ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাসের ধাক্কায় আহত অন্তত ২০ যাত্রী
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্তত ছয়টি যানবাহনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ভৈরবের সিলেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস ভৈরব এলাকায় পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এরপর বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় মাঝখানে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, আরও একটি অটোরিকশা, একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসসহ মোট ছয়টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে দিনেশ (৬৫), ঝর্ণা রানী (৫০), টিপু (২২) ও রেজিয়া (৭০) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে ঝর্ণা রানীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর দিগন্ত পরিবহনের বাসচালক পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী মামুন মিয়া বলেন, “দিগন্ত পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একের পর এক যানবাহনে ধাক্কা দেয়। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। দুই বাসের অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন।”
দিগন্ত পরিবহনের যাত্রী নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি মাধবপুর থেকে ঢাকাগামী দিগন্ত বাসে উঠেছিলাম। ভৈরব টোল প্লাজার কাছে এসে বাসটির ব্রেক কাজ করছিল না। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা বাসে ধাক্কা দেয়। আল্লাহর রহমতে প্রাণে বেঁচে গেছি।”
আরেক যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছি। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা বাসে ধাক্কা দেয়। মাঝখানে থাকা সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক গুরুতর আহত হন।”
ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যাটারিচালিত যানবাহনের (স্থানীয়ভাবে পরিচিত) চালক শ্যামল মিয়া বলেন, “আমি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজটে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি বাস সজোরে ধাক্কা দিলে আমার গাড়িতে থাকা তিন যাত্রীসহ আমিও আহত হই।”
ভৈরব হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া একটি সিএনজি, একটি ব্যাটারিচালিত যান এবং দুটি বাস উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দুই বাসের চালকই পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array