বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ধানের শীষের শেষ নির্বাচনী জনসভায় জনসমুদ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ধানের শীষের শেষ নির্বাচনী জনসভায় জনসমুদ্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল নেমেছে। জনসভা শুরুর অনেক আগেই সভাস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

সোমবার বিকেল ৩টা থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ কটিয়াদী সরকারি কলেজের খেলার মাঠে এসে জড়ো হতে থাকেন। ধানের শীষের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কটিয়াদী বাজার ও আশপাশের এলাকা। অনেকেই জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন।

বিকেলে অনুষ্ঠিত জনসভায় কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “আজ আমাদের দেশ দুটি ধারায় বিভক্ত। একদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি, অন্যদিকে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী একটি শক্তি, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ায় কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানকার মানুষ এখনো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন করে শুরু করা হবে—ইনশাআল্লাহ।”

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একটি দল ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা–বোনদের বিভ্রান্ত করছে। এ এলাকার জনগণ ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।”

তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সবাইকে সকালেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন আকিল, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুজ্জামান কাকন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলামসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। বিশাল উপস্থিতিতে জনসভাস্থল ও আশপাশের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বুধবার(২২ জুলাই) কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাছরিফুল হাছিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। চিকিৎসার অভাবে যাতে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা সহায়তা ও বিশেষ অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। সেই কষ্ট লাঘব করতেই সরকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।

বক্তারা বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সুফল ইতোমধ্যে লাখো মানুষ পাচ্ছেন। চিকিৎসা সহায়তার এ বিশেষ অনুদান কর্মসূচিও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আটজন অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। উপকারভোগীরা সরকারের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উপকারভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে মাকাল ফল, নতুন প্রজন্মের কাছে এখন অচেনা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে মাকাল ফল, নতুন প্রজন্মের কাছে এখন অচেনা

“গুরুমশায় বলেন তারে- বুদ্ধি যে নেই একেবারে, দ্বিতীয় ভাগ করতে সারা ছয় মাস ধরে নাকাল। রেগেমেগে বলেন, ‘বাঁদর, নাম দিনু তোর মাকাল।’” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিশুতোষ কবিতা ‘মাকাল’-এ এভাবেই ফলটির নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে যে ফলটি একসময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে পরিচিত ছিল, আজ সেটিই নতুন প্রজন্মের কাছে প্রায় অচেনা।

উদ্ভিদবিদদের তথ্যমতে, মাকালের প্রাচীন নাম ছিল ‘মহাকাল’। সময়ের ব্যবধানে নামটি পরিবর্তিত হয়ে ‘মাকাল’ রূপে প্রচলিত হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Trichosanthes tricuspidata

টকটকে লাল রঙের মাকাল ফল দেখতে অনেকটা ছোট আপেলের মতো হলেও এর ভেতরের অংশ তিতা এবং কালচে বর্ণের। কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক স্থানে একে ‘কাওয়াকাঁদি’ নামেও ডাকা হয়। অতীতে এ ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ থেকে তৈরি প্রাকৃতিক বিষ কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে পরিবেশগত পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস এবং রাসায়নিক কীটনাশকের বিস্তারের কারণে মাকাল গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

মাকাল একটি বহুবর্ষজীবী লতাজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত বন-জঙ্গল কিংবা বড় গাছকে আশ্রয় করে এটি ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পাতার কক্ষে সাদা ফুল ফোটে এবং বর্ষা মৌসুমে ফুল ও ফল ধারণ করে। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং গাঢ় সবুজ, পরবর্তীতে হলুদ এবং সম্পূর্ণ পাকলে উজ্জ্বল লাল হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমী মো. নবী হোসেন বলেন, মাকাল শুধু একটি ফল নয়; এটি একটি মূল্যবান ভেষজ উদ্ভিদ। এর শিকড় কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কফ, শ্বাসকষ্ট, নাক ও কানের ক্ষত, জন্ডিস, শরীরে পানি জমা, স্তনের প্রদাহ, প্রস্রাবজনিত সমস্যা, বাতব্যথা, কাশি এবং শিশুদের অ্যাজমাসহ নানা রোগের লোকজ চিকিৎসায় মাকালের বিভিন্ন অংশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তিনি আরও জানান, মাকালের বীজ থেকে প্রাপ্ত তেল সাপ ও বিছার কামড়, আমাশয়, ডায়রিয়া, মৃগীরোগসহ বিভিন্ন সমস্যার লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। একই সঙ্গে সাবান উৎপাদন এবং চুলের পরিচর্যাতেও এ তেলের ব্যবহার রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাকাল ফলের বীজ ও আঁশ শুকিয়ে গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে তৈরি দ্রবণ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর অঞ্চলের কৃষকেরা একসময় ফসলের পোকামাকড় ও ইঁদুর দমনে মাকালের বিষ ব্যবহার করতেন। এটি ফসলের জন্য তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব বলে পরিচিত ছিল।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন বনাঞ্চল ও পরিত্যক্ত স্থানে একসময় মাকাল গাছ প্রচুর দেখা যেত। তবে গত এক যুগে এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, আগের তুলনায় বর্তমানে এর উপস্থিতি প্রায় দশ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ অধ্যাপক এবিএম ছিদ্দিক চঞ্চল বলেন, “অবাধ বন উজাড়, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে মাকাল গাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় কৃষকেরা প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে মাকালের বিষ ব্যবহার করলেও এখন বাজারে এর চাহিদা প্রায় নেই। দেশীয় এ মূল্যবান উদ্ভিদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

পরিবেশবিদদের মতে, দেশীয় বিরল উদ্ভিদ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল বইয়ের পাতাতেই মাকাল ফলের নাম খুঁজে পাবে।

হোসেনপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশনা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
হোসেনপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশনা

মঙ্গলবার সকালে হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা।

সভার শুরুতে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার বিদ্যমান সমস্যা, অপরাধপ্রবণতা এবং সেগুলোর প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

আলোচনায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ছাড়া চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নৈশকালীন পুলিশি টহল জোরদার, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাজার এলাকায় যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।”

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “হোসেনপুরকে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল হক রাজন, কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম মাজহার, যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসিম সবুজ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আমিনুল ইসলাম, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41