বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ শুরু

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ শুরু

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫৩৯টি কার্ডধারী পরিবারকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ও ট্যাগ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব মাইনুল হক মেনু, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র পাল, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নায়েম বাবুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদুল আলম মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সবুজ, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. নাজমুল হক, সাংবাদিক মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ইউনিয়নের ৪ হাজার ৫৩৯টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে মোট ৪৫ হাজার ৫৭০ কেজি চাল বিতরণ করা হবে। দুই দিনব্যাপী এ কার্যক্রম মঙ্গলবার শুরু হয়েছে এবং বুধবারের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কার্ডধারীরা নির্ধারিত কুপন প্রদর্শনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে চাল গ্রহণ করছেন। বিতরণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক বলেন, “প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সঠিকভাবে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।”

ট্যাগ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এ পর্যন্ত চাল বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়েনি। উপকারভোগীদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, “ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা তাদের প্রাপ্য সহায়তা পান, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

ঊরুতে লুকানো ছিল ইয়াবা, ভৈরবে আটক মাদক কারবারি

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ঊরুতে লুকানো ছিল ইয়াবা, ভৈরবে আটক মাদক কারবারি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৯৮০ পিস ইয়াবাসহ সাগর হোসেন (৫৮) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ভৈরব কার্যালয়ের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের দুর্জয় মোড় এলাকার নুরানী ড্রাই ক্লিনার অ্যান্ড লন্ড্রির সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক সাগর হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার রাধানগর বণিকপাড়া এলাকার মৃত আমানুল্লাহর ছেলে। বর্তমানে তিনি ভৈরবের জগন্নাথপুর এলাকায় ভুট্টু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্জয় মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে সাগর হোসেনকে আটক করে তার দেহ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিকালে তার ডান পায়ের ঊরুতে অ্যাংলেট মোজার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে তাকে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সাগর হোসেনের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদক পাচার ও কারবার রোধে ভৈরবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনায় হোসেনপুরে ভূমিসেবা মেলা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনায় হোসেনপুরে ভূমিসেবা মেলা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাধারণ নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ভূমিসেবা মেলা-সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন।

পরে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। এ সময় তিনি বলেন, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে জনগণ আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাচ্ছেন এবং সহজে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী এই মেলা চলবে। মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে খাজনা পরিশোধ, খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি উন্নয়ন কর, ডিজিটাল রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা সহজ ও দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ বলেন, আগে ভূমিসেবা নিতে সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হতো। বর্তমানে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সেবা অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে মানুষ সরাসরি সেবা গ্রহণের পাশাপাশি অনলাইন পদ্ধতি সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা পাচ্ছেন।

মেলায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমে আসে এবং ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়।

আয়োজকরা জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশের মতো হোসেনপুরেও একযোগে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনদিনব্যাপী মেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম, তথ্য প্রদর্শনী, সেবা বুথ ও পরামর্শ কেন্দ্র পরিচালিত হবে।

হোসেনপুর ডাক বাংলো ও কমিউনিটি সেন্টার সংস্কারে উদ্যোগ জেলা পরিষদ প্রশাসকের

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর ডাক বাংলো ও কমিউনিটি সেন্টার সংস্কারে উদ্যোগ জেলা পরিষদ প্রশাসকের

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা ডাক বাংলো ও কমিউনিটি সেন্টারের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল সরেজমিনে প্রতিষ্ঠান দুটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ডাক বাংলোর ছাদ চুয়ানো, পানির লাইনের ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যা, শৌচাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং আসবাবপত্রের বেহাল অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর ও বাইরের দেয়ালের রং নষ্ট হয়ে যাওয়া, টাইলস উঠে যাওয়া, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সাউন্ড সিস্টেম অকেজো থাকার বিষয়টিও তার নজরে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পরিবেশ ও অবকাঠামো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা, অতিথি এবং সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, “হোসেনপুরের ডাক বাংলো ও কমিউনিটি সেন্টার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। এখানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাগুলোর অবস্থা অনেকটাই নাজুক হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ সরেজমিনে এসে সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হোসেনপুরবাসীর জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হলে ডাক বাংলো ও কমিউনিটি সেন্টার আবারও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠবে এবং সরকারি ও সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে আসবে।

পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা পরিষদের প্রকৌশলী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।