রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

অবৈধ গ্যাস সংযোগের চেষ্টায় পাইপলাইনে ছিদ্র, মেরামতের পর স্বাভাবিক সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অবৈধ গ্যাস সংযোগের চেষ্টায় পাইপলাইনে ছিদ্র, মেরামতের পর স্বাভাবিক সরবরাহ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের হাই-প্রেশার সঞ্চালন পাইপলাইনের ছিদ্র সফলভাবে মেরামত করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। প্রায় দুই মাস ধরে চলা গ্যাস লিকেজের অবসান ঘটিয়ে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাইপলাইনের ছিদ্র স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে কিশোরগঞ্জ শহরসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির জোনাল বিক্রয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পাইপলাইনের ছিদ্র সফলভাবে মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই মাস আগে কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের পানির নিচ থেকে গ্যাসের বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। প্রথমদিকে গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। শেষ দুই সপ্তাহে উচ্চচাপের কারণে পানির ওপর ফোয়ারার মতো গ্যাস বের হতে থাকে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

পাইপলাইন মেরামতের সময় কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ এলাকায় চুলায় গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় দেড় ইঞ্চি আকারের একটি ছিদ্র করা হয়েছিল। তবে উচ্চচাপের কারণে সেখানে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে প্রকৌশলীরা তিন স্তরের পাইলিংয়ের মাধ্যমে পাইপলাইনের চারপাশের পানি সরিয়ে ওয়েল্ডিং করে স্থায়ীভাবে ছিদ্রটি বন্ধ করেন।

তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার আঞ্চলিক অপারেশন (ভালুকা) ব্যবস্থাপক মো. শামীম হোসেন বলেন, “কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সফলভাবে ছিদ্রটি বন্ধ করা গেছে। এখন পাইপলাইনের নিরাপত্তা আরও জোরদারে উন্নতমানের সুরক্ষা টেপ ব্যবহার করা হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক হিসাবে ছিদ্র থাকার কারণে শেষ কয়েক দিনে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার গ্যাস অপচয় হয়েছে।

তবে মেরামতকাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ছিদ্রটি এক ইঞ্চিরও বেশি ছিল এবং গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি থাকায় শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার গ্যাস অপচয় হয়েছে। তাঁদের ধারণা, সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হয়ে থাকতে পারে। তবে এ হিসাব তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এ ঘটনায় গত ৪ আগস্ট কটিয়াদী মডেল থানায় বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ অনুযায়ী মামলা করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

মামলায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার একটি চুনাপাথর কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি জমির মালিক সুমন মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর ৫ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে কাজীরচর এলাকার দুই জমির মালিক সুলতান উদ্দিন আকন্দ ও সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কাজীরচর গ্রামের মৃত আসাদুজ্জামানের ছেলে সুলতান উদ্দিন আকন্দ এবং একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে সুমন মিয়া। মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন তালুকদারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত ৩ আগস্ট কটিয়াদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক অপারেশন বিভাগ, প্রশাসন ও লিগ্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় অবৈধ চুনাপাথরের কারখানাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

কারখানা থেকে জব্দ করা ৭ হাজার ৮০০ ঘনফুট চুনাপাথর মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

সরকারের একাধিক সংস্থার তদন্তে পাইপলাইনে অবৈধ গ্যাস সংযোগের চেষ্টাকেই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম আলোচনায় এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

এসএসসি ও সমমানের ফল আগামীকাল; ফল জানবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
এসএসসি ও সমমানের ফল আগামীকাল; ফল জানবেন যেভাবে

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। সারা দেশে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।

শনিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল এবং তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের রেওয়াজ রয়েছে। সেই হিসাবে এর আগে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার জন্য ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিল পরীক্ষার জন্য ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার জন্য ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে।

ফল জানবেন যেভাবেঃ

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনে সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়েও পরীক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবে।

এসএমএসে ফল জানতে যেকোনো মুঠোফোন অপারেটরের সিম ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে SSC লিখে স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আবার স্পেস দিয়ে YEAR লিখতে হবে। এরপর সেটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের ফরম্যাট হবে-

SSC DHA ROLL YEAR

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে লিখতে হবে-

SSC MAD ROLL YEAR

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফরম্যাট হবে-

SSC TEC ROLL YEAR

তিন ক্ষেত্রেই এসএমএস পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে।

ফল প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকেও পরীক্ষার্থীরা ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন সিআইডির

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন সিআইডির

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ মামলায় পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ডন জামিনে মুক্ত হলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

পরে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), ভগ্নিপতি কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সালমানের মা তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনরা। পরে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এর আগে গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

পরে ২৪ মে সালমান শাহের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেন আদালত। এর পর বাদীপক্ষ মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৮৭৩

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৮৭৩

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৮ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭৩ জনে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে ৯৮৮ রোগী। এ সময়ে ৯৩৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৪২ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গযুক্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে উপসর্গযুক্ত রোগীদের শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা এবং রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41