রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রামপুরে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রামপুরে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

মাদকমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর গ্রামে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন, মাদকমুক্ত রাষ্ট্র গড়ুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রামপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এশার নামাজের পর রামপুর বাজারের ধানমহল মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রামপুর বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি শাহজাহান আমির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।

সভায় বক্তারা “হয় মাদক ছাড়ো, নয়তো রামপুর গ্রাম ছাড়ো”—এই স্লোগান তুলে ধরে বলেন, রামপুরকে কোনোভাবেই মাদক ও জুয়ার অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য এ গ্রামে কোনো স্থান নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ—এই চারটি সামাজিক অপরাধ আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। তবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “রামপুরবাসী যে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবীদের বিষয়ে তথ্য দিন, পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

আলোচনা সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা, জুয়ার কারণে পারিবারিক অস্থিরতা, ইভটিজিংয়ের ফলে নারীর শিক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব এবং বাল্যবিবাহের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন।

এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পুলিশের লোগোসংবলিত ব্যানারে সিগারেট, ইয়াবা, মাদক ইনজেকশন ও মদের বোতলের প্রতীকী ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে তরুণদের সচেতন করা হয়।

বক্তারা বলেন, “আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

সভা শেষে এলাকাবাসী সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্তগুলো হলো—

  • রামপুর গ্রামকে মাদক ও জুয়ামুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
  • কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীকে এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না।
  • ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
  • সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিষয়ে দ্রুত থানা পুলিশকে অবহিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সভা শেষে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর রামপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে রামপুর মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।

আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।

শনিবার সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ওই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

হোসেনপুরে বাবার বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
হোসেনপুরে বাবার বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সুবর্ণা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লাখুহাটি গ্রামের রউফ মিয়ার ছেলে মো. মাসুম মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মো. হেলাল মিয়ার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের বিয়ে হয়।

গত কয়েক দিন আগে সুবর্ণা আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থানকালে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সুবর্ণার বাবা মো. হেলাল মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

সারাদেশে সব জেলা পরিষদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
সারাদেশে সব জেলা পরিষদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

দেশের সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় টেকসই জ্বালানি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের গত ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার আলোকে জারি করা ওই চিঠি দেশের সব জেলা পরিষদের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দাপ্তরিক মূল ভবন এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এর মধ্যে জেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম, ডাকবাংলো, হাট-বাজারসহ অন্যান্য ভবন রয়েছে।

প্রতিটি স্থাপনায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অথবা রাজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রাপ্য হবে। এর ফলে জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নির্দেশনায় স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলা পরিষদগুলোকে নিজস্ব রাজস্ব ও এডিপির অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়-এমন জেলা পরিষদগুলো বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন গাইডলাইন অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এ ছাড়া সৌর প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছরের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে জেলা পরিষদগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।