পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কিনতে চায় সরকার
বাংলাদেশ পুলিশের যানবাহন সংকট দূর করা, জরুরি সেবার মানোন্নয়ন এবং সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুটি পৃথক প্রকল্পে মোট ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটি বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ অপারেশনাল যানবাহন কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা এবং ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা প্রকল্প দুটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানা বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেবা দিচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি থানায় গড়ে দুটি করে যানবাহনও নেই। এ ছাড়া বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের বেশি পুরোনো।
এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল, জরুরি সাড়াদান এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েনে সমস্যা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে পুলিশের চলাচল ও কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপরাধ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এসব যানবাহন ভূমিকা রাখবে।
বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রকল্পে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, অল-টেরেইন ভেহিকল (এটিভি), মোবাইল কমান্ড সেন্টার ও ক্রাইম সিন ভ্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব যান জনতা নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া দেশের বিস্তৃত নৌপথে নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেপিআই) নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে স্পিডবোট এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প দুটির প্রস্তাবিত অর্থবছরভিত্তিক ব্যয়ের হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।










Disqus comments are not configured yet.