বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ–৫; প্রার্থীদের লক্ষ্য আওয়ামী ও সংখ্যালঘু ভোটভান্ডার

ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

(বাঁ থেকে) ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ১৬৬, কিশোরগঞ্জ–৫ (নিকলী–বাজিতপুর) এলাকায় এবারের নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। হাওরবেষ্টিত এই বিশাল সংসদীয় আসনে ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট তিন লক্ষ তেপ্পান্ন হাজার পাঁচশ ছেষট্টি জন ভোটার রয়েছেন।

এই আসনে একদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন, অন্যদিকে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ ও হাঁস প্রতীকের মধ্যকার এই ভোটযুদ্ধে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে তাদের এই উত্তপ্ত লড়াইয়ের মাঝেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকা অধ্যাপক মো. রমজান আলী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির। হুদা ও ইকবালের ভোটযুদ্ধে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বিভক্তির সুযোগে জামায়াতে ইসলামী কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক সচেতন ভোটার।

হেভিওয়েট এই তিন প্রার্থী দলীয় ও সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোটারদের প্রতি। এই ভোটভান্ডারের সিংহভাগ যিনি নিজের দখলে নিতে পারবেন, তিনিই বিজয়ের চূড়ান্ত সাফল্যে পৌঁছাবেন—এমনটাই মত অনেকের।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে আওয়ামী ভোটারদের কদর বেড়ে যাওয়ায় মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার আতঙ্কে পলাতক থাকা অনেক আওয়ামী নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় নীরব অবস্থানে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাদের ভোট নিজেদের পক্ষে আনতে রাতের গভীরে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোট এখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিচক্ষণ ও প্রবীণ স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।

নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের মতে, এবারের সংসদ নির্বাচন ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ত্রিমুখী এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি বিএনপির চিহ্নিত ঘাঁটি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এই আসনটি নিজেদের দখলে নেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া।

এই পুনরুদ্ধারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন হাঁস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ইকবালের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দলীয় বিশৃঙ্খলা ক্রমেই বাড়তে থাকে। বিষয়টি বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের নজরে এলে দ্রুত দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই উপজেলার ২০ জন প্রভাবশালী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। পাশাপাশি কয়েকজন নেতার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।

এর ফলে স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে নির্বাচনী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাপক সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সচেতন স্থানীয় নেতা ও ভোটার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরপর থেকেই তিনি নিকলী–বাজিতপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, অনেকের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় সহায়তা করেছেন। মানুষের এই ভালোবাসার ফলেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতার ভোটে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে সাবেক বিএনপি নেতা ও হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল নিজেকে স্বতন্ত্র নয়, ‘জনতার প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে যেসব বিএনপি নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং আওয়ামী নেতাদের দ্বারা নির্যাতিত বিএনপি পরিবারের পাশে তিনি সর্বক্ষণ ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া গত ২৫ বছর ধরে বিএনপির হয়ে এই আসনের সব ইউনিয়নে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের দাবী, ভালোবাসা ও চাপেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং জনতার ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাবা সৈয়দ সিরাজুল হুদার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামার কথা জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিকলী–বাজিতপুরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ দল হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে মান-অভিমান থাকতেই পারে, তবে সেগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। ব্যক্তি নয়, দল বড়—দলের চেয়েও দেশ বড়—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবেন এবং তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে  বিএনপির ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর(বিএনপি বিদ্রোহী) হাঁস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা ছাড়াও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন কাসেমী (হাতপাখা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন (হারিকেন) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অলি উল্লাহ (মোমবাতি) রয়েছেন। সবাই নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

প্রথমে গোল হজম, এরপর একচেটিয়া আধিপত্য। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে অ্যান্টনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন লিওনেল মেসিরা।

সেমিফাইনালের প্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই গোল যেন উল্টো আর্জেন্টিনাকে আরও ক্ষুধার্ত করে তোলে। গোল হজমের পর থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে। কার্যত হাফলাইন পেরিয়ে আক্রমণে ওঠার সুযোগই পায়নি ‘থ্রি লায়ন্স’।

৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। সমতায় ফিরেই আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা।

আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল রুদ্ধশ্বাস ও শারীরিক লড়াইয়ে ভরপুর। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

  • প্রথম ১০ মিনিটেই হয় ৭টি ফাউল, যার মধ্যে ৪টিই করে আর্জেন্টিনা।
  • প্রথমার্ধ শেষে মোট ১৯টি ফাউল নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে।
  • মাঝেমধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
  • প্রথমার্ধে উভয় দলই দুটি করে শট নেয়। ইংল্যান্ডের একটি শট লক্ষ্যভেদী ছিল।

প্রথমার্ধ থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর নিখুঁত পাস, বল নিয়ন্ত্রণ ও টার্ন ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ আরও বাড়িয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা।

গোল হজমের পর যেভাবে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করেছে, তা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মানসিক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলেরই প্রমাণ। শেষ পর্যন্ত এনজো ও লাউতারোর দুই গোলেই স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মেসির দল।

মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হন। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন।

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে মিঠামইন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজন। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারীতে কামালপুর বেড়িবাঁধের মেহগনি গাছ কাটার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক কারণ বা অন্য কোনো বিষয় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানে নিম্নমানের ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দোকানে সংরক্ষিত মাংস পরীক্ষা করে তা পচনশীল এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শারফিন কসাইয়ের দোকান থেকে প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জব্দ করা হয়। পরে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা মাংস জনস্বার্থে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা কোনোভাবেই বাজারে ফিরে যেতে না পারে।

অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে অস্বাস্থ্যকর, ভেজাল বা সন্দেহজনক খাদ্য বিক্রির তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দোকানের মাংসের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। অনেক ক্রেতা মাংস থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অভিযানে পঁচা মাংস জব্দ ও ধ্বংস করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার করা মাংস ধ্বংস করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। ভেজাল, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41