রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

এক ছাতার নিচে আসছে পুলিশের বিলুপ্ত দুই ইউনিট, নাম ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এক ছাতার নিচে আসছে পুলিশের বিলুপ্ত দুই ইউনিট, নাম ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’

দেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশের বিদ্যমান অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে বিলুপ্ত করে একীভূত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিটের কার্যপরিধি ও দায়িত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল থাকায় সেগুলোকে একীভূত করে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এসএসইউর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন ইউনিট গঠনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় বা নতুন বাজেটের প্রয়োজন হবে না। কারণ, বিদ্যমান দুই ইউনিটের জনবল ও অবকাঠামো সমন্বয়ের মাধ্যমেই এটি পরিচালিত হবে। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) বা গেজেট জারি হতে পারে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসইউর কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এটিইউ ও সিটিটিসির কার্যক্রম নিয়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গোপন বন্দিশালা পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে এসব ইউনিটের নিজস্ব গোপন বন্দিশালা ছিল, যেখানে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হতো।

এদিকে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে সিটিটিসি ও এটিইউর বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিচালনার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ধারণা, এসব অভিযোগের কারণে ইউনিট দুটির প্রতি জনআস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন নাম ও কাঠামোর মাধ্যমে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই নতুন ইউনিটের নামে ‘সন্ত্রাসবাদ’, ‘উগ্রবাদ’ বা ‘জঙ্গিবাদ’-সংক্রান্ত কোনো শব্দ রাখা হয়নি।

নতুন এসএসইউ গঠনের ফলে এটিইউ বা সিটিটিসির কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা নেই। বরং দুই ইউনিটের বিদ্যমান জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো সমন্বয় করে একটি নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান এটিইউ প্রধান নতুন ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন এবং সিটিটিসির শীর্ষ কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন।

বর্তমানে এটিইউ রাজধানীর বারিধারায় ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) চত্বরে সিটিটিসির নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসইউর প্রধান কার্যালয় হিসেবে মিন্টো রোডের সিটিটিসি ভবনের পাশাপাশি আগারগাঁওয়ে নির্মিত নতুন ভবনও ব্যবহার করা হবে।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে জঙ্গিবাদী হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির অধীনে সিটিটিসি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর সারা দেশে উগ্রবাদ দমনের লক্ষ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের অধীনে এটিইউর কার্যক্রম শুরু হয়।

হোলি আর্টিজান হামলার পর সিটিটিসি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। তবে পরবর্তী সময়ে এসব অভিযানের কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

বর্তমানে এটিইউতে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৬৯০টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে অপরাধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গুজব ছড়ানো, অনলাইনে উগ্রবাদে প্ররোচনা, স্লিপার সেল তৈরি এবং জনবহুল স্থানে হামলার মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ইউনিট প্রয়োজন।

এ কারণে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিদেশি আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়েও সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিএমপির সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসইউ-ডিএমপি’ করা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদবিতেও নতুন নাম যুক্ত হবে।

অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হলেই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

অন্যদিকে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল হকও জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি গেজেট প্রকাশের পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী ইউনিটটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ভৈরবে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ মামলার আসামি ইমন গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ মামলার আসামি ইমন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অভিযান চালিয়ে হত্যা, দস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মোট ১৩টি মামলার আসামি এবং একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ইমন (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প।

রোববার (২১ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ভৈরবের নাটালের মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ইমন ভৈরব উপজেলার আড়াই ব্যাপারীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং মাসুদ মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের পাঠানো এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইমন কিশোরগঞ্জের সদর, কুলিয়ারচর ও ভৈরবসহ আশপাশের এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ভৈরব থানার মামলা নং-২২(২)/২৫-এর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৮৫, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, দস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

র‌্যাবের তথ্যমতে, গত ১৮ মার্চ ২০২৬ গভীর রাতে কুলিয়ারচর থানার দাড়িয়াকান্দি-কুলিয়ারচর বাজার সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৌশলে রেলগেটের ব্যারিয়ার ফেলে একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় অষ্টগ্রাম উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফ খান বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে ইমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইমনকে কুলিয়ারচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাকুন্দিয়ার সন্তান সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি, আলোচনায় মাজার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ার সন্তান সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি, আলোচনায় মাজার উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সন্তান এবং প্রশাসনের আলোচিত কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলিপূর্বক মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

এর কয়েক দিন আগেই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পুরোনো কিছু দানসংগ্রহ পয়েন্ট সিলগালা করা, নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে মো. সারওয়ার আলমকে বদলিপূর্বক উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে এবং আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

মো. সারওয়ার আলম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কৃতি সন্তান। তিনি ইসমাইল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) থেকে এসএসসি ও কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

কর্মজীবনে তিনি র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভেজালবিরোধী অভিযান, অনিয়ম দমন এবং ভোক্তা-স্বার্থসংশ্লিষ্ট মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে শতাধিক অভিযান পরিচালিত হয়, যা তাকে আলোচিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স ব্যবস্থাপনা পুনর্বিন্যাস, নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

তবে তার বদলির সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি আদেশে এটি জনস্বার্থে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকুন্দিয়ার বাসিন্দাদের অনেকেই মো. সারওয়ার আলমকে জেলার গর্ব হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইন প্রয়োগ, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং অনিয়মবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিতি অর্জন করেছেন।

পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর এলাকার ভাগলপুরে অবস্থিত আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সকাল ১০টায় কলেজের ছৈয়ন উদ্দিন আহমদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ শেখ শাহজাহান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, সাবেক সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বাদল, সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ আলী আহসান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুম মিয়া। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ শেখ শাহজাহান।

পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে শিক্ষার্থীরা লোকনৃত্য, নাটক, গানসহ বিভিন্ন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল শিক্ষার মানোন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে দুটি নতুন হল নির্মাণের ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও উৎসাহিত করবে।