মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

কুলিয়ারচর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীতের প্রস্তাব, এলজিআরডিতে ডিও চিঠি

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীতের প্রস্তাব, এলজিআরডিতে ডিও চিঠি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভাকে বর্তমান ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডেমি-অফিসিয়াল (ডিও) চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে পাঠানো ডিও চিঠিতে কুলিয়ারচর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই উন্নয়ন ও জনসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৌরসভাগুলোর প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো সময়ের দাবি।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কুলিয়ারচর পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে এর জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে নাগরিক সেবার চাহিদাও বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু বর্তমান শ্রেণিভুক্তির কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ আর্থিক ও প্রশাসনিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে। ফলে প্রত্যাশিত মানের সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডিও চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিতে অধিক বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে। এর ফলে সড়ক, ড্রেনেজ, সুপেয় পানির সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সড়কবাতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া পৌর প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা চালুর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পৌরবাসী আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম তার প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, কুলিয়ারচর ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামো ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তাই বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় কুলিয়ারচর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়। পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ও উন্নত প্রশাসনিক কাঠামো থাকলে একটি পৌরসভা পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে।

ডিও চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতি কুলিয়ারচর পৌরসভার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে, নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে কুলিয়ারচর আরও আধুনিক পৌরসভায় পরিণত হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার সরকারি নীতির আলোকে কুলিয়ারচর পৌরসভার এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হতে পারে। এখন স্থানীয় সরকার বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পৌরবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।

চিরকুটে প্রেমিকা ও পরিবারের নাম, তাড়াইলে যুবকের আত্মহত্যা ঘিরে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
চিরকুটে প্রেমিকা ও পরিবারের নাম, তাড়াইলে যুবকের আত্মহত্যা ঘিরে চাঞ্চল্য

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে তানিম নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই চিরকুটে মারজানা ইসলাম আনিকা ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তানিমের পরিবার।

মামলার নথি ও পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের নন্দীপুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে তানিম পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আয়ে চলত পরিবারের সংসার।

তানিমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দড়িজাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত ওয়াজ উদ্দিনের মেয়ে মারজানা ইসলাম আনিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আনিকা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে তানিমের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেন। পরে বিয়ের বিষয়ে টালবাহানা শুরু হলে তানিম ওই টাকা ফেরত চান। তবে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তানিম ও আনিকার পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তানিম থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। অভিযোগ করার পর তাঁকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, এসব ঘটনায় তানিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে যান। সেখানে মারজানা ইসলাম আনিকা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষপানের পর তানিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির নম্বর ৩০৭; তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৬।

এ ঘটনায় তানিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মারজানা ইসলাম আনিকা (২০), আছেমা (৪৫), শ্রাবণ (২৫), দিপু আক্তার (২৬), আবু বকর (৫০), সুমী আক্তার (৪৭) ও সুচনা (২২)-এর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০৬, ৪০৬, ৪২০, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়। ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৩১৭।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।

মামলার সাক্ষী ও তানিমের ভগ্নিপতি সিএনজি চালক সজল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “মামলা করার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে।” তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তানিমের পরিবার। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে তাঁর মা ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। তাঁর দাবি, ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।

অভিযুক্ত মারজানা ইসলাম আনিকাসহ অন্য আসামিদের বক্তব্য জানতে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে চিরকুটে উত্থাপিত অভিযোগ, টাকা লেনদেন, হুমকি এবং মামলা-সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে চিরকুটের বক্তব্য, টাকা লেনদেন, হুমকি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

হোসেনপুরে দায়িত্ব নিয়েই ইউএনওর মতবিনিময়, মাদকবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে দায়িত্ব নিয়েই ইউএনওর মতবিনিময়, মাদকবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুনের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও রেকসোনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে কৃষিকার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন বলেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জুলাইযোদ্ধা ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অসহায় ও নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসিম সবুজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, এ আই খান শিবলু, শফিকুল ইসলাম কাঞ্চন, আবু বকর ছিদ্দিক বাক্কার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাফায়াত হোসেন সম্রাট, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু নাঈম, পৌর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক ও সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিন।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হোসেনপুরের সার্বিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মতবিনিময় সভায় ইউএনও রেকসোনা খাতুন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে মোট ৫২টি চায়না দুয়ারি/রিং জাল ও ৬টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা এসব নিষিদ্ধ জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও হাওরে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া। বাট্টা হাওর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

অভিযানে ৫২টি চায়না দুয়ারি/রিং জাল জব্দ করা হয়। এসব জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৬টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে অভিযানে ১ হাজার ৪৫০ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার শুধু মাছের জন্যই নয়, জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্যও ক্ষতিকর। এসব জালে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে আটকা পড়ে। ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাবে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য স্থানীয় জেলে, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং আইন মেনে মাছ ধরার প্রবণতা তৈরি করা জরুরি। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পেলে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়।

অভিযানে জব্দ করা জালগুলো পরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ সময় উপস্থিত জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর দিক এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

পাশাপাশি ইলেকট্রোফিশিং বন্ধ এবং অবৈধ বাঁধ ও অন্যান্য স্থায়ী স্থাপনা অপসারণের বিষয়েও স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়।

কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন, ‘উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জাল, ইলেকট্রোফিশিংসহ মাছ ধরার অবৈধ পদ্ধতির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’