সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

করিমগঞ্জে জনসমুদ্রে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ড. এম ওসমান ফারুক

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জে জনসমুদ্রে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ড. এম ওসমান ফারুক

করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম ওসমান ফারুক উপস্থিত জনতার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে করিমগঞ্জে অনুষ্ঠিত এ মহাসমাবেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলালের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম (ভিপি সুমন), জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আশরাফ হোসেন পাভেল ও সাধারণ সম্পাদক হারুন সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ড. এম ওসমান ফারুক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

সংগ্রহীত ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকাসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে সোমবার এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাসদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নজরদারি, টহল ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। পুরো ঢাকাকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সংগ্রহীত ছবি

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা প্রদান, আটক শ্রমিকদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন এবং স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, দুই দেশই এমন একটি শ্রমিক নিয়োগব্যবস্থার পক্ষে একমত হয়েছে, যা হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী এবং যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে শ্রমিকদের আর্থিক চাপ হ্রাস করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতেই দুই দেশের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং উভয় দেশ যৌথ সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ঢাকা কৃতজ্ঞ।

এছাড়া বাংলাদেশ আসিয়ানের (ASEAN) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (RCEP)-এ যোগদানের আকাঙ্ক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি পৃথক দলিলও বিনিময় করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর আনোয়ার ইব্রাহিমের শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ পাওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। তিনি স্মরণ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

শেষে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মাত্র ৫ হাজার টাকার দ্বন্দ্বে করিমগঞ্জে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ হাজার টাকার দ্বন্দ্বে করিমগঞ্জে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে রাসেল (নাম পরিবর্তন করা হয়নি) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রাসেল উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো ব্যাটারি সরবরাহের কথা বলে একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমানের কাছ থেকে রাসেল ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ব্যাটারি সরবরাহ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালের বাড়ির মোড় এলাকা থেকে মামুনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল রাসেলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নিহতের মা শিল্পী আক্তার অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জানা গেছে, নিহত রাসেল একটি পারিবারিক আদালতের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।

করিমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।