সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নিখোঁজের ছয় দিন পর ইটনায় কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিখোঁজের ছয় দিন পর ইটনায় কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার একটি চর এলাকা থেকে আরিক মিয়া (১২) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আরিক মিয়া নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের রেজেক মিয়ার ছেলে।

স্বজনরা জানান, গত ১১ মে রাত ১টার দিকে আরিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন এ ঘটনায় খালিয়াজুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা।

স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চর এলাকায় কয়েকজন যুবক ঘাস কাটতে গিয়ে একটি ডোবায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আরিকের বলে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনরা জানান, মরদেহের গলায় একটি ইট এবং কোমরে বালুভর্তি বস্তা বাঁধা ছিল। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

এ বিষয়ে ইটনা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব মিয়া বলেন, “স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চর এলাকা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ভৈরবে গাঁজাসহ দুই মাদক বিক্রেতা আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
ভৈরবে গাঁজাসহ দুই মাদক বিক্রেতা আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় গাঁজাসহ দুই মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর ভৈরব কার্যালয়।

রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশন রোড এলাকার খাজা বাবা দানবাক্সসংলগ্ন একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন আমলাপাড়া এলাকার মৃত কাদির মিয়ার ছেলে মুছা মিয়া (৪৮) এবং একই এলাকার মৃত আল আমিন মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (২৮)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে মুছা মিয়ার হেফাজত থেকে এক কেজি এবং সুজন মিয়ার হেফাজত থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পরে উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ করে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক মুছা মিয়াকে আট মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং সুজন মিয়াকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক।

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, আহত ৪

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, আহত ৪

নেত্রকোনা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়লে এক অজ্ঞাতনামা নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (১৭ মে) সকালে নেত্রকোনার কুরপাড়া সিএনজি স্টেশন থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে মেরেঙ্গা তারেরঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে অটোরিকশাটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়।

দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া আরও চার যাত্রী আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন।

কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. জিয়াউল হক জানান, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নিহত নারীর মরদেহসহ চারজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে আহতরা হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ নিহত নারীর মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আহত যাত্রী মোহাম্মদ ছন্দু মিয়া বলেন, “আমরা সবাই নেত্রকোনা থেকে কিশোরগঞ্জে আসছিলাম। আমি সিএনজিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ দেখি হাসপাতালে আছি। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা বলতে পারছি না।”

এদিকে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কাঠ ব্যবসায়ী হানিফ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
কাঠ ব্যবসায়ী হানিফ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর আনন্দবাজার এলাকায় কাঠ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

শনিবার সকালে ফরিদপুর আনন্দবাজার এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে আনন্দবাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কর্মসূচিস্থলে এসে শেষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা “হানিফ ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “খুনি জাকিরের বিচার চাই”, “হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করো”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নিহত মোহাম্মদ হানিফ এলাকায় একজন পরিচিত ও সৎ কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি এলাকায় গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকেই শোকাহত করেনি, পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সমাবেশে স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহত হানিফের ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “যারা আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।