সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ শুরু আজ, মাঠে নামছে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ শুরু আজ, মাঠে নামছে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

এবিজি স্পোর্টস সিটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, বক্সিংসহ নানা আয়োজনে মেতেছেন দর্শকরা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসবেরও সাক্ষী হয়েছে এই ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এবার এখানে শুরু হচ্ছে তারুণ্যের উৎসব—এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ। দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবল দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট ঘিরে ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক উন্মাদনা।

প্রথম দিন মাঠে গড়াবে ক্রিকেটের লড়াই। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে রাত ৮টায় লড়বে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন কর্মসূচিতে ক্রিকেটার ও ফুটবলারদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। কোন বিশ্ববিদ্যালয় হবে চ্যাম্পিয়ন, তা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক।

খেলোয়াড় বাছাই ও দল গঠনেও কঠোর পরিশ্রম করেছে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজিয়েছে তারা। সবার লক্ষ্য একটাই—শিরোপা জয়।

গত বৃহস্পতিবার জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে টুর্নামেন্টের জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান। এতে ক্রিকেট ও ফুটবল দলের ২০ অধিনায়ক অংশ নেন। তাঁদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘ক্যাপ্টেনস মিট’। অনুষ্ঠানে দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় রঙিন জার্সি।

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের অনুপ্রেরণা এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান, এবিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের আন্তরিক ইচ্ছা ও আগ্রহেই আমাদের এ প্রচেষ্টা। তাঁর দিকনির্দেশনাতেই এ নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ঘুরে প্রশংসা করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে, বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) স্বীকৃতি পেয়েছে। এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের মতো দল খেলেছে। এখানে এএফসি কাপের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবেও এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০৩১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে এখানে নতুন একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের আশা, ২০২৭ সালের মধ্যে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্যও এবিজি স্পোর্টস সিটিতে খেলার সুযোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশের পরিচিত দুটি ক্রীড়া ভেন্যুতে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবেন তাঁরা। আগামী কয়েক সপ্তাহ ক্রিকেট ও ফুটবলের ম্যাচে মুখর হয়ে উঠবে পুরো ক্রীড়া কমপ্লেক্স।

ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

ফুটবল টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।

দলগুলো প্রস্তুত, প্রস্তুত মঞ্চও। এবার শুধু মাঠের লড়াই শুরুর অপেক্ষা। আজ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের।

মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। তবে অর্থনীতির মোট আকার, ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) ও প্রবৃদ্ধির গতির দিক থেকে ভারত এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাসে দুই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও অর্থনীতির সামগ্রিক সক্ষমতা ও মানুষের প্রকৃত জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে এখনো পার্থক্য রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড়। ২০২৬ সালে ভারতের মোট জিডিপি ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জিডিপি হতে পারে ৫০৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ ডলার। একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালেও মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরবর্তী সময়ে ভারত আবারও এগিয়ে যায়।

গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ অগ্রগতিতে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং শ্রমবাজারে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছে।

মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেও ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপির হিসাবে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। এ পদ্ধতিতে দুই দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্থানীয় মূল্যস্তরের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে মাথাপিছু জিডিপির তুলনায় পিপিপির হিসাব মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা সম্পর্কে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পিপিপির ভিত্তিতে ২০২৬ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার।

অর্থাৎ, মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও অর্থনীতির সামগ্রিক আকার ও ক্রয়ক্ষমতার সমতার হিসাবে ভারত এগিয়ে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

আগামী জুলাইয়ে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
আগামী জুলাইয়ে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য

রাজধানীর গণপরিবহনে নতুন সংযোগ যুক্ত হতে যাচ্ছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেল এবার সম্প্রসারিত হয়ে পৌঁছাবে কমলাপুর রেলস্টেশনে। এতে মেট্রোরেল থেকে নেমে অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে কমলাপুর যাওয়ার বাড়তি ঝামেলা কমবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য তৈরি হবে সহজ যোগাযোগের সুযোগ।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের সম্প্রসারিত অংশের নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জুলাইয়ের শুরুতে এ অংশে যাত্রী নিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হতে পারে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-৬-এর এই সম্প্রসারণ রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সরাসরি মেট্রোরেল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বর্তমানে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার বা অন্য স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে মতিঝিল পর্যন্ত এসে কমলাপুর যেতে যাত্রীদের আলাদা যানবাহন ব্যবহার করতে হয়। এতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়, সময়ও ব্যয় হয়। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে এই বাড়তি যাতায়াতের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

