বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৮ ১৪৩২
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৮ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জ–৫; প্রার্থীদের লক্ষ্য আওয়ামী ও সংখ্যালঘু ভোটভান্ডার

ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধানের শীষ ও হাঁসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত ভোটের মাঠ! ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

(বাঁ থেকে) ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ১৬৬, কিশোরগঞ্জ–৫ (নিকলী–বাজিতপুর) এলাকায় এবারের নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। হাওরবেষ্টিত এই বিশাল সংসদীয় আসনে ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট তিন লক্ষ তেপ্পান্ন হাজার পাঁচশ ছেষট্টি জন ভোটার রয়েছেন।

এই আসনে একদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন, অন্যদিকে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ ও হাঁস প্রতীকের মধ্যকার এই ভোটযুদ্ধে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে তাদের এই উত্তপ্ত লড়াইয়ের মাঝেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ঠান্ডা মাথায় এগোচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকা অধ্যাপক মো. রমজান আলী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির। হুদা ও ইকবালের ভোটযুদ্ধে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বিভক্তির সুযোগে জামায়াতে ইসলামী কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক সচেতন ভোটার।

হেভিওয়েট এই তিন প্রার্থী দলীয় ও সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোটারদের প্রতি। এই ভোটভান্ডারের সিংহভাগ যিনি নিজের দখলে নিতে পারবেন, তিনিই বিজয়ের চূড়ান্ত সাফল্যে পৌঁছাবেন—এমনটাই মত অনেকের।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে আওয়ামী ভোটারদের কদর বেড়ে যাওয়ায় মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার আতঙ্কে পলাতক থাকা অনেক আওয়ামী নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় নীরব অবস্থানে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাদের ভোট নিজেদের পক্ষে আনতে রাতের গভীরে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোট এখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিচক্ষণ ও প্রবীণ স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।

নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের মতে, এবারের সংসদ নির্বাচন ধানের শীষ, হাঁস ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ত্রিমুখী এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি বিএনপির চিহ্নিত ঘাঁটি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এই আসনটি নিজেদের দখলে নেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া।

এই পুনরুদ্ধারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন হাঁস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ইকবালের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দলীয় বিশৃঙ্খলা ক্রমেই বাড়তে থাকে। বিষয়টি বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের নজরে এলে দ্রুত দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই উপজেলার ২০ জন প্রভাবশালী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। পাশাপাশি কয়েকজন নেতার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।

এর ফলে স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে নির্বাচনী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাপক সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সচেতন স্থানীয় নেতা ও ভোটার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরপর থেকেই তিনি নিকলী–বাজিতপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, অনেকের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় সহায়তা করেছেন। মানুষের এই ভালোবাসার ফলেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতার ভোটে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে সাবেক বিএনপি নেতা ও হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল নিজেকে স্বতন্ত্র নয়, ‘জনতার প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে যেসব বিএনপি নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং আওয়ামী নেতাদের দ্বারা নির্যাতিত বিএনপি পরিবারের পাশে তিনি সর্বক্ষণ ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া গত ২৫ বছর ধরে বিএনপির হয়ে এই আসনের সব ইউনিয়নে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের দাবী, ভালোবাসা ও চাপেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং জনতার ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাবা সৈয়দ সিরাজুল হুদার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামার কথা জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিকলী–বাজিতপুরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ দল হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে মান-অভিমান থাকতেই পারে, তবে সেগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। ব্যক্তি নয়, দল বড়—দলের চেয়েও দেশ বড়—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবেন এবং তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে  বিএনপির ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর(বিএনপি বিদ্রোহী) হাঁস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা ছাড়াও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন কাসেমী (হাতপাখা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন (হারিকেন) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অলি উল্লাহ (মোমবাতি) রয়েছেন। সবাই নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ধানক্ষেতে উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যাশিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ধানক্ষেতে উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যাশিশু

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে সদ্যোজাত এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের খৈরাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মহাসড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান এক পথচারী। পরে বিষয়টি স্থানীয় অটোচালক হালিম মিয়াকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে নতুন কাপড় পরিয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উদ্ধারকালে শিশুটির শরীরে রক্তের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, শিশুটিকে জন্মের তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

অটোচালক হালিম মিয়া জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিশুটিকে ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মানবিক কারণে তিনি শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে পরিচর্যা করেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান হাসপাতালে গিয়ে নবজাতকের খোঁজখবর নেন। তিনি শিশুটির চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে কটিয়াদীর সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে কটিয়াদীর সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলাজালালপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫৩৯টি কার্ডধারী দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

এ উপলক্ষে জালালপুর ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ৪৫ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা কটিয়াদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম রবিন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র পাল, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাইনুল হক মেনু, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হক, প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মতিন আসাদ, ইউপি সদস্য মো. দিদারুল ইসলাম, মো. শাহাদাৎ হোসেন, মো. খোকন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মনোয়ারা বেগমসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫৩৯টি কার্ডধারী দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথম দিনে ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে।

উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নাগরিক ও সাংবাদিক মনে করছেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে এমন উদ্যোগের মাধ্যমে।

সম্প্রতি এক লাইভ উপস্থাপনায় তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং সেই অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দেন।

এই উপস্থাপনা দেখে অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন স্বচ্ছ ও তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা খুব কমই দেখা যায়। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি নিজেই তার এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ে এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী হয়।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক মারুফ আহমেদ তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহর পুরো প্রেজেন্টেশনটি আমি মনোযোগ দিয়ে একাধিকবার দেখেছি। নিজের নির্বাচনী এলাকার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়ে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেখে আমিও অনেক কিছু নতুন করে জানতে পেরেছি। এতে নিজের সংসদীয় এলাকা নিয়েও একইভাবে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থ কোথা থেকে আসে, কীভাবে ব্যয় হয় এবং সেই কাজের অগ্রগতি কী—এসব তথ্য জানা সাধারণ ভোটারদের অধিকার। একজন জনপ্রতিনিধি যখন স্বেচ্ছায় এসব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তখন তা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা দাবি-দাওয়া থাকলেও সেগুলোর বিস্তারিত আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থাপন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা বা বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না।

এই প্রেক্ষাপটে হাসনাত আব্দুল্লাহর তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনাকে অনেকেই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি তার এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে তা অন্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রে জনগণ শুধু ভোটার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক। তাই জনগণের অর্থ দিয়ে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব জনগণের কাছে তুলে ধরা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, যদি দেশের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য এভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন, তাহলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তাদের ভাষায়, “হাসনাত আব্দুল্লাহ হয়তো একটি নতুন ধারা শুরু করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও যদি একইভাবে জনগণের সামনে তাদের কাজের হিসাব তুলে ধরেন, তাহলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের সূচনা ঘটতে পারে।”