রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশ গড়ার আহ্বান, কুলিয়ারচরে বিএনপির স্মরণসভা

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশ গড়ার আহ্বান, কুলিয়ারচরে বিএনপির স্মরণসভা

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের প্রণেতা এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় কুলিয়ারচর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম-কাম-কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি।

কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান এবং কুলিয়ারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক। স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও দর্শন রেখে গেছেন, তা আজও জাতীয় জীবনে প্রাসঙ্গিক।

আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি, যুবসমাজকে কর্মমুখী করে তোলা এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে শহীদ জিয়ার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ আজও উন্নয়নের অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে কুলিয়ারচর উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে অম্লান: কটিয়াদীতে বিএনপির আলোচনা সভা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে অম্লান: কটিয়াদীতে বিএনপির আলোচনা সভা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের প্রণেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জায়দুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান কাঞ্চন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সৈয়দ সামসুল আরেফিন তারা ও মো. আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চাঁন মিয়া মাস্টার, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আজিজুল হক শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মাসুদ ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস আলী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান ও সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ প্রিন্স, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মুশফিকুর রহমান উবায়দুর এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তসরিফুল হাসিবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক। স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবসমাজকে কর্মমুখী করে তোলা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ আজও দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ছিলেন আপসহীন।

বক্তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুদুল আলম মাসুদ।

দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের মাঝে মিষ্টি ও তবারক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

নাতিদের নির্যাতনের অভিযোগে বৃদ্ধার আত্মহত্যা, শোকে স্তব্ধ এলাকাবাসী

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
নাতিদের নির্যাতনের অভিযোগে বৃদ্ধার আত্মহত্যা, শোকে স্তব্ধ এলাকাবাসী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নাতিদের নির্যাতন ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মোর্তুজা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মোর্তুজা বেগম কুলিয়ারচর উপজেলার খড়কমারা গ্রামের মৃত জিল্লু মিয়ার স্ত্রী। শনিবার (৩০ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কুলিয়ারচর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোর্তুজা বেগমের মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৮) এবং তার দুই ছেলে রাকিব মিয়া (১৮) ও সাকিব মিয়া (১৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। অভিযোগ রয়েছে, মাদকের টাকার জন্য তারা প্রায়ই বৃদ্ধার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। গত শুক্রবার রাতেও টাকার দাবিতে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

প্রতিবেশীরা জানান, নাতিদের মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহ ও অশান্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি নানা সমস্যার মধ্যে ছিল। একদিকে নাতিদের নির্যাতন, অন্যদিকে বসবাসের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মোর্তুজা বেগম চরম মানসিক চাপে ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোর্তুজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কুলিয়ারচরের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মিল্লাত মিয়ার বাড়িতে মেয়ে ও নাতিদের নিয়ে বসবাস করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও বয়সের ভারে বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনযাপন করছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া জানান, ঘটনার দিন সকালে মোর্তুজা বেগম তার কাছে নাতিদের নির্যাতন ও টাকার চাপের বিষয়ে বিচার চেয়ে এসেছিলেন। তিনি অত্যন্ত হতাশ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান ফারুক মিয়া।

নিহতের বোন জুমিলা বেগম বলেন, “আমার বোনকে তার নাতিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকার জন্য নির্যাতন করত। নানা দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।”

এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিদার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করিমগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ। কলেজের প্রভাষক ও রোভার ইউনিট লিডার সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবনের উদ্যোগে এবং রোভার সদস্যদের সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে সুবিধাবঞ্চিত ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রোভার সদস্য ও কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির মানসিকতা। সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।

রোভার ইউনিট লিডার ও কলেজের প্রভাষক সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবন বলেন, “কলেজের রোভার সদস্য ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং আগ্রহের কারণেই এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার নানা কারণে কোরবানি দিতে পারেনি। অথচ ঈদুল আজহার অন্যতম আনন্দ হলো কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে খাওয়া এবং পরস্পরের সঙ্গে সেই আনন্দ বিনিময় করা।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের পরিবারেরই অংশ। তাদের ছাড়া আমাদের উৎসব পূর্ণতা পায় না। তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও আমরা তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার চর্চা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে অসচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

ঈদুল আজহায় এমন মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং রোভার আন্দোলনের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।