বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পাকুন্দিয়ায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পাকুন্দিয়ায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। এ ঘটনায় তাঁদের মেয়েসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সুখিয়া বাজারসংলগ্ন এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—পাকুন্দিয়া উপজেলার কাগারচর গ্রামের নুরু মিয়া (৬০) ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা (৫৮)। আহতরা হলেন তাঁদের মেয়ে মারজিয়া খাতুন এবং জাহাঙ্গীর ও মাহিম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পাকুন্দিয়া থেকে কিশোরগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি সুখিয়া বাজারসংলগ্ন এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি মাছবাহী ট্রাক সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা নুরু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে নিহত দম্পতির মেয়ে মারজিয়া খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দুর্ঘটনার পর মাছবাহী ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাওহীদ হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কিছু সময় যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রিজভীর কাঁধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
রিজভীর কাঁধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার মহাসচিবের পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন রিজভী।সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭(খ) ৬ ধারা অনুযায়ী রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন রিজভী। রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দলের বক্তব্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনার কারণেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সম্প্রতি তাঁকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসার বিষয়টি সামনে আসে। ২০১১ সালে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়া মির্জা ফখরুল ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।রিজভীর বর্তমান দায়িত্বকে আপাতত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির চলতি বছরের সম্ভাব্য জাতীয় কাউন্সিলে দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বিএনপির দলীয় কাঠামো ও সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মহাসচিবের পদে রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

জাহাঙ্গীর হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে মিঠামইনে বিএনপির বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
জাহাঙ্গীর হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে মিঠামইনে বিএনপির বিক্ষোভ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দল-মত নির্বিশেষে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন বলে আয়োজকেরা দাবি করেন।

পরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কামাল পাশা, নিহতের চাচা আইনজীবী ফরিদ আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি বাহার মিয়া এবং নিহতের ছোট ভাই ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আলমগীর শিকদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা সব ব্যক্তি ও সহযোগীর ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা সদরে নিজ বাসভবনের সামনে হামলার শিকার হন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর।

ওসি জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন আসামিসহ মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে জমি দখলের ছক, নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে জমি দখলের ছক, নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সংঘটিত হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের পথ সুগম করতে সহযোগীদের নিয়ে নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে চাম্পা (৪৮)-এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পাকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সংস্থাটির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে গত ১৮ আগস্ট কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের মোছা. হালিমা নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল লাগানো দেখতে পান তাঁর মেয়ে চাম্পা। পরে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে স্বজনরা দেখতে পান, মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। তাঁর নাক ও মুখে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন ছিল এবং গলায় সাদা রশি প্যাঁচানো ছিল।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রতিবেশী বিল্লালসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই কিশোরগঞ্জ গ্রহণ করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মামলার বাদী চাম্পার কথাবার্তায় অসংগতি পান তদন্তকারীরা। একপর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে বলে দাবি করেছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি কিনেছিলেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল করা হয়নি। পরে বিল্লাল জমিটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করলে জায়গাটি নিয়ে হালিমার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৫ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পিবিআই বলছে, এ ঘটনার পর প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন চাম্পা ও তাঁর সহযোগীরা।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে চাম্পার সহযোগীরা তাঁদের বাড়িতে আসে। আগের বিরোধ মীমাংসার কথা বলে চাম্পা তাঁর মাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন।

এরপর সহযোগীদের নিয়ে হালিমাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন চাম্পাই বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পিবিআইয়ের দাবি, প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের পথ সহজ করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

পিবিআই জানায়, দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে চাম্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি সংস্থাটির। পরে গত ১৮ আগস্ট কিশোরগঞ্জের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে সহযোগীদের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কিশোরগঞ্জের পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম, পরিদর্শক খাইরুল বাসার, পরিদর্শক নবী হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।