মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

স্বপ্নের ঘরে ওঠা হলো না জাহাঙ্গীর আলমের, সুদানে শহীদ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:২৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
স্বপ্নের ঘরে ওঠা হলো না জাহাঙ্গীর আলমের, সুদানে শহীদ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের সন্তান জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। গত ৭ নভেম্বর পরিবারের চোখের জল আর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তিনি সুদানে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক খুদে বার্তায় জানায়, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হন। হামলার পরও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলমান রয়েছে এবং পুরো এলাকা এখনো অস্থিতিশীল।

শহীদ জাহাঙ্গীর আলম তারাকান্দি গ্রামের আকন্দ বাড়ির হযরত আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেসওয়েটার পদে কর্মরত ছিলেন (ব্যক্তিগত নম্বর: সিএস-২২০১০৯)। প্রায় ১১ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সেনাবাহিনীতে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন মেজো। তার বড় ভাই মো. মোস্তফা প্রবাসে কর্মরত এবং ছোট ভাই মো. শাহিন মিয়া কৃষিকাজ করেন। স্ত্রী রুবাইয়া আক্তার ও তিন বছরের একমাত্র ছেলে ইরফানকে রেখে শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়েছিলেন তিনি।

অল্প অল্প টাকা জমিয়ে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন ছিল জাহাঙ্গীর আলমের। বাড়ির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। মিশন শেষে দেশে ফিরে অসমাপ্ত কাজ শেষ করে পরিবার নিয়ে নতুন ঘরে ওঠার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানোর মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন আজ অপূর্ণই থেকে গেল। স্বপ্নের পাকা বাড়িটি এখন দাঁড়িয়ে আছে শোক আর কান্নার নীরব সাক্ষী হয়ে।

নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মা বারবার পাকা ঘরে ঢুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, “আমার বাবা আর এই ঘরে আসবে না।” স্ত্রী রুবাইয়া আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “এই ঘর সাজানোর কত স্বপ্ন ছিল। যদি জানতাম এই পোশাক আমার স্বামীকে কেড়ে নেবে, তাহলে কোনো দিনই মিশনে যেতে দিতাম না।” কথা বলতে বলতে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে যান পাকুন্দিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্বজনদের আহাজারি দেখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

শহীদ জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে তারাকান্দি গ্রামসহ পুরো পাকুন্দিয়া উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেলেন। সবাই এক কণ্ঠে শহীদ জাহাঙ্গীর আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদককারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদককারবারি আটক

কিশোরগঞ্জে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ আ. মান্নান (৩৫) নামে এক শীর্ষ মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকায় ফাল্গুনী সিনেমা হলের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত আ. মান্নান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি এলাকায় তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ মাদককারবারি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সোমবার রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। দীর্ঘ নজরদারির পর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আ. মান্নান পালানোর চেষ্টা করলে চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৩৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী এসআই মামুনুর রশিদ জানান, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এবং তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছিলেন। মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ওসি মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা বলেন, “মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জালুয়াপাড়া এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদককারবারি মান্নানকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভৈরবে ৭৫ লিটার দেশীয় মদসহ মাদককারবারি আটক

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ৭৫ লিটার দেশীয় মদসহ মাদককারবারি আটক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭৫ লিটার দেশীয় মদসহ সোরাপ মিয়া (৩২) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের ভৈরব লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, ভৈরব ক্যাম্পের লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সোরাপ মিয়া র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি ইজিবাইক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার হেফাজতে দেশীয় মদ থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইজিবাইকের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৭৫ (পঁচাত্তর) লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইকটিও জব্দ করা হয়েছে।

আটক মাদককারবারির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিকলীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬ অনুষ্ঠিত

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
নিকলীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬ অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন Program on Agricultural and Rural Transformation for Nutrition, Entrepreneurship and Resilience in Bangladesh (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় এ কংগ্রেস আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি বেলা ২টায় শেষ হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাদ্দাম হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। এতে কৃষিবিদরা স্থানীয় কৃষির উন্নয়ন, অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রয়োগ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে গুণগত মান বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী কৃষি উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও তথ্য সংগ্রহ এবং তার সঠিক প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

বর্তমান বোরো মৌসুমে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ফসল কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন উপস্থিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস সামাদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ছালেহা খাতুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক আবীর, দামপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আনোয়ার হোসেন এবং নিকলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ উবাইদুল হক সম্রাটসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।