বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্যাসের চাপ বাড়ায় শিল্পকারখানায় ফিরছে উৎপাদনের গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গ্যাসের চাপ বাড়ায় শিল্পকারখানায় ফিরছে উৎপাদনের গতি

শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ বাড়ায় দেশে উৎপাদন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গ্যাসনির্ভর অনেক কারখানা ইতোমধ্যে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে। গত মাসে যেসব কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত ছিল, সেগুলোরও অনেকগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান। এরপর থেকেই শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ বাড়তে শুরু করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। এক মাস আগে এই সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৩০০ এমএমসিএফডি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে অধিকাংশ কারখানা উৎপাদনে ফিরেছে। উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়া অনেক কারখানাও পুনরায় চালু হয়েছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, গাজীপুর এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। কিছু এলাকায় এখনো বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজন থাকলেও সামগ্রিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং কারখানাগুলোর উৎপাদনও স্বাভাবিক হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

তবে শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি ধরে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাসের চাপ বারবার ওঠানামা করলে উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়।

গ্যাস সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি ধীরে ধীরে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, স্পিনিং ও ডাইং শিল্পে উৎপাদন বাড়লে রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা গেলে উৎপাদন সক্ষমতার আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।