রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খুলে এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে দানের পরিমাণ। গণনা শেষে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে একদিনে দানসিন্দুক থেকে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নগদ অর্থ। নগদ টাকার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে স্বর্ণালংকার, রৌপ্য, বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন-এর নেতৃত্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দানসিন্দুক খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

সিন্দুক খোলার পর প্রথমে ৪৩ বস্তা নগদ টাকা পাওয়া যায়। পরে মসজিদের মেঝেতে টাকা ঢেলে দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ছয় মাস ধরে জমা হওয়া দানের কারণেই এবার অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে পাগলা মসজিদ।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, অর্থাৎ ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। তখন ১৩টি দানসিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা উদ্ধার হয়। গণনা শেষে পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

সেই রেকর্ড এবার প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকারও বেশি ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেল।

দানসিন্দুক খোলা ও টাকা গণনার পুরো কার্যক্রমকে ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি।

নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানসিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে বর্তমানে ১০টি স্থায়ী দানসিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংক দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণনা শেষে প্রাপ্ত নগদ অর্থ রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা করা হবে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।

এছাড়া অনলাইনে দান গ্রহণের জন্য www.paglamosque.org ওয়েবসাইট চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নান্দনিক নকশা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজও বাস্তবায়নাধীন।

মসজিদের তহবিল থেকে বর্তমানে ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভরণপোষণের ব্যয় বহন করা হচ্ছে।

এছাড়া ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন-ভাতা, মসজিদের বিদ্যুৎ বিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ব্যয়ও এই তহবিল থেকে নির্বাহ করা হয়।

একই সঙ্গে তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাগলা মসজিদে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দান-সদকা ও মানত নিয়ে আসেন। শুধু মুসলমান নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও গভীর বিশ্বাস ও আস্থা থেকে এখানে দান করে থাকেন।

অনেকের বিশ্বাস, আন্তরিক নিয়তে এখানে দান করলে মহান আল্লাহ তাদের মনের আশা পূরণ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশ-বিদেশের মানুষ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন।

শুধু অর্থ নয়, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, ধান, চাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়মিত দান করা হয়। এসব সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদের তহবিলে জমা দেওয়া হয়।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

মসজিদের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে আধ্যাত্মিক সাধক ‘পাগলা সাহেব’-এর স্মৃতি। তাঁর নাম থেকেই ‘পাগলা মসজিদ’ নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।

কিশোরগঞ্জে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার

কিশোরগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযানে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৪।

রোববার (২৮ জুন) র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-২, র‌্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নিউ টাউন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে সোহেল (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ সদর থানার বাসিন্দা। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানার মামলা নং-৩২(৬)/১৩-এর সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

অন্য এক অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ এবং র‌্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুরের যৌথ আভিযানিক দল শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

র‌্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা মো. আজিজুল (২৪) দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে মোবাইল ফোনে উত্যক্ত করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের স্বজনদের জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী তার ছোট বোনকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আজিজুল ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ২০ জুন ২০২৬ মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৬৬)।

র‌্যাব জানায়, অপহরণের পর অভিযুক্তরা কিশোরীকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে অপহরণ মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কটিয়াদীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যার পর সংঘটিত এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

নিহত শফিকুল ইসলাম দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ গ্রামেই বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে শফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা তাঁকে রাস্তার পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাঁর গোঙানির শব্দ শুনে এগিয়ে যান। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শফিকুল ইসলাম একজন শান্ত-স্বভাবের মানুষ ছিলেন। আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে বিদেশে পাড়ি জমান। দেশে ফিরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরিবার নিয়ে নিজ গ্রামেই বসবাস করছিলেন।

খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর দক্ষিণ ঝিড়ারপাড়সহ আশপাশের এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা গেলে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রামপুরে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রামপুরে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

মাদকমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর গ্রামে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন, মাদকমুক্ত রাষ্ট্র গড়ুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রামপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এশার নামাজের পর রামপুর বাজারের ধানমহল মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রামপুর বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি শাহজাহান আমির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।

সভায় বক্তারা “হয় মাদক ছাড়ো, নয়তো রামপুর গ্রাম ছাড়ো”—এই স্লোগান তুলে ধরে বলেন, রামপুরকে কোনোভাবেই মাদক ও জুয়ার অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য এ গ্রামে কোনো স্থান নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ—এই চারটি সামাজিক অপরাধ আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। তবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “রামপুরবাসী যে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবীদের বিষয়ে তথ্য দিন, পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

আলোচনা সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা, জুয়ার কারণে পারিবারিক অস্থিরতা, ইভটিজিংয়ের ফলে নারীর শিক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব এবং বাল্যবিবাহের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন।

এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পুলিশের লোগোসংবলিত ব্যানারে সিগারেট, ইয়াবা, মাদক ইনজেকশন ও মদের বোতলের প্রতীকী ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে তরুণদের সচেতন করা হয়।

বক্তারা বলেন, “আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

সভা শেষে এলাকাবাসী সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্তগুলো হলো—

  • রামপুর গ্রামকে মাদক ও জুয়ামুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
  • কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীকে এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না।
  • ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
  • সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিষয়ে দ্রুত থানা পুলিশকে অবহিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সভা শেষে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর রামপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে রামপুর মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।