সারাদেশের ৫০৩টি উপজেলার সঙ্গে একযোগে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্প্রচার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্ষুদে খেলোয়াড় ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী, তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল হাসান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসিফুর রহমান নাদিম। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদে খেলোয়াড়, অভিভাবক ও ক্রীড়া সংগঠকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা স্টেডিয়ামে হাজারো শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। বড় পর্দায় এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকেরা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্য চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মূল উদ্দেশ্য। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে সারাদেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।
প্রথম আসরের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট ১০টি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। এবারের আসরের স্লোগান—‘খেলাধুলা পেশা, পরিবারের নিশ্চয়তা’।
তাড়াইল উপজেলাতেও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রতিযোগী বাছাই করে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে আগামী মে-জুন মাসের মধ্যে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
Disqus comments are not configured yet.