কুলিয়ারচর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীতের প্রস্তাব, এলজিআরডিতে ডিও চিঠি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভাকে বর্তমান ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডেমি-অফিসিয়াল (ডিও) চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে পাঠানো ডিও চিঠিতে কুলিয়ারচর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই উন্নয়ন ও জনসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৌরসভাগুলোর প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো সময়ের দাবি।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কুলিয়ারচর পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে এর জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে নাগরিক সেবার চাহিদাও বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু বর্তমান শ্রেণিভুক্তির কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ আর্থিক ও প্রশাসনিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে। ফলে প্রত্যাশিত মানের সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ডিও চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিতে অধিক বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে। এর ফলে সড়ক, ড্রেনেজ, সুপেয় পানির সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সড়কবাতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া পৌর প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা চালুর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পৌরবাসী আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম তার প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, কুলিয়ারচর ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামো ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তাই বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় কুলিয়ারচর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়। পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ও উন্নত প্রশাসনিক কাঠামো থাকলে একটি পৌরসভা পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে।
ডিও চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতি কুলিয়ারচর পৌরসভার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে, নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে কুলিয়ারচর আরও আধুনিক পৌরসভায় পরিণত হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার সরকারি নীতির আলোকে কুলিয়ারচর পৌরসভার এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হতে পারে। এখন স্থানীয় সরকার বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পৌরবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array