নিরাপত্তা উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ দেখতে না যাওয়ার পরামর্শ ব্লাটারের
ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার মনে করেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে সমর্থকদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়াই শ্রেয়। সোমবার তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন।
ব্লাটার এই বক্তব্যের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী মার্ক পিথ–এর মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন। ফিফার সংস্কার কার্যক্রমে ব্লাটারের দায়িত্বকালীন সময়ে পিথ তার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। পিথ আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন, সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লাটার লেখেন, “এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে মার্ক পিথ সঠিক পথে রয়েছেন।”
জানুয়ারির শুরুতে মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে বিক্ষোভকারী রেনি গুডে নিহত হওয়ার ঘটনাকে সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন পিথ। এছাড়া গত সপ্তাহে আরেক মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি–র মৃত্যুর ঘটনাকেও তিনি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্যের প্রতি ব্লাটারও সমর্থন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।
সুইজারল্যান্ডের দৈনিক তাগেস-আনজেইগার–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিথ বলেন, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিরোধীদের কোণঠাসা করা এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের অপব্যবহার—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভক্তদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “ভক্তদের একটাই উপদেশ—যুক্তরাষ্ট্র এড়িয়ে চলুন। বরং টেলিভিশনে খেলা দেখাই নিরাপদ ও সুবিধাজনক।”
পিথ আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সামান্য টানাপোড়েনই কাউকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর কারণ হতে পারে। ভাগ্য ভালো থাকলে কেউ কেউ হয়তো তা এড়িয়ে যেতে পারবেন।
২০১৫ সালে ফিফায় একাধিক দুর্নীতির কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ার পর ব্লাটার ফিফা প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়েন। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
২০১১ সালে সাবেক উয়েফা প্রেসিডেন্ট মিশেল প্লাতিনি–কে ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ পরামর্শ ফি দেওয়ার মামলায় গত বছর ব্লাটার ও প্লাতিনি চূড়ান্তভাবে খালাস পান।
ফ্রান্সের সাবেক তারকা ফুটবলার প্লাতিনি এই মাসের শুরুতে ইনফান্তিনোকে সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমান ফিফা প্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তিনি এখন স্বৈরাচারী হয়ে পড়েছেন এবং ধনী ও প্রভাবশালীদেরই বেশি পছন্দ করেন।”













