সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য: ট্রাইব্যুনালে বডিগার্ডের বিস্তৃত জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য: ট্রাইব্যুনালে বডিগার্ডের বিস্তৃত জবানবন্দি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত কথিত গুম ও হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর সাবেক বডিগার্ড ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

রোববার (২১ জুন) বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর সেনানিবাসে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত। এ সময় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস দাবি করেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে মেজর জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ ও সাইফসহ মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তবে কাকে গাড়িতে তোলা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে অবস্থানকালে জিয়াউল আহসান বিভিন্ন স্থানে ফোন করে ‘টার্গেট’ কখন আসবেন, সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আসবেন না। এরপর তিনি জিয়াউল আহসানকে বাসায় পৌঁছে দেন এবং পরদিন নয় দিনের ছুটিতে বাড়ি চলে যান।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ছুটিতে থাকা অবস্থায় ১৮ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন।

সাক্ষ্যে তিনি আরও দাবি করেন, ২৩ এপ্রিল ছুটি শেষে র‌্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে অস্বাভাবিক পরিবেশ লক্ষ্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টায় রোল-কল হতো, সেখানে ১৮ এপ্রিলের পর কয়েক দিন সকাল ৭টায় রোল-কল অনুষ্ঠিত হয় এবং জিয়াউল আহসানও নিয়মিত ভোরে অফিসে আসতেন।

তিনি আরও দাবি করেন, একদিন জিয়াউল আহসান ফোনে কথা বলার সময় আরেকটি কল আসে এবং পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়।

ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন, ওই ফোনালাপের একপর্যায়ে জিয়াউল আহসান বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন।”

এ ছাড়া তাঁর অভিযোগ, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র‌্যাব সদর দপ্তরের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় এক বছর তিন-চার মাস জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন ঘটনায় “১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে” বলে প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত সাক্ষ্য ও দাবি, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে।

জবানবন্দি শেষে ইমরুল কায়েস আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো বিচারাধীন হিসেবে বিবেচিত হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সংগ্রহীত ছবি

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা প্রদান, আটক শ্রমিকদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন এবং স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, দুই দেশই এমন একটি শ্রমিক নিয়োগব্যবস্থার পক্ষে একমত হয়েছে, যা হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী এবং যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে শ্রমিকদের আর্থিক চাপ হ্রাস করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতেই দুই দেশের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং উভয় দেশ যৌথ সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ঢাকা কৃতজ্ঞ।

এছাড়া বাংলাদেশ আসিয়ানের (ASEAN) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (RCEP)-এ যোগদানের আকাঙ্ক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি পৃথক দলিলও বিনিময় করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর আনোয়ার ইব্রাহিমের শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ পাওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। তিনি স্মরণ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

শেষে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মাত্র ৫ হাজার টাকার দ্বন্দ্বে করিমগঞ্জে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ হাজার টাকার দ্বন্দ্বে করিমগঞ্জে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে রাসেল (নাম পরিবর্তন করা হয়নি) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রাসেল উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো ব্যাটারি সরবরাহের কথা বলে একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমানের কাছ থেকে রাসেল ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ব্যাটারি সরবরাহ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালের বাড়ির মোড় এলাকা থেকে মামুনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল রাসেলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নিহতের মা শিল্পী আক্তার অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জানা গেছে, নিহত রাসেল একটি পারিবারিক আদালতের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।

করিমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

বজ্রপাতে নরসিংদীতে নিহত কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
বজ্রপাতে নরসিংদীতে নিহত কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী

এআই ছবি

বৈরী আবহাওয়া ও বজ্রপাতের ভয়াল থাবায় নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রাণ হারিয়েছে কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। মর্মান্তিক এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন শিক্ষার্থী।

রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দী দক্ষিণপাড়া মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। আহত অপর শিক্ষার্থী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসার অজুখানায় অজু করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে চার শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত একজনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জজুড়ে, বিশেষ করে হোসেনপুর উপজেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে তিন কিশোর শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে বজ্রপাতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয়, হাওর ও উন্মুক্ত স্থানে অবস্থানকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা মাঠ, জলাশয়, হাওরাঞ্চল ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পাশাপাশি বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।