বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলার ১৩টি উপজেলার ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা নাশকতা না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ এবং আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ একা নয়; পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় ধর্মীয় নেতারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। বিশেষ করে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।

পুলিশ সুপার ধর্মীয় নেতাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

‘ফ্যাসিবাদের দোসররা হামলা করছে’: মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
‘ফ্যাসিবাদের দোসররা হামলা করছে’: মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে সিটি করপোরেশন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ নম্বরে উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিরা এবং তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহনকর্মী, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায় এবং বুধবারের ঘটনায় সেটি প্রমাণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাতেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন এবং এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে। এটি সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করায় স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি মিরপুরের সন্তান এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। ফুটপাত দখলের মতো কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

ছাড়িয়ে নিতে তদবির নয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করুন

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ছাড়িয়ে নিতে তদবির নয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করুন

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির না করে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন নিকলী থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিন একই সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসির মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বদলিজনিত কারণে শূন্য থাকায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে বলে সভায় আলোচনা হয়। এর ফলে উপজেলা জুড়ে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন ও বিক্রি, ইভটিজিং, চুরি ও হামলার মতো ঘটনা বেড়ে যায় এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে জনমনে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউএনও ও ওসি পদায়ন হওয়ার পর প্রশাসনে তাঁদের যোগদানের পর এটিই ছিল প্রথম মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা। সামাজিক অবক্ষয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সভাটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর বলে মনে করছেন উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সভায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যদের উপস্থাপিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নবনিযুক্ত নিকলী থানার ওসি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, থানায় জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের স্বল্পতা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতা পেলে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব।

রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে যেন কোনো ধরনের তদবির না করা হয়। কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর কোনো ধরনের তদবির রক্ষা করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল মামুন, কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা হাজী মাসুক মিঞা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সভাপতি আবুল হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক আবির, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ উবাইদুল হক সম্রাটসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে উদ্যোগ

গাজীপুর মহানগরের মাস্টারবাড়ি থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকায় ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করা হয়েছে। সড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং যানবাহনে চলাচলকারীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কাউলতিয়া ফাঁড়ি পুলিশের উদ্যোগে এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

মাস্টারবাড়ি থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড়, আগাছা ও বিভিন্ন ধরনের গাছপালা বেড়ে ওঠায় সড়কের অনেক অংশ আড়াল হয়ে ছিল। এতে রাতে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় থাকায় কিছু কিছু স্থানে অন্ধকার ও আড়াল তৈরি হয়। ফলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। বিশেষ করে রাতে দূরপাল্লার যানবাহন, পণ্যবাহী গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে মহাসড়কের পাশে থাকা ঝোপঝাড় ও আগাছা কেটে সড়কের আশপাশের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কাউলতিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমন খান জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। মহাসড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড়ের কারণে দুষ্কৃতকারীরা আড়ালে লুকিয়ে থেকে এ পথে চলাচলকারী যানবাহনে হামলা চালিয়ে রড, দা, চাকা বা বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার সুযোগ পেত বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শীতকালে ডাকাতির প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে স্থানীয় লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রমে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাসড়কের দুই পাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলে দুষ্কৃতকারীদের লুকিয়ে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ কমবে। এতে ধীরে ধীরে ডাকাতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে কাউলতিয়া ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি জিএমপি সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা মহাসড়কের দুই পাশে থাকা ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করেন এবং সড়কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু ঝোপঝাড় পরিষ্কার করলেই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি মহাসড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা করাও জরুরি। একবার পরিষ্কার করার পর আবার যাতে ঘন ঝোপঝাড় তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কে চলাচলকারীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।