রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ভৈরবে বাজারের নাম নিয়ে ফের দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০; পুড়েছে ঘরবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে বাজারের নাম নিয়ে ফের দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০; পুড়েছে ঘরবাড়ি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে প্রায় ৬টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুই পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের কয়েকটি ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এতে অন্তত ১২টি ঘর পুড়ে যাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে স্থানীয় অন্য একটি সূত্রে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা ১৫টি বলে দাবি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী আন্তনগর বিজয় এক্সপ্রেস ভৈরব রেলস্টেশনে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট আটকে থাকে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস কুলিয়ারচর স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে কয়েক হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (ভৈরব সার্কেল) আবু মুছা শেখ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকবরনগর ও মিরারচর পাশাপাশি দুটি গ্রাম। ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক দুটির পাশ দিয়ে চলে গেছে। সড়ক নির্মাণের পর সেখানে একটি বাসস্ট্যান্ড গড়ে ওঠে। ১৯৯১ সাল থেকে বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে বাজার বসতে শুরু করে। দীর্ঘদিন বাজারটি ‘আকবরনগর-মিরারচর বাজার’ নামে পরিচিত ছিল।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি সাইনবোর্ডে শুধু ‘আকবরনগর বাজার’ লেখা হলে এ নিয়ে মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে সাইনবোর্ড ভাঙচুর ও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এরপর থেকে বাজারের নাম নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। তবে ওই ঘটনার তারিখ ও মামলা-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, ওই সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় হত্যা মামলা হয় এবং দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার সকালে ওই হত্যা মামলার আসামিদের একটি অংশ কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে ৩৯ জনকে কারাগারে পাঠান বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। অন্য একটি সূত্রে ৪১ জন আসামির জামিন আবেদন এবং তাঁদের কারাগারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আকবরনগর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি বাজারে মিরারচর গ্রামের দুই বাসিন্দাকে মারধর করেন। পরে মাইকে এ খবর প্রচার করা হলে দুই গ্রামের কয়েক শ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

তবে মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের গ্রামের লোকজনকে আকবরনগরের লোকজন মারধর করার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, আগের সংঘর্ষে তাঁদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে এখনো গৃহহীন। আদালতে মামলার আসামিরা জামিন না পাওয়ার পর মিরারচরের লোকজনের প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

দুই পক্ষই সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে দুই পক্ষই প্রতিপক্ষের ঘরবাড়িতে আগুন দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে অন্তত ১২টি ঘর পুড়ে যায়। অপর একটি স্থানীয় সূত্রের দাবি, আকবরনগর বাজার ও মিরারচর এলাকায় অন্তত ১৫টি দোকান ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে নজরুল (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০), স্বপন (২৮), জাবেদা বেগম (৬০), আক্কেল আলী (৪১), মধু মিয়া (৪৫) ও হেকিম মিয়া (১৬) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের কারণে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ভৈরব রেলস্টেশনে প্রবেশ করে চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী আন্তনগর বিজয় এক্সপ্রেস। দুই মিনিট পর ট্রেনটির ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও রেললাইনের দুই পাশে সংঘর্ষ চলায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেটি আটকে রাখা হয়।

ভৈরব রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার ইউসুফ জানান, বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বিজয় এক্সপ্রেস গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফলে ট্রেনটি ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অনির্ধারিত বিলম্বের মুখে পড়ে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসও কুলিয়ারচর স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সন্ধ্যায় ভৈরব রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বিজয় এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেন ছাড়তে দেরি হবে জানতে পেরে অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন।

চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর যাচ্ছিলেন ব্যাংকার তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সমস্যা পাড়া কিংবা গ্রামের। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে জাতীয় পর্যায়ে। কয়েক দিন পরপর ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারের নাম নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও দুই গ্রামের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। আগের একটি সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত ও উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় বহু ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের পর অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়।

এ ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। রোববার আদালতে মামলার আসামিদের জামিন না হওয়ার পর সেই উত্তেজনাই নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, বাজারের নামকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, বাজারের নাম নিয়ে এমন সংঘর্ষের কারণে ভৈরবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সংঘর্ষের কারণে বারবার সড়ক ও রেলপথে যান চলাচল বন্ধ হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা আর হতে দেওয়া উচিত নয়।

ভৈরব থানার পুলিশ জানিয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি-২০২৬ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, মাসুদা ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত অধ্যবসায় ও চেষ্টা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।

কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্র থেকে জনসাধারণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে পারবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নিলুফা আক্তার রূপা এবং জেলার ১৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি কেন্দ্রটির মাধ্যমে নাগরিকদের কী ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলার নাগরিকদের ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন।

তিনি জানান, নাগরিকরা সরাসরি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, নামজারি ও জমাখারিজ, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি এবং মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রাপ্তির আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।