বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে নিয়ে চার দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জ ডিসিকে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে নিয়ে চার দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জ ডিসিকে স্মারকলিপি

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, পৃথক ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহারে আইন প্রণয়নসহ চার দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত ও হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদ চত্বরে আয়োজিত মহাসম্মেলন শেষে দাবিগুলোর সমর্থনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।

আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জ জেলা এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতী ওমর আহমদ, ইমাম-উলামা পরিষদ কিশোরগঞ্জ সদরের সভাপতি মাওলানা আহমাদ উল্লাহ, জেলা প্রচার সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহীম এবং অর্থ সম্পাদক মাওলানা জিল্লুর রহমান। এ সময় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে খতমে নবুওয়তের আকীদার গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করা ইসলামী আকীদার একটি অপরিহার্য বিষয়। স্মারকলিপিদাতাদের দাবি, মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারীরা এই আকীদা অস্বীকার করায় মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা অমুসলিম।

তাদের অভিযোগ, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সদস্যরা মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও প্রতারণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত চার দফা দাবি হলো—

১. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃথক ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহারে বাধ্য করতে আইন প্রণয়ন করা।

২. পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, নিকাহ্ রেজিস্ট্রি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি নথিতে তাদের পৃথক ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৩. ইসলামী পরিভাষা, প্রতীক ও মসজিদ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৪. ধর্মীয় পরিভাষা ও মুসলিম জনজীবনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সব ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

স্মারকলিপিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত ও হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি, আল-জামিয়াতুল এমদাদিয়ার অধ্যক্ষ এবং ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের মুতাওয়াল্লী মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ স্বাক্ষর করেন।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।