সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের গাড়ির প্রচারণা

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের গাড়ির প্রচারণা

“দেশের চাবি আপনার হাতে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলাতেও ভোটের গাড়ির মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর বাসস্ট্যান্ড প্রাঙ্গণে এ প্রচারণা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ আলোকচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটাধিকার, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

প্রদর্শিত আলোকচিত্র ও বার্তাগুলোতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ আগ্রহভরে প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোটাধিকার সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করেন।

অনুষ্ঠান পরিদর্শন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নূরুন্নবী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং রামদী ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবা সিদ্দিকী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি সেচ) শাওন মালাকার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মামুন মিয়াসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ও ইউপি সদস্যগণ। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রচারণার কার্যকারিতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তাই ভোটারদের সচেতন করা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ভোটের গাড়ির মাধ্যমে এ ধরনের প্রচারণা মানুষের দোরগোড়ায় নির্বাচন সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এটি সহায়ক।

উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারাও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।

প্রচারণায় অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে নতুন তথ্য জানতে পারছেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটের গাড়ির মাধ্যমে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।

স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এই উদ্যোগ নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে তিন লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করে, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২২ জুন) দুপুরে অভিযান শেষে বিকেল ৩টার দিকে মিঠামইন থানার ঘাট এলাকায় জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য প্রজনন মৌসুমে হাওরে মাছের উৎপাদন বাড়ানো ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার রোধে মিঠামইন উপজেলার ছোটদিঘা বিল, দেওদাইর, রাফায়েল বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে, উপজেলার সদরে থানার ঘাটে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এসময় কোন জেলেকে পাওয়া যায়নি। অভিযানকালে, মিঠামইন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

এই বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে জন্য চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালসহ নিষিদ্ধ সকল জাল জব্দ, বন্ধকরণ, অবৈধ বাঁধ ও অন্যান্য স্থায়ী স্থাপনা অপসারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

তাড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পথচারীরা।

সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তাড়াইল সদর ইউনিয়নের বরুহা সেতুর নিচ দিয়ে ভেসে যাওয়া শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। পরে স্রোতের পানিতে ভেসে থাকা মরদেহটি ডিঙি নৌকার সাহায্যে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হলে শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

নিহত শিশুর নাম তরিকুল ইসলাম (৫)। সে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পংপাচিহা (জালদরপাড়া) গ্রামের ওমর ফারুক মিয়ার ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহিদুন নবী দেওয়ান শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত সরারচর ডাকবাংলো, আবাসন সংকটে ভোগান্তি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত সরারচর ডাকবাংলো, আবাসন সংকটে ভোগান্তি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরারচর ডাকবাংলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের অতিথি এবং সাধারণ যাত্রীদের আবাসন-সংকটে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনাটি এখন ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত ডাকবাংলোটির অবকাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ক্ষয় এবং জীর্ণতা দেখা দেওয়ায় এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে অবস্থান কিংবা কোনো ধরনের সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, স্বাধীনতারও আগে প্রতিষ্ঠিত সরারচর ডাকবাংলো একসময় এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিশ্রামাগার হিসেবে পরিচিত ছিল। তিন কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভ্রমণকারী এবং সাধারণ যাত্রীরা রাতযাপনের সুযোগ পেতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি আজ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বাজিতপুর উপজেলা সদর থেকে সরারচরের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। ফলে রাতে ট্রেনে আগত যাত্রী কিংবা সরকারি কাজে আসা কর্মকর্তাদের জন্য এ এলাকায় নিরাপদ আবাসনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো ডাকবাংলোটি সংস্কার অথবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি গেদু মিয়া ডাকবাংলো নির্মাণের জন্য নিজের জমি থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ দান করেছিলেন। তাঁর দেওয়া জমির ওপরই পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে ডাকবাংলোটি নির্মিত হয়। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খুশিদ উদ্দিন আহমদ খান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং পরে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনায়েম খানের উদ্যোগে তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়দের দাবি, জমিদাতা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ডাকবাংলোর দেখভালের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এটি এখন পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, পুরোনো ভবনটি অপসারণ করে আধুনিক নকশায় বহুতল বা অন্তত দ্বিতল ডাকবাংলো নির্মাণ করা হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের আবাসন-সুবিধা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সরারচর এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন, “সরারচর ডাকবাংলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সরারচর ডাকবাংলো দ্রুত সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণ করা হবে, যাতে এটি আবারও জনসাধারণ ও সরকারি কাজে ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।