রাজধানীর মেট্রোরেলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। শুধু মতিঝিল স্টেশন দিয়েই প্রতিদিন প্রায় এক লাখ যাত্রীর যাতায়াত রয়েছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে রেলস্টেশনগামী যাত্রীদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মেট্রোরেলে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশ চালু হলে এ সংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রকল্পের প্রাক্কলনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশের উড়ালপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। কমলাপুর মেট্রোস্টেশনের মূল কাঠামোর কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন রেললাইন বসানো, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন এবং স্টেশনের বিভিন্ন কারিগরি ও আনুষঙ্গিক কাজ চলছে।

এ অংশে রেললাইন বসানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের তার, সংকেতব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্র, লিফট, চলন্ত সিঁড়ি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। স্টেশনের ভেতরে টাইলস, শৌচাগার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কাজও শেষ করা প্রয়োজন।

কিছু যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনার বিষয়টিও সময়সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব সরঞ্জাম স্থাপন ও পরীক্ষা সম্পন্ন না হলে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন শুরু করা কঠিন হবে। এ কারণে নির্মাণকাজের অগ্রগতির পাশাপাশি কারিগরি প্রস্তুতির গতিও চালুর সময় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। আগের পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের জুনে এ অংশ চালুর লক্ষ্য ছিল। পরে বিভিন্ন কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে।

এই সম্প্রসারণে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার নতুন উড়ালপথ যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬-এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। পুরো পথে স্টেশন থাকবে ১৭টি।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করে জুলাইয়ের শুরুতে যাত্রী পরিবহনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বাকি কারিগরি কাজ, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং পরীক্ষামূলক চলাচলের ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে।

কমলাপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগকেন্দ্র। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বেড়েছে। ফলে কমলাপুরে যাত্রীদের যাতায়াতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মেট্রোরেলের সঙ্গে কমলাপুর রেলস্টেশনের সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে রেলযাত্রীদের একটি অংশ সড়কপথের পরিবর্তে দ্রুতগতির গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে স্টেশনমুখী সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রেলস্টেশনে পৌঁছানোর সময় ও খরচও কমতে পারে।

ঢাকার যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্প নেওয়া হয়। উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর যাত্রী পরিবহন শুরু হয়।

এবার কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে মেট্রোরেল ও জাতীয় রেল যোগাযোগের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে চালু করতে হলে নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ, কারিগরি পরীক্ষা এবং স্টেশনের যাত্রীসেবার প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

জাপানে পোশাক রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
জাপানে পোশাক রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে ওঠানামার মধ্যে থাকা এই বাজারে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের হিস্যা বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপানও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার। মোট রপ্তানিতে জাপানের অংশ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে।

এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য নতুন বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। তবে জাপানে রপ্তানির হিস্যা বাড়লেও এ অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।

জাপানের পোশাক বাজারের আকার বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করে। পরবর্তী এক বছরে আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে।

এরপর বাজারটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ২০২৪-২৫ সময়ে জাপানের পোশাক আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ সময়ে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে দেশটি ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।

আমদানির এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও জাপানের বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রপ্তানি বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটির আমদানি বাড়লেই বাংলাদেশ সমান হারে লাভবান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং জাপানি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সাম্প্রতিক ইতিহাসে উত্থান-পতন স্পষ্ট। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটিতে ১১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

পরের অর্থবছরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে পোশাক রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে রপ্তানি দাঁড়ায় ১১৩ কোটি ডলারে।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিও আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে। এর ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

অর্থাৎ, জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও বাজারটিতে দেশের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়নি। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানির হিস্যা বৃদ্ধির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা ধরে রাখতে হলে পরবর্তী মাসগুলোতেও রপ্তানির গতি বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে তা কাজে লাগানোর চ্যালেঞ্জ। বড় আমদানি বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে হলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।

পাশাপাশি এক বা দুই প্রান্তিকের ভালো ফলের পরিবর্তে দীর্ঘ সময়ের রপ্তানি প্রবণতা মূল্যায়ন করাও জরুরি। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মোট পরিমাণের পাশাপাশি জাপানের বাজারে দেশের হিস্যা কতটা বাড়ছে, তা বিবেচনায় নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, জাপানের পোশাক আমদানি বাজারে পুনরুদ্ধারের প্রবণতা এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি হিস্যা বৃদ্ধির তথ্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তব অগ্রগতিতে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি কতটা ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো যায় তার ওপর। জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সাময়িক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।