদীভাঙনের ভয়াবহতা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা ফিরিয়ে আনতে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) খনন কার্যক্রম শুরু করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নদীভাঙন শুধু ঘরবাড়ি নয়, মানুষের জীবিকা ও ভবিষ্যৎকেও হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে।”
হাওরাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, হাওরের খাল ও নদী পুনঃখননের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে, নৌযান চলাচল সহজ হবে এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরাঞ্চলে কৃষক ও জেলেদের জন্য বিশেষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা শেড নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে হাওরকে পরিবেশগতভাবে আরও সমৃদ্ধ করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হিজল, করচ ও তমালসহ দেশীয় জলজ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আরও বলেন, “হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য ৩৪টি উপজেলা নিয়ে পৃথক হাওর মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ মন্ত্রণালয় গঠিত হলে হাওরবাসীর উন্নয়নে আরও পরিকল্পিত ও কার্যকর কাজ করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বছর নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। ফলে সরকারি উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উম্মে কুলসুম রেখা, সৈয়দ সাঈদ আহমদ, জাকির হোসেন মুকুল এবং সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।










