সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন-পুলিশের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন-পুলিশের মতবিনিময়

কিশোরগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন উপজেলার পুলিশ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট, জেলার উল্লেখযোগ্য সাম্প্রতিক ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আংশিক অবনতির কারণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর আলম হত্যাকাণ্ডসহ জেলার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও হত্যার হুমকির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়ে তাঁরা প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যা এবং রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে তিনি আলোচিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং জেলার সমস্যা সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলায় প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কটিয়াদীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, সাম্য-মানবতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, সাম্য-মানবতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সাম্যবাদী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রেমেরও কবি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার। বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাইমিনুল ইসলাম আরিফ, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর এবং কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ খোকন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিটু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মাইনুল হক মেনু, কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সদস্যরা, উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সহসভাপতি সাজেদুল ইসলাম সেলিম। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবির কবিতা আবৃত্তি এবং তাঁর রচিত গান পরিবেশন করে। এতে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়।

বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবেই পরিচিত নন; তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রেমের কবি। তাঁর সাহিত্য অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে তাঁর কবিতা ও গানে মানবপ্রেম, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সাম্যের বার্তা ফুটে উঠেছে।

বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন বর্তমান প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর রচনা পাঠ ও চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। ‘নজরুল বর্ষ’-এর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম, সংগীত ও জীবনাদর্শের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

তাড়াইলে ‘হয়রানিমূলক মামলা’র অভিযোগ এনসিপির, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ‘হয়রানিমূলক মামলা’র অভিযোগ এনসিপির, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে নাশকতার মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও জুলাই আন্দোলনের কর্মী মো. রুবেল ভূঁইয়াসহ নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ মোড়ে জেলা এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন বলেন, গত ২৯ আগস্ট তাড়াইল থানায় উপজেলা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আকবর হাসান (৪৪) বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এনসিপির নেতাকর্মীসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইকরাম হোসেন বলেন, মামলায় সাচাইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. ওমর খান সানিকে ৪ নম্বর আসামি, তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মবিনকে ১০ নম্বর আসামি এবং এনসিপির তাড়াইল উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুবেল ভূঁইয়াকে ২৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া রাউতি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম পারভেজকে ৩৩ নম্বর এবং বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী আলমকে ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই না করেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে বিএনপির নিজ দলের নেতাকর্মী, এনসিপির নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

ইকরাম হোসেন বলেন, তাড়াইল উপজেলায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি মহল হয়রানি ও নির্যাতন চালাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন—এমন বিএনপির ত্যাগী কর্মী, এনসিপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এনসিপি ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

মামলার ২৮ নম্বর আসামি মো. রুবেল ভূঁইয়া বলেন, মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের জন্য তিনি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল প্রিন্স, জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, তাড়াইল উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সার্জেন্ট মহিউদ্দিন মাসুদ, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আনাস ইব্রাহিমসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চালক-যাত্রী দ্বন্দ্বের জেরে সিএনজি বন্ধ, ভোগান্তিতে কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়ার যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
চালক-যাত্রী দ্বন্দ্বের জেরে সিএনজি বন্ধ, ভোগান্তিতে কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়ার যাত্রীরা

কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া সড়কে যাত্রী ও সিএনজি অটোরিকশাচালকদের দ্বন্দ্বের জেরে গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। সিএনজি না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পেছনের আসনে বসাকে কেন্দ্র করে এক নারী যাত্রীর সঙ্গে চালকের কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর ওই নারীর স্বামী ও পাকুন্দিয়া বাজার বণিক সমিতির সদস্যসচিব মো. আব্দুল হাকিম স্ট্যান্ডে এসে চালকের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চান।

এ সময় কয়েকজন সিএনজি চালক মিলে আব্দুল হাকিমকে মারধর করেন এবং তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সিএনজি চালকেরা স্ট্যান্ড থেকে তাঁদের অটোরিকশা নিয়ে সরে যান। এরপর থেকেই কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া সড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। এ সময় পেছনের সিটে বসা নিয়ে চালকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চালক আমার স্ত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। খবর পেয়ে আমি স্ট্যান্ডে এসে এর প্রতিবাদ করলে কয়েকজন সিএনজি চালক মিলে আমার ওপর হামলা করেন এবং আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমার স্বজনেরা ছুটে এলে চালকেরা সেখান থেকে চলে যান।’

পাকুন্দিয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার সিরিয়াল মাস্টার মো. জীবন মিয়া ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি স্ট্যান্ডে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি শুনেছেন, কিশোরগঞ্জের কয়েকজন চালক মিলে পাকুন্দিয়ার এক যাত্রীকে মারধর করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ ও পাকুন্দিয়ার চালকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। একাধিক যাত্রী জানান, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া অযৌক্তিক। সিএনজি না থাকায় তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

যাত্রীরা দ্রুত কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া সড়কে সিএনজি চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ‘একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার বিকেল থেকে পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়েছে। দ্রুত সিএনজি চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রশাসনের উদ্যোগের পরও সড়কে সিএনজি চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ নিরসনের প্রত্যাশা করছেন।