শিশু চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ, অক্টোবরে চালু হচ্ছে ৫ হাসপাতাল
আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচ বিভাগীয় ও জেলা শহরে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
তিনি বলেছেন, শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্য, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি—এই চারটি বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, ‘আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচ বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে।’
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী করতে দেশের ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশু স্বাস্থ্য (পেডিয়াট্রিকস), মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি—চারটি মূল বিভাগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচিতে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে ইমিউনিটি ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই ফল বর্তমান পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, শুধু হাজার হাজার ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ বেড স্থাপন করে শিশুমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ও টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ানো হলেও হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বড় পরিসরে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতের সংকট মোকাবিলায় শিগগিরই পাঁচ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টও নিয়োগ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
গবেষণার মূল ফলাফল ও তথ্য-উপাত্ত যৌথভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array