রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ছয় মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের ১৩ দানসিন্দুক, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ছয় মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের ১৩ দানসিন্দুক, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খোলা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ, আনসার, র‍্যাব, ফায়ার সার্ভিস, মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সিন্দুক খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

সিন্দুক খোলার পর এবার মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ছয় মাস ধরে জমা হওয়া বিপুল দান এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। সে সময় ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়। গণনা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর দানসিন্দুক খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। ফলে দানের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাগলা মসজিদে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দান-সদকা ও মানত নিয়ে আসেন। শুধু মুসলমান নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও গভীর বিশ্বাস ও আস্থা থেকে এখানে দান করে থাকেন। অনেকের বিশ্বাস, আন্তরিক নিয়তে এখানে দান করলে আল্লাহ তাদের মনের আশা পূরণ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশ-বিদেশের মানুষ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কারসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন।

শুধু অর্থই নয়, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, ধান, চাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়মিত দান করা হয়। এসব সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদের তহবিলে জমা দেওয়া হয়।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। মসজিদের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে আধ্যাত্মিক সাধক ‘পাগলা সাহেব’-এর স্মৃতি। তাঁর নাম থেকেই ‘পাগলা মসজিদ’ নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।

এদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও দানসিন্দুক থেকে ঠিক কত টাকা পাওয়া যায়, তা জানতে দেশজুড়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মোট অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করবে জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা

কিশোরগঞ্জে পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে কৃত্রিম (এআই-সৃষ্ট) আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকিবুল ইসলাম মামুন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যশোদল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন তাঁর চাচাতো মামা। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শরীরে সেই হামলার ৩৭টি সেলাইয়ের দাগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাকিবুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় তিনি মো. জালাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তের একপর্যায়ে চার্জশিট থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপরও প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে তাঁকে হয়রানি অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার করে তাঁকে মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন।

রাকিবুল ইসলাম মামুন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যারা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে এবং তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়; বরং প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন রাকিবুল ইসলাম মামুন।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খুলে এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে দানের পরিমাণ। গণনা শেষে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে একদিনে দানসিন্দুক থেকে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নগদ অর্থ। নগদ টাকার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে স্বর্ণালংকার, রৌপ্য, বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন-এর নেতৃত্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দানসিন্দুক খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

সিন্দুক খোলার পর প্রথমে ৪৩ বস্তা নগদ টাকা পাওয়া যায়। পরে মসজিদের মেঝেতে টাকা ঢেলে দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ছয় মাস ধরে জমা হওয়া দানের কারণেই এবার অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে পাগলা মসজিদ।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, অর্থাৎ ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। তখন ১৩টি দানসিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা উদ্ধার হয়। গণনা শেষে পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

সেই রেকর্ড এবার প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকারও বেশি ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেল।

দানসিন্দুক খোলা ও টাকা গণনার পুরো কার্যক্রমকে ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি।

নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানসিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে বর্তমানে ১০টি স্থায়ী দানসিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংক দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণনা শেষে প্রাপ্ত নগদ অর্থ রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা করা হবে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।

এছাড়া অনলাইনে দান গ্রহণের জন্য www.paglamosque.org ওয়েবসাইট চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নান্দনিক নকশা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজও বাস্তবায়নাধীন।

মসজিদের তহবিল থেকে বর্তমানে ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভরণপোষণের ব্যয় বহন করা হচ্ছে।

এছাড়া ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন-ভাতা, মসজিদের বিদ্যুৎ বিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ব্যয়ও এই তহবিল থেকে নির্বাহ করা হয়।

একই সঙ্গে তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাগলা মসজিদে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দান-সদকা ও মানত নিয়ে আসেন। শুধু মুসলমান নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও গভীর বিশ্বাস ও আস্থা থেকে এখানে দান করে থাকেন।

অনেকের বিশ্বাস, আন্তরিক নিয়তে এখানে দান করলে মহান আল্লাহ তাদের মনের আশা পূরণ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশ-বিদেশের মানুষ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন।

শুধু অর্থ নয়, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, ধান, চাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়মিত দান করা হয়। এসব সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদের তহবিলে জমা দেওয়া হয়।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

মসজিদের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে আধ্যাত্মিক সাধক ‘পাগলা সাহেব’-এর স্মৃতি। তাঁর নাম থেকেই ‘পাগলা মসজিদ’ নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।

অলিম্পিক ডেতে শরীরচর্চা ও খেলাধুলার আহ্বান সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
অলিম্পিক ডেতে শরীরচর্চা ও খেলাধুলার আহ্বান সেনাপ্রধানের

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ, সক্রিয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অলিম্পিক আন্দোলনের মূল তিন মূল্যবোধ—এক্সিলেন্স (Excellence), ফ্রেন্ডশিপ (Friendship) ও রেসপেক্ট (Respect)—সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শনিবার (২৭ জুন) আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অলিম্পিক ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)-এর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ‘You Can Do This, Let’s Move’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ক্রীড়াবিদসহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা।

সকালে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে এয়ারপোর্ট রোড ও স্টাফ রোড লেভেল ক্রসিং প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আর্মি স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর ক্রীড়া প্রদর্শনী। পরে সেনাপ্রধান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের আরও সাতটি বিভাগীয় শহরেও অলিম্পিক ডে উপলক্ষে র‌্যালি ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ, অলিম্পিয়ান, প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তাসহ সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ক্রীড়াপ্রেমী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ দেড় হাজারের বেশি মানুষ এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।