শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মালয়েশিয়া-চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও নতুন চুক্তির প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মালয়েশিয়া-চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও নতুন চুক্তির প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার (২১ জুন) তিনি দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানকার সফর শেষে চীনে যাবেন তিনি। দুই দেশ মিলিয়ে মোট ছয় দিনের এই সফরকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা প্রদান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। হালাল পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকেলে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে ২২ জুন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমবাজার পুনরায় সচল করাই হবে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই বাজার স্থবির রয়েছে। চলমান সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, সফরের মাধ্যমে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু, সিন্ডিকেটমুক্ত কলিং ভিসা ব্যবস্থা, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতার সুযোগ এবং দূতাবাস-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে।

কুয়ালালামপুরে কর্মরত প্রবাসী জাহিদ বলেন, দুই দেশের সরকার যদি সরাসরি ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করে, তাহলে সাধারণ শ্রমিকরা কম খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আরেক প্রবাসী জাকারিয়া বলেন, কলিং ভিসা চালু হলেও যদি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত উপকার হবে না। তাই জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছেন। কেউ নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কর্মসংস্থানের অভাবে বৈধ অবস্থান হারিয়েছেন। তাদের আশা, নতুন বৈধকরণ কর্মসূচি চালু হলে তারা আইনগত স্বীকৃতি পেয়ে অধিক আয় ও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে সক্ষম হবেন।

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই সফরের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটির গবেষক আলমগীর চৌধুরী আকাশ বলেন, মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহল আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে হালাল শিল্প, কৃষি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও মালয়েশিয়া বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সালাহউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাঁর মতে, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগ এবং প্রবাসীবান্ধব নীতিমালা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া সফরকালে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও তিনটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। কূটনৈতিক মহলে এই সফরকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এই সফরে স্পষ্ট হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং সফর করে চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য কর্মসূচি, চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সফরসঙ্গী থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এ অংশগ্রহণ করবেন। সেখান থেকে ২৪ জুন বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা, চীনা শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তর, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আরসিইপি, ব্রিকস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ ছাড়া মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজসহ বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।

‘মাদকসেবী বা মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’

‘এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, রাতের ভোটের নয়’- এমপি জালাল উদ্দিন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
‘এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, রাতের ভোটের নয়’- এমপি জালাল উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে মুগদিয়া বাজারে মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রতন ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই সরকার জনগণের সরকার। এটি বিনা ভোটের সরকার নয়, রাতের ভোটের সরকারও নয়। জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অপরাধ নির্মূলে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মাদক বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এমপি জালাল উদ্দিন আরও বলেন, “মাদকসেবী ও মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।”

তিনি জানান, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত আইনে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে জামিন সীমিত করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে ডোপ টেস্টের মাধ্যমেও মাদকসেবী ও কারবারিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা সাধারণ মানুষের মতো সমাজে চলাফেরা করলেও তাদের চিহ্নিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামে মাদক হারাম ঘোষিত হয়েছে। তাই একজন মুসলমান হিসেবে মাদক থেকে দূরে থাকা সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় দায়িত্বও।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের কেউ যদি মাদকসেবন বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সভাপতি ওই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এসব কমিটির মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করা হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা প্রয়োজন। পরিবার থেকেই মাদকবিরোধী সচেতনতার সূচনা হতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ভিপি কামাল উদ্দিন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদল।

এ সময় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

মামলা চলমান, তবু নির্মাণকাজ! করিমগঞ্জে জেলা পরিষদের জমি নিয়ে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
মামলা চলমান, তবু নির্মাণকাজ! করিমগঞ্জে জেলা পরিষদের জমি নিয়ে চাঞ্চল্য

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মূল্যবান সরকারি জমিতে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দিকে, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা ও আইনগত নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করিমগঞ্জ মৌজার জেলা পরিষদের প্রায় ৮৯ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ রয়েছে, বিচারাধীন অবস্থাতেই শনিবার (২০ জুন) সকালে মৃত আব্দুল জব্বার মেম্বারের ছেলে কামাল, জামাল, এরশাদ ও বাবুল ওই জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

এর আগে গত ২ জুন জেলা পরিষদের প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় নির্মাণকাজের চেষ্টা চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী মো. হাসিবুর রহমান সবুজ বলেন, জমিটি নিয়ে বর্তমানে আদালতের ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে গত ২ জুন করিমগঞ্জ পৌরসভার আশুতিয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জেলা পরিষদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, করিমগঞ্জ মৌজার সাবেক দাগ নম্বর ৯৮২ ও ৯৮৯-এর আওতাভুক্ত প্রায় ৮৩ শতাংশ (০.৮৩ একর) ভূমি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত সরকারি সম্পত্তি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়, জেলা পরিষদের প্রশাসকের নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংশোধিত মালিকানা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার, অফিস সহায়ক ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

একই অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থাপিত সরকারি সাইনবোর্ড উপড়ে পাশের নরসুন্দা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের শামিল।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধ, সাইনবোর্ড ভাঙচুর এবং নির্মাণচেষ্টার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ কোন হীরক রাজার দেশ? শিক্ষকদের বেতনে দুই নীতি!

শাহীন আলম প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
এ কোন হীরক রাজার দেশ? শিক্ষকদের বেতনে দুই নীতি!

সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ যেমন নিয়ম ছিল ক্ষমতাবানদের জন্য এক রকম, সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকম—বাস্তবেও যেন তেমন এক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দেশের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকরা। একই শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হয়েও স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা মাসের শুরুতেই বেতন পেলেও, মে মাসের শেষভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বেতন-ভাতা পাননি হাজারো মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী।

দেশের ৮ হাজার ২২৯টি মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ২৩১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগ, একই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকেও তারা বৈষম্যের শিকার। স্কুল-কলেজে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পৌঁছে গেলেও মাদ্রাসা শিক্ষকদের এখনো ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে আটকে থাকতে হচ্ছে।

ফলে সংসার চালানো, বাসাভাড়া পরিশোধ, সন্তানের লেখাপড়া কিংবা পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও নিজের পরিবারটিই যেন ঠিকভাবে সামলাতে পারছেন না।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে। গত ১৬ জুন সংসদে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন বেতন-ভাতা বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মে মাসের বেতন না পাওয়ায় অর্থাভাবে এক শিক্ষক তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে এমইএমআইএস (MEMIS) প্রকল্প চালু হলেও সেখানে স্কুল-কলেজের মতো পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মাত্র কয়েকটি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ইএফটি চালু থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বেতন ছাড় করা হয়।

এদিকে সরকার জানিয়েছে, প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ইএফটি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়ের চেষ্টা চলছে।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, তাদের দাবি নতুন কিছু নয়—স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মতো মাসের প্রথম দিনেই যেন বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। একই রাষ্ট্রে, একই শিক্ষা ব্যবস্থায়, একই দায়িত্ব পালন করেও দুই ধরনের বাস্তবতা তারা আর দেখতে চান না।