শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সাইবার আইন যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন না করে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাইবার আইন যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন না করে: তথ্যমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা হতো। গণমাধ্যমের ওপর আইন অপব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে যেন এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক (ডুয়াল মিনিং) শব্দ না থাকে, যা ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাক্‌স্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাকে বিনষ্ট করছে। সরকারের প্রধান কাজ হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটি বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপরও জোর দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেবল কঠিন আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে কোনো মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার করাও যে অপরাধের আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে কনসালটেশন সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেওয়া অপরিহার্য। এ কারণেই গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে, তা গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।

গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার এই আইন সংশোধন করছে না। প্রিন্ট মিডিয়ার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের কোথায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা রয়েছে, সে বিষয়ে মুক্তমনে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এসব পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

কনসালটেশন সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইনটি যেন অপব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে একটি যুগোপযোগী আইনের বিকল্প নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আইনটি পরিমার্জন করতে হবে, যাতে এর কোনো অপব্যবহার বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

কনসালটেশন সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধন করে বর্তমান সরকার যে সাইবার সুরক্ষা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা এবং জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাদ দেওয়া প্রশংসনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, বাক্‌স্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসভ্যতা, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে নারী, শিশু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইন হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এসব প্রশ্রয় দিলে সামাজিক নোংরামি বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত হবে। তবে আইনের পাশাপাশি সরকারের কোনো সংস্থা যদি নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করে, সে ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বিধান আইনে স্পষ্টভাবে থাকা প্রয়োজন।

মুক্ত আলোচনায় ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ কনসালটেশন সভা আরও পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আয়োজনের তাগিদ দেন। তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনের প্রয়োগ ও সাজা বাড়ানোর চেয়ে অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া কনসালটেশন সভায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব জোবায়ের বাবু, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম. এ. আজিজ, দৈনিক আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদক ও শিক্ষাবিদেরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর, কিশোরগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর, কিশোরগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ অফিসের আশপাশে জমে থাকা ময়লা ও পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। রোগ প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

অধ্যাপক ডা. মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ডা. মীর নুর উস সাদের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আতাউর রহমান। তিনি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, এডিস মশা সাধারণত বাসাবাড়ির জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকা বন্ধ করতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রতিটি পরিবারকেও সচেতন হতে হবে। জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. একরাম আহসান, ডা. মো. আতিকুল সারোয়ারসহ ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ ৬ কোটি থেকে ২৫ কোটি করার উদ্যোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ ৬ কোটি থেকে ২৫ কোটি করার উদ্যোগ

সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট-চেক ও এআই বিষয়ক সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও হোসেনপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রোকসানা খাতুন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সহযোগী সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকালের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আবু সালেহ বাবুল, দৈনিক সকালবেলার কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি পলাশ আহমেদ, হোসেনপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক নয়া দিগন্তের হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান চন্দন, সিনিয়র সহসভাপতি মানসুরুল হক রবিন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মিজবাহ উদ্দিন মানিক, দৈনিক যায়যায়দিনের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. আবু বকর ছিদ্দিক বাক্কার, দৈনিক সংগ্রামের হোসেনপুর সংবাদদাতা মো. শামছুল হক, পাকুন্দিয়ার আসাদুজ্জামান খন্দকার, দৈনিক প্রতিদিনের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. রাজিব আহম্মদ পিয়াস,  দৈনিক সমাচারের হোসেনপুর প্রতিনিধি মো. আফজালুর রহমান উজ্জল, পাকুন্দিয়া বার্তার প্রতিনিধি মো. আরিফুর ইসলাম, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রিমন মিয়া, আরমান, দেলোয়ার হোসেন রাজিব, সালমান রহমান, সাইফুল্লা মাহমুদ, আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলা ভিউজ ডটকমের জেলা প্রতিনিধি তুষার আহম্মেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সংবাদমাধ্যমে তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট-চেকিং দক্ষতা অপরিহার্য।

তাঁরা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির সঠিক ও নৈতিক ব্যবহার সংবাদ পরিবেশনকে আরও গতিশীল, আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি—সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিন উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত ৩৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে আধুনিক সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাইয়ের কৌশল, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ এবং সাংবাদিকতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে ইটনা উপজেলার টিয়ারকোনা হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৪০) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৭)। তাঁরা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে শাহ আলম ও মোকাররম হোসেন জাল নিয়ে নৌকায় করে ইটনা উপজেলার টিয়ারকোনা হাওরে মাছ ধরতে যান।

হাওর থেকে ফিরতে দেরি হওয়া এবং সকালে আবহাওয়া বৈরী থাকায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে সকাল ১০টার দিকে স্বজনেরা তাঁদের খোঁজে হাওরের দিকে বের হন। একপর্যায়ে টিয়ারকোনা হাওরের মধ্যে দুজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে বৃষ্টির মধ্যেই তাঁরা মাছ ধরতে হাওরে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বজ্রপাতে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”