মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

এক ছাতার নিচে আসছে পুলিশের বিলুপ্ত দুই ইউনিট, নাম ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এক ছাতার নিচে আসছে পুলিশের বিলুপ্ত দুই ইউনিট, নাম ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’

দেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশের বিদ্যমান অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে বিলুপ্ত করে একীভূত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিটের কার্যপরিধি ও দায়িত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল থাকায় সেগুলোকে একীভূত করে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এসএসইউর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন ইউনিট গঠনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় বা নতুন বাজেটের প্রয়োজন হবে না। কারণ, বিদ্যমান দুই ইউনিটের জনবল ও অবকাঠামো সমন্বয়ের মাধ্যমেই এটি পরিচালিত হবে। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) বা গেজেট জারি হতে পারে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসইউর কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এটিইউ ও সিটিটিসির কার্যক্রম নিয়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গোপন বন্দিশালা পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে এসব ইউনিটের নিজস্ব গোপন বন্দিশালা ছিল, যেখানে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হতো।

এদিকে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে সিটিটিসি ও এটিইউর বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিচালনার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ধারণা, এসব অভিযোগের কারণে ইউনিট দুটির প্রতি জনআস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন নাম ও কাঠামোর মাধ্যমে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই নতুন ইউনিটের নামে ‘সন্ত্রাসবাদ’, ‘উগ্রবাদ’ বা ‘জঙ্গিবাদ’-সংক্রান্ত কোনো শব্দ রাখা হয়নি।

নতুন এসএসইউ গঠনের ফলে এটিইউ বা সিটিটিসির কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা নেই। বরং দুই ইউনিটের বিদ্যমান জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো সমন্বয় করে একটি নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান এটিইউ প্রধান নতুন ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন এবং সিটিটিসির শীর্ষ কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন।

বর্তমানে এটিইউ রাজধানীর বারিধারায় ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) চত্বরে সিটিটিসির নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসইউর প্রধান কার্যালয় হিসেবে মিন্টো রোডের সিটিটিসি ভবনের পাশাপাশি আগারগাঁওয়ে নির্মিত নতুন ভবনও ব্যবহার করা হবে।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে জঙ্গিবাদী হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির অধীনে সিটিটিসি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর সারা দেশে উগ্রবাদ দমনের লক্ষ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের অধীনে এটিইউর কার্যক্রম শুরু হয়।

হোলি আর্টিজান হামলার পর সিটিটিসি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। তবে পরবর্তী সময়ে এসব অভিযানের কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

বর্তমানে এটিইউতে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৬৯০টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে অপরাধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গুজব ছড়ানো, অনলাইনে উগ্রবাদে প্ররোচনা, স্লিপার সেল তৈরি এবং জনবহুল স্থানে হামলার মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ইউনিট প্রয়োজন।

এ কারণে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিদেশি আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়েও সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিএমপির সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসইউ-ডিএমপি’ করা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদবিতেও নতুন নাম যুক্ত হবে।

অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হলেই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

অন্যদিকে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল হকও জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি গেজেট প্রকাশের পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী ইউনিটটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে চরফরাদী ইউনিয়নের নামা মির্জাপুর গ্রামের শামছ ফাতেমা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি মির্জাপুর, নামা মির্জাপুর, বর্ষাগাতি, কুড়তালা, চালিয়াগোপ ও দিয়াপাড়া গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি ধসে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চরফরাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সৈয়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এলজিইডির অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

শাহীন আলম প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌদ্দশত পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই-বোন সবাই এই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কখনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেনি; বরং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাদরাসা ও অধ্যক্ষের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শাহীন আলম বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষ কখনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি; বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে কম টাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বর্তমান শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আচরণও ইতিবাচক। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে একটি মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁদের ধারণা। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসাটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে তাঁরা সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মিত রসিদ দেওয়া হয়েছে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কমিশন ও মাটি কাটার অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্বৃত্ত অর্থ মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজেই ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে এক অভিভাবক মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব গোপন রাখার অভিযোগ তোলেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার বৃষ্টির মধ্যেও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি পুরোনো ভবনের বারান্দার একাংশ ধসে পড়েছে। রোববার (১২ জুলাই) রাতে ভৈরব বাজারের দুধপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এক ডিম ব্যবসায়ী ও কয়েকজন পথচারী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধসে পড়া ভবনটি প্রায় শতবর্ষী এবং দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ঘটনার সময় বৃষ্টির কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া বাজারেও স্বাভাবিকের তুলনায় ভিড় কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে।

খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশিদ এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সরোয়ার বাতেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এ কারণে ভৈরব পৌরসভা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিক তারেক আহমেদকে নোটিশ দেয়। তবে নোটিশের পরও ভবনটির দোতলা জাল ব্যবসায়ীদের গুদাম এবং নিচতলা ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি দ্রুত ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশিদ বলেন, “ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবন মালিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41