রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ–৫; প্রার্থীদের লক্ষ্য আওয়ামী ও সংখ্যালঘু ভোটভান্ডার

ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

(বাঁ থেকে) ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ১৬৬, কিশোরগঞ্জ–৫ (নিকলী–বাজিতপুর) এলাকায় এবারের নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। হাওরবেষ্টিত এই বিশাল সংসদীয় আসনে ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট তিন লক্ষ তেপ্পান্ন হাজার পাঁচশ ছেষট্টি জন ভোটার রয়েছেন।

এই আসনে একদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন, অন্যদিকে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ ও হাঁস প্রতীকের মধ্যকার এই ভোটযুদ্ধে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে তাদের এই উত্তপ্ত লড়াইয়ের মাঝেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকা অধ্যাপক মো. রমজান আলী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির। হুদা ও ইকবালের ভোটযুদ্ধে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বিভক্তির সুযোগে জামায়াতে ইসলামী কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক সচেতন ভোটার।

হেভিওয়েট এই তিন প্রার্থী দলীয় ও সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোটারদের প্রতি। এই ভোটভান্ডারের সিংহভাগ যিনি নিজের দখলে নিতে পারবেন, তিনিই বিজয়ের চূড়ান্ত সাফল্যে পৌঁছাবেন—এমনটাই মত অনেকের।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে আওয়ামী ভোটারদের কদর বেড়ে যাওয়ায় মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার আতঙ্কে পলাতক থাকা অনেক আওয়ামী নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় নীরব অবস্থানে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাদের ভোট নিজেদের পক্ষে আনতে রাতের গভীরে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোট এখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিচক্ষণ ও প্রবীণ স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।

নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের মতে, এবারের সংসদ নির্বাচন ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ত্রিমুখী এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি বিএনপির চিহ্নিত ঘাঁটি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এই আসনটি নিজেদের দখলে নেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া।

এই পুনরুদ্ধারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন হাঁস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ইকবালের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দলীয় বিশৃঙ্খলা ক্রমেই বাড়তে থাকে। বিষয়টি বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের নজরে এলে দ্রুত দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই উপজেলার ২০ জন প্রভাবশালী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। পাশাপাশি কয়েকজন নেতার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।

এর ফলে স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে নির্বাচনী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাপক সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সচেতন স্থানীয় নেতা ও ভোটার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরপর থেকেই তিনি নিকলী–বাজিতপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, অনেকের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় সহায়তা করেছেন। মানুষের এই ভালোবাসার ফলেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতার ভোটে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে সাবেক বিএনপি নেতা ও হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল নিজেকে স্বতন্ত্র নয়, ‘জনতার প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে যেসব বিএনপি নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং আওয়ামী নেতাদের দ্বারা নির্যাতিত বিএনপি পরিবারের পাশে তিনি সর্বক্ষণ ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া গত ২৫ বছর ধরে বিএনপির হয়ে এই আসনের সব ইউনিয়নে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের দাবী, ভালোবাসা ও চাপেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং জনতার ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাবা সৈয়দ সিরাজুল হুদার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামার কথা জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিকলী–বাজিতপুরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ দল হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে মান-অভিমান থাকতেই পারে, তবে সেগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। ব্যক্তি নয়, দল বড়—দলের চেয়েও দেশ বড়—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবেন এবং তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে  বিএনপির ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর(বিএনপি বিদ্রোহী) হাঁস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা ছাড়াও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন কাসেমী (হাতপাখা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন (হারিকেন) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অলি উল্লাহ (মোমবাতি) রয়েছেন। সবাই নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে মাছের পোনা অবমুক্তসহ থাকছে নানা কর্মসূচি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে মাছের পোনা অবমুক্তসহ থাকছে নানা কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরকালে তিনি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত, সফল মৎস্য উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান কার্যক্রমের সূচনা করবেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি তুলে ধরেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে তিনি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। এর মাধ্যমে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

সফরকালে জাতীয় পর্যায়ে মৎস্যসম্পদে বিশেষ অবদানের জন্য নির্বাচিত দেশের ১৪ জন সফল উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হবে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। মৎস্য খাতে উদ্যোক্তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান কার্যক্রমেরও সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, যাতায়াত, অনুষ্ঠানস্থল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সফরকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।

‘ম্যাজিক জালে’ ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, মাছের শরীরে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মৎস্যমন্ত্রী

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
‘ম্যাজিক জালে’ ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, মাছের শরীরে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মৎস্যমন্ত্রী

সারাদেশে মিঠাপানির মাছ সংরক্ষণ ও বংশবিস্তার বাড়াতে মাছের অভয়াশ্রম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণের জন্য আগামীতে দেশের প্রতিটি এলাকায় মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হবে। এসব অভয়াশ্রমে ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে মাছগুলো উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে মাছের বংশবিস্তার বাড়বে এবং মিঠাপানির মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো হবে।

‘ম্যাজিক জাল’ প্রসঙ্গে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ‘ম্যাজিক জাল’ নামে এক ধরনের ক্ষতিকর জালের কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই জালে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। ফলে মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এসব জালের আমদানি বন্ধ করেছে। তবে জনবল সংকটের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে এর ব্যবহার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। কেউ যেন ‘ম্যাজিক জাল’ ব্যবহার করে মাছ ধরতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি এলাকার মানুষ এ জালের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সরকার তাদের পাশে থাকবে।

মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি গবেষণায় কিছু মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক সমস্যা। এমনকি সমুদ্রের মাছের শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জলজ পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাছ ও মাছের আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাছচাষিদের উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা ধরনের প্রকল্প ও সহায়তা দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারাদেশের সেরা মাছচাষি ও খামারিদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক দেখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় ৯ মৃত্যু: তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় ৯ মৃত্যু: তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে আহ্বায়ক এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশাকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন করে প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান, দুর্ঘটনার পেছনে কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতি ছিল কি না, তা উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

অফিস আদেশে কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরের কাশিকাপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে।

দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্টদের কোনো দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে আসবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41