মাদক পাচারের পথে ভৈরবে আটক দম্পতি, গাঁজা উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২ কেজি গাঁজাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভৈরব সার্কেল কার্যালয়। আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল এলাকার বাসিন্দা মো. ঝন্টু মিয়া (৩৬) এবং তার স্ত্রী আঁখি আক্তার শিউলী (২৮)। ঝন্টু মিয়া ওই এলাকার শানু মিয়ার ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি ভাড়ায় চালিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে আঁখি আক্তার শিউলীর হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে কাপড়ে মোড়ানো এবং স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় প্রায় ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ভৈরবে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে কিশোরগঞ্জে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য একটি সিএনজিতে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা তাদের আটক করেন।
ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, “আটককৃত স্বামী-স্ত্রী দুজনই চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার করে আসছিল।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংগ্রহ, বিক্রি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে মাদক পাচারকারীরা ভৈরবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদক কারবারির সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
তিনি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের ভৈরব থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক পাচার ও কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










