কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কথিত মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচার প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কটিয়াদী পৌরসভার দড়ি চরিয়াকোনা কদমতলী এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভার আগে দলীয় নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম পল্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরীফ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর ইসলাম রিপন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম সবুতি, জয়নাল আবেদিন, দলু মিয়া, রাজিব শিকদার, সাইফুল ইসলাম, জনি মিয়া, এইচ. রনি, হারুন অর রশিদ, তাইজুল ইসলাম ও সজল বর্মনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবাদ সভায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোলাম ফারুক চাষী ও মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার করছে। এর মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, মিথ্যা তথ্য প্রচার কিংবা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কথিত মাদকবিরোধী কমিটির ব্যানার ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশরাফুল হক দাদন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বিএনপি সবসময় আন্তরিক। তবে মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে গঠিত মাদকবিরোধী কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো আওয়ামী লীগের দোসর, মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ীর ওই কমিটিতে স্থান হবে না। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।
সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array