শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ–৫; প্রার্থীদের লক্ষ্য আওয়ামী ও সংখ্যালঘু ভোটভান্ডার

ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

(বাঁ থেকে) ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ১৬৬, কিশোরগঞ্জ–৫ (নিকলী–বাজিতপুর) এলাকায় এবারের নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। হাওরবেষ্টিত এই বিশাল সংসদীয় আসনে ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট তিন লক্ষ তেপ্পান্ন হাজার পাঁচশ ছেষট্টি জন ভোটার রয়েছেন।

এই আসনে একদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন, অন্যদিকে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ ও হাঁস প্রতীকের মধ্যকার এই ভোটযুদ্ধে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে তাদের এই উত্তপ্ত লড়াইয়ের মাঝেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকা অধ্যাপক মো. রমজান আলী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির। হুদা ও ইকবালের ভোটযুদ্ধে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বিভক্তির সুযোগে জামায়াতে ইসলামী কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক সচেতন ভোটার।

হেভিওয়েট এই তিন প্রার্থী দলীয় ও সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোটারদের প্রতি। এই ভোটভান্ডারের সিংহভাগ যিনি নিজের দখলে নিতে পারবেন, তিনিই বিজয়ের চূড়ান্ত সাফল্যে পৌঁছাবেন—এমনটাই মত অনেকের।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে আওয়ামী ভোটারদের কদর বেড়ে যাওয়ায় মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার আতঙ্কে পলাতক থাকা অনেক আওয়ামী নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় নীরব অবস্থানে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাদের ভোট নিজেদের পক্ষে আনতে রাতের গভীরে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোট এখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিচক্ষণ ও প্রবীণ স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।

নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের মতে, এবারের সংসদ নির্বাচন ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ত্রিমুখী এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি বিএনপির চিহ্নিত ঘাঁটি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এই আসনটি নিজেদের দখলে নেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া।

এই পুনরুদ্ধারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন হাঁস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ইকবালের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দলীয় বিশৃঙ্খলা ক্রমেই বাড়তে থাকে। বিষয়টি বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের নজরে এলে দ্রুত দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই উপজেলার ২০ জন প্রভাবশালী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। পাশাপাশি কয়েকজন নেতার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।

এর ফলে স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে নির্বাচনী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাপক সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সচেতন স্থানীয় নেতা ও ভোটার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরপর থেকেই তিনি নিকলী–বাজিতপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, অনেকের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় সহায়তা করেছেন। মানুষের এই ভালোবাসার ফলেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতার ভোটে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে সাবেক বিএনপি নেতা ও হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল নিজেকে স্বতন্ত্র নয়, ‘জনতার প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে যেসব বিএনপি নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং আওয়ামী নেতাদের দ্বারা নির্যাতিত বিএনপি পরিবারের পাশে তিনি সর্বক্ষণ ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া গত ২৫ বছর ধরে বিএনপির হয়ে এই আসনের সব ইউনিয়নে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের দাবী, ভালোবাসা ও চাপেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং জনতার ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাবা সৈয়দ সিরাজুল হুদার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামার কথা জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিকলী–বাজিতপুরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ দল হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে মান-অভিমান থাকতেই পারে, তবে সেগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। ব্যক্তি নয়, দল বড়—দলের চেয়েও দেশ বড়—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবেন এবং তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে  বিএনপির ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর(বিএনপি বিদ্রোহী) হাঁস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা ছাড়াও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন কাসেমী (হাতপাখা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন (হারিকেন) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অলি উল্লাহ (মোমবাতি) রয়েছেন। সবাই নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জাতিসংঘে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের ইতিহাস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ বিতর্কে তিনি প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। সম্পূর্ণ বাংলায় দেওয়া এ ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে একই পরিবারের দুই সদস্য—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া—ভাষণ দিয়েছিলেন। তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে পরিবারটির চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয় গুরুত্ব পায়।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার এবং ন্যায়সংগত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিষয় উঠে আসে।

এরপর ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিলেন তাঁদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একই পরিবারের তিন সদস্যের ভাষণের ধারাবাহিকতা তৈরি হলো।

ভাষণের শুরুতেই পারিবারিক স্মৃতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বিশ্বমঞ্চে তাঁর পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে তিনিও বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘে দাঁড়িয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভাষণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, তিনি সম্পূর্ণ ভাষণ বাংলায় দেন। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার মাতৃভাষায় তুলে ধরেন তিনি।

ভাষণে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পায়। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগণের কাছেও পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের জাতিসংঘ ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পরিবারের এই ধারাবাহিকতা ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে অব্যাহত ছিল। ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের এই ভাষণ একই পরিবারের তৃতীয় সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। সম্পূর্ণ বাংলায় তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণও এ ঘটনাটিকে আলাদা তাৎপর্য দিয়েছে।

নরসিংদীতে সিএনজি-কার্ভাডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
নরসিংদীতে সিএনজি-কার্ভাডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ২

নরসিংদীর পাঁচদোনায় সিএনজি ও কার্ভাডভ্যানের সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পাঁচদোনা-টঙ্গী সড়কের ভাটপাড়া বাজারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের অন্তরামপুর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২) এবং আশুলিয়ার মাতাইল দক্ষিণপাড়ার হারিস মোল্লার ছেলে নুর উদ্দিন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে গাজীপুর থেকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি নরসিংদীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সকাল ৯টার দিকে পাঁচদোনার ভাটপাড়া সড়কে পৌঁছানোর পর ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কার্ভাডভ্যানের পেছনে সিএনজিটির সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির যাত্রী নুর উদ্দিন নিহত হন। গুরুতর আহত সাইদুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নুর উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং সিএনজি চালককে হেফাজতে নেয়।

মাধবদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না

সাবেক ও বর্তমান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাকরি ও সামাজিকতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামীম।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টটি দেওয়ার পর প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় এতে ১৩ হাজার ৫০০ জন লাইক, ২ হাজার ৬০০টি কমেন্ট এবং ১৮৬টি শেয়ার হয়েছে বলে পোস্টের দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া থেকে জানা যায়।

পোস্টে শেখ তানভীর বারী হামীম লেখেন, ‘সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কোনো চাকরি হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের সমাজ হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো সামাজিকতা হবে না। কারণ, ওরা এ দেশের শত্রু।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আনাসের রক্ত, ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আবরার ফাহাদের রক্ত।’ তবে পোস্টে তিনি কোন আনাসকে বোঝাচ্ছেন, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি।

তানভীর বারী হামীমের ভাষ্য, ‘বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগের প্রতি একমাত্র প্রেম থাকবে যারা বিকৃত মনস্তাত্ত্বিকতার অধিকারী তাদের। তবে কোনো দেশপ্রেমিক মেধাবী মানুষ যেন হেনস্তা না হয়।’

পোস্টে তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকেন্দ্র ছাত্রশক্তি ও সাবেক ছাত্রলীগের আশ্রয়স্থল ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বলবো—দেশপ্রেমিকতার পরিচয় দিন, জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।’

অতীতের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, ‘অতীতে, ৭১-এ মাফ পেয়েছেন; জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের অংশ হয়ে দুর্নীতি করেও মাফ পেয়েছেন। এবার কিন্তু আর মাফ হবে না।’