রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বিন্নাটিতে হাফিজিয়া মাদ্রাসায় সবক প্রদান, কোরআন শরিফ বিতরণ করলেন ভিপি সোহেল

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিন্নাটিতে হাফিজিয়া মাদ্রাসায় সবক প্রদান, কোরআন শরিফ বিতরণ করলেন ভিপি সোহেল

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি এলাকায় তাসমীউল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান উপলক্ষে দোয়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুড়িরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা শাহাব উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ, কিশোরগঞ্জের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল)।

অনুষ্ঠানে কোরআন হিফজের সবক নেওয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোরআন শরিফ বিতরণ করেন খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। পরে অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ভিপি সোহেল নবনির্বাচিত সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা পুনর্গঠনের কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

মসজিদ-মাদ্রাসার মতো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ও টেকসই ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করার কথা বলেন।

দেশ গঠনে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন ভিপি সোহেল। তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। আগামী দিনে বর্তমান শিক্ষার্থীরা দেশকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বল, স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক আবু হানিফ, বিন্নাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লা এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি দুলাল মিয়া।

এ ছাড়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মশিউর রহমানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষার সবক প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলে কোরআন তেলাওয়াত, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

তাড়াইল ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি, সভাপতি এনামুল সম্পাদক সাইফুল

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
তাড়াইল ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি, সভাপতি এনামুল সম্পাদক সাইফুল

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা শাখা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কমিটির দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আগের কমিটির সভাপতি আলহাজ হযরত মাওলানা এনামুল হক (বড় হুজুর) পুনরায় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শেখ মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম সেক্রেটারি হিসেবে বহাল রয়েছেন। আলহাজ হযরত মাওলানা আব্দুর রউফ (দা.মা.)কে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তাড়াইল বাজারের ট্রলারঘাট এলাকার সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে উপজেলা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার ও দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস আগেই নতুন মেয়াদের সম্মেলন করা হয়েছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক-১ আলহাজ মো. নুরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক-৪ মুফতি আবু হানিফ এবং অর্থ সম্পাদক আলহাজ আলী আকবর মাস্টার।

এ ছাড়া সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাড়াইল উপজেলা শাখার সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আগাম সম্মেলনের বিষয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শেখ মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্যই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার চার মাস আগেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

সম্মেলনে নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের আগামী দুই বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।

কটিয়াদীতে জাতীয় কবিকে স্মরণ, অনুষ্ঠিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
কটিয়াদীতে জাতীয় কবিকে স্মরণ, অনুষ্ঠিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা আজও সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) রাত ৮টায় কটিয়াদী নজরুল একাডেমির উদ্যোগে একাডেমি কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সেলিম। সাধারণ সম্পাদক আঃ রউফ খোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক।

আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা ও সাম্যেরও কবি। তাঁর সৃষ্টিকর্মে মানুষের অধিকার, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সাম্যের আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের প্রেম, সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর সাহিত্য মানুষকে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পাশাপাশি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে একাডেমির সহ-সভাপতি মধুসূদন সাহা, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, মো. আব্দুল মান্নান (স্বপন), শামসুল আলম, দিপক কুমার সাহা, রতন কুমার সাহা, বিকাশ কুমার সাহা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল শাহীন, দপ্তর সম্পাদক শামসু উদ্দিন, কটিয়াদী প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মাইনুল হক মেনু, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, পল্টন কুমার সাহাসহ একাডেমির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশ, জাতি ও মানুষের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

রাত পৌনে দুইটা। সড়কে যানবাহন চলাচলও তখন তুলনামূলক কম। সিলেটের উদ্দেশে ভালুকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কাছেই পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পেয়ে চালক ও যাত্রীরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান। এরপর দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাইক্রোবাসের যাত্রীরা।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাইক্রোবাসটি হঠাৎ সড়কে থেমে গেলে বিষয়টি দেখতে তারা গাড়িটির সামনে যায়। পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে- এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী ও পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও অসঙ্গতি।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ১৪-৯৩১০। এ সময় ঘটনাস্থলে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, এসআই সুজন বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

মাইক্রোবাসের যাত্রী সারোয়ার আলম বলেন, গাড়িটিতে তাঁরা মোট আটজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, দুইজন নারী ও চারটি শিশু। ভালুকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে নোয়াগাঁও এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কিছুটা দূরে পুলিশের গাড়ি দেখতে পাওয়ায় তাঁরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান।

সারোয়ারের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

তিনি দাবি করেন, এ সময় প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। এর মধ্যে চেইন, কানের দুল, আংটি ও চুড়ি ছিল। এ ছাড়া দুটি Oppo স্মার্টফোন, একটি Xiaomi 8 ট্যাব, একটি GoPro ক্যামেরা, Nothing ব্র্যান্ডের হেডফোন এবং প্রায় এক লাখ টাকা নগদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ডও খোয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আরও অভিযোগ করেন, লুটপাটের সময় ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখানো হয়। হামলাকারীরা একে অপরকে বিভিন্ন নামে ডাকছিলেন। এর মধ্যে একজনকে ‘জুয়েল’ নামে ডাকতে শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাকাতির শেষ পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে শুরু করে। তাঁদের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে অবস্থান করছিল।

সারোয়ারের অভিযোগ, এ সময় একজন পুলিশ সদস্য পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পেছনে দৌড় দিলেও এসআই সুজন তাঁকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালের বিবরণ নেওয়ার সময় হামলাকারীদের একজন পেছন দিক দিয়ে আরও তিন-চারজনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ফিরে আসে। তাঁরা ওই ব্যক্তিকে ডাকাতির সময় উপস্থিত থাকার কথা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাঁর ছবি ও পরিচয় নেয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ঘটনার পর কী করা উচিত, সে বিষয়েও পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে জানান সারোয়ার আলম। তাঁর ভাষ্য, মামলা বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তাঁদের কোনো পরামর্শ দেয়নি। শুধু নাম-ঠিকানা নেওয়া হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, পুলিশ কুলিয়ারচরের শেষ সীমানা থেকে কুলিয়ারচরের দিকে আসছিল। বিপরীত দিক থেকে মাইক্রোবাসটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ মাইক্রোবাসটি সড়কে দাঁড়িয়ে গেলে কেন থেমেছে, তা দেখতে পুলিশ গাড়িটি সামনে নিয়ে মাইক্রোবাসটির একেবারে মুখোমুখি দাঁড় করায়। এ সময় পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি। ফলে এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলা যাচ্ছে না।

তবে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় ঘটনার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ব্যক্তিদের সংকেতেই তাঁরা গাড়ি থামিয়েছিলেন। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই তিন ব্যক্তি কারা, তাঁরা কেন মাইক্রোবাসটি থামানোর সংকেত দিয়েছিলেন, পুলিশকে দেখে যারা দৌড়ে পালিয়েছিল তারা কারা- এসব প্রশ্নের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের দাবি করা স্বর্ণ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামালের কোনো সন্ধান বা আলামত পাওয়া গেছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই রাতে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।