চাঁদা না দেওয়ায় এক মাস ধরে বন্ধ মাদরাসা!
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের স্থল হাজীবাড়ি জামে মসজিদের ইমামের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় স্থানীয় এক যুবক মসজিদ ও সংলগ্ন হেফজখানা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক মাস ধরে ইমামশূন্য অবস্থায় মসজিদটিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে চরম বিঘ্ন ঘটছে এবং হেফজখানার ২০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থল গ্রামের আবু ইসলাম সাদ্দাম নামের এক ব্যক্তি মসজিদের ইমাম হাফেজ হাসান আলীর কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তিনি হেফজখানার বৈদ্যুতিক লাইনের মূল সুইচ বন্ধ করে দেন। এতে ভীত হয়ে ইমাম হাসান আলী প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে যান। এর ফলে মসজিদে নামাজ ও হেফজখানার পাঠ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্রটি একসময় পুরো এলাকার শিশুদের কুরআন শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্র ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রুতা ও চাঁদাবাজির কারণে আজ সেটি কার্যত অচল হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সম্প্রতি আমেরিকা প্রবাসী আখতারুজ্জামান জুগলু দেশে এলে তার কাছেও ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাপে পড়ে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই আমেরিকায় ফিরে যান। এই প্রবাসীই মাদ্রাসা ও মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সব আর্থিক খরচ বহন করে আসছিলেন।
ইমাম হাফেজ হাসান আলী মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন,
“গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে ভয়ে ছিলাম, তাই পরদিনই মাদ্রাসা ছেড়ে চলে আসি।”
প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে থাকা আল আমিন জানান, দীর্ঘদিন মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত হেফজখানাটি পুনরায় চালুর দাবি জানান এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন,
“ঘটনাটি আমরা শুনেছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও বিঘ্নিত হতে পারে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array