কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন এমপি গাজী নজরুল
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাকুন্দিয়া থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী মো. তোফাজ্জল হোসেন সুজন (৪০), চরফরাদী ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী রাজন মিয়া (২৭), বুরুদিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী শারমিন আক্তার (৩০) ও মোছা. ইয়াছমিন (৩৫)।
এ ছাড়া রয়েছেন চণ্ডীপাশা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন সুজন (২৫), চরফরাদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম দুলাল (৭২), সুখিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন (৪৬), পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কফিল উদ্দীন (৪৭) এবং পাকুন্দিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ আলী (৬০)।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. জাহেদুল হক রেজভী (২১), এগারসিন্দুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত মিয়া (৩৪), নারান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য লিখন চন্দ্র বিশ্বাস (৪০), হোসেন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শফিক (৪০) এবং পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া (৫৬)।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে বুরুদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মো. রফিকুল ইসলাম (৬৪), চরফরাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আজহার আলী রতন (৫৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মাঈনুল হক সেলিম (৫০)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী মো. আরমান মিয়াও (৩১) রয়েছেন।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্র থেকে জনসাধারণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে পারবেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নিলুফা আক্তার রূপা এবং জেলার ১৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।
উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি কেন্দ্রটির মাধ্যমে নাগরিকদের কী ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলার নাগরিকদের ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
তিনি জানান, নাগরিকরা সরাসরি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, নামজারি ও জমাখারিজ, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি এবং মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রাপ্তির আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়া যাবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে।
কিশোরগঞ্জ শহরে ইজিবাইকের পৌর মনোগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন না হওয়া এবং মনোগ্রামবিহীন মিশুকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পৌর ইজিবাইক মালিক সমিতি। এ অবস্থায় ইজিবাইকের পৌর মনোগ্রাম পুনঃনবায়ন এবং মিশুকের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট মনোগ্রাম চালুর দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সমিতির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথকভাবে এ স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা থেকে ইজিবাইকের জন্য মনোগ্রাম দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেটি নবায়ন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ইজিবাইকের মনোগ্রাম আর নবায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে গত বছরের ২৬ অক্টোবর পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন সমিতির নেতারা।
সমিতির অভিযোগ, ইজিবাইকের মনোগ্রাম নবায়নের জন্য মালিকদের আগ্রহ ও আবেদন থাকা সত্ত্বেও কোনো নোটিশ না দিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নতুন করে ইজিবাইক নিবন্ধনের জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে মনোগ্রাম নবায়নের অপেক্ষায় থাকা ইজিবাইক মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কিশোরগঞ্জ শহরে অনুমোদনহীন ও মনোগ্রামবিহীন মিশুকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মনোগ্রাম না থাকায় বৈধ ও অবৈধ যান শনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলাও বাড়ছে বলে দাবি করা হয়।
যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সমিতির ২২ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত ইজিবাইকের পৌর মনোগ্রাম নবায়ন, মিশুকের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট মনোগ্রাম চালু এবং শহরের যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপির সঙ্গে পৌর প্রশাসকের কাছে দেওয়া আগের আবেদনের অনুলিপি এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির রেজুলেশনের কপিও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়া হয়।
এ সময় কিশোরগঞ্জ পৌর অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, মহিলা সদস্য রহিমা খাতুন, উপদেষ্টা মো. আনোয়ার হোসেন, মহি উদ্দিন লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array