পাকুন্দিয়ার সন্তান সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি, আলোচনায় মাজার উদ্যোগ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সন্তান এবং প্রশাসনের আলোচিত কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলিপূর্বক মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।
এর কয়েক দিন আগেই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পুরোনো কিছু দানসংগ্রহ পয়েন্ট সিলগালা করা, নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে মো. সারওয়ার আলমকে বদলিপূর্বক উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে এবং আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
মো. সারওয়ার আলম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কৃতি সন্তান। তিনি ইসমাইল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) থেকে এসএসসি ও কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
কর্মজীবনে তিনি র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভেজালবিরোধী অভিযান, অনিয়ম দমন এবং ভোক্তা-স্বার্থসংশ্লিষ্ট মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে শতাধিক অভিযান পরিচালিত হয়, যা তাকে আলোচিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স ব্যবস্থাপনা পুনর্বিন্যাস, নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
তবে তার বদলির সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি আদেশে এটি জনস্বার্থে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকুন্দিয়ার বাসিন্দাদের অনেকেই মো. সারওয়ার আলমকে জেলার গর্ব হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইন প্রয়োগ, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং অনিয়মবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিতি অর্জন করেছেন।










