নাতিদের নির্যাতনের অভিযোগে বৃদ্ধার আত্মহত্যা, শোকে স্তব্ধ এলাকাবাসী
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নাতিদের নির্যাতন ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মোর্তুজা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মোর্তুজা বেগম কুলিয়ারচর উপজেলার খড়কমারা গ্রামের মৃত জিল্লু মিয়ার স্ত্রী। শনিবার (৩০ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কুলিয়ারচর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোর্তুজা বেগমের মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৮) এবং তার দুই ছেলে রাকিব মিয়া (১৮) ও সাকিব মিয়া (১৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। অভিযোগ রয়েছে, মাদকের টাকার জন্য তারা প্রায়ই বৃদ্ধার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। গত শুক্রবার রাতেও টাকার দাবিতে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
প্রতিবেশীরা জানান, নাতিদের মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহ ও অশান্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি নানা সমস্যার মধ্যে ছিল। একদিকে নাতিদের নির্যাতন, অন্যদিকে বসবাসের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মোর্তুজা বেগম চরম মানসিক চাপে ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোর্তুজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কুলিয়ারচরের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মিল্লাত মিয়ার বাড়িতে মেয়ে ও নাতিদের নিয়ে বসবাস করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও বয়সের ভারে বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনযাপন করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া জানান, ঘটনার দিন সকালে মোর্তুজা বেগম তার কাছে নাতিদের নির্যাতন ও টাকার চাপের বিষয়ে বিচার চেয়ে এসেছিলেন। তিনি অত্যন্ত হতাশ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান ফারুক মিয়া।
নিহতের বোন জুমিলা বেগম বলেন, “আমার বোনকে তার নাতিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকার জন্য নির্যাতন করত। নানা দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।”
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিদার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




