শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান হবে: গণপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান হবে: গণপূর্তমন্ত্রী

বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় গত সাত মাস ধরে এ বিষয়ে বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যানের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘বণিক বার্তা’।

জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইউডিডি)। এর মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা মেট্রোপলিটন সিটিতে কাজ করছি। এর পরে বড় শহর থেকে একদম উপজেলা পর্যায়ে যেন প্রকৃত অর্থে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা যায়, সেটা দেখব। কোথায় কী হওয়া উচিত, সেভাবে জোনিং করব। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কাজ করা মানে একটি লক্ষ্যে চারটি তীর ছোড়ার মতো—কোনোটায় যেন লাগে। কিন্তু আমরা প্রিসাইজলি কাজ করতে চাই। সে জন্যই আমরা ইউডিডিকে শক্তিশালী করছি এবং এ বিভাগকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চাই।’

মন্ত্রী বলেন, যথাযথ ও পর্যাপ্ত তথ্য হাতে থাকলে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা সম্ভব। কিন্তু সর্বশেষ শুমারি অনেক দিন আগে হয়েছে। তাই পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে নতুন ও উপযুক্ত শুমারি করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বেশকিছু কাজ হাতে নিয়েছি। এখন চেষ্টা করছি আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল এবং ইলেকট্রিক্যাল প্ল্যানিং—সবকিছু মিলিয়ে যেন প্ল্যান দেওয়া হয়। সেটা অনুমোদনের পর বিল্ডিংয়ের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পেতে হলে যারা ডিজাইন করেছেন, তাদের সার্টিফাই করতে হবে যে বিল্ডিংটি সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ভবন চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজউক ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবনের প্ল্যান অনুমোদন করেছে রাজউক। তবে এর বাইরের অনেক এলাকায় প্ল্যান ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলো এখন চিহ্নিত করা হচ্ছে।

গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় অনেক ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, এসব এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ছয়বার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তিনি জানান, এসব এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল করা হয়নি। অনেক নামিদামি ডেভেলপার ভবন নির্মাণ করলেও বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে (এসটিপি) যুক্ত হয়নি।

এ বিষয়ে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে তিন থেকে চারবার বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি। রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। গুলশান, বারিধারা আমাদের ডিস্টিংগুইশড এরিয়া। সেখানকার লেকের পানিই যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করব?’

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দেশের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, গত সাত মাসে রাজউকের মতো আরও ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো—ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে চারটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়ার জন্যও কাজ চলছে।

ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনই পরিকল্পনা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করে। এতে যথাযথ চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকার বসিলা এলাকার মতো জায়গায় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে অনেক ভবনের প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিকল্পনা ছাড়া নির্মিত ভবন বা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত ভবনকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে একটি বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি মাসখানেকের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে। বিধিমালাটি অনুমোদিত হলে তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

আবাসন খাতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে অর্থায়ন একটি বড় বিষয়। উন্নত অনেক দেশে ৩০ বছরের জন্য মর্টগেজ সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের সুবিধা সীমিত। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য আবাসন তৈরি কঠিন।

তিনি বলেন, আবাসন খাতের নীতিমালায় বিভিন্ন সমস্যা ছিল। আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিকল্পনার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে। আগের কাজ যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই নতুন পরিকল্পনা অনুমোদন করা হবে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে সবাইকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।

ঢাকার বাসযোগ্যতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাসযোগ্য ১৭৩টি শহরের মধ্যে ১৭১তম অবস্থানে আছে ঢাকা।’ শহরটির উন্নয়নে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সব খাতের সম্মিলিত অবদান ছাড়া এ প্রচেষ্টা সফল করা কঠিন।

গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা করে আরও সুস্থ ও পরিকল্পিত আবাসন নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

সুন্দরবনে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া একটি দলের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের শেলা নদী ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ছয়টি একনলা বন্দুক, তিনটি এয়ারগান, একটি পাইপগানের ট্রিগার ও ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।

বৃহস্পতিবার সকালে মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পশ্চিম জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশনস) লে. কমান্ডার শওকত আহম্মদ।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে শেলা নদী ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। খবরের ভিত্তিতে রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মোংলা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

ইয়েমেনে সংঘাতের মধ্যে সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনে সংঘাতের মধ্যে সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৬ জন।

বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় নিহত হয়েছেন আরও দুজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটি মঙ্গলবার ও বুধবার চালানো হয়েছে। তবে কোন দিন কোন বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে। বুধবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, ইয়েমেনের সা’দা, হোদেইদাহ, জাওফ ও মারিব অঞ্চলে হুতিদের ৮০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালায়। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কায়রো থেকে একটি ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য এডেন বিমানবন্দরটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট আরও জানিয়েছে, সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মটির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সেটি ধ্বংস করা হবে। তবে এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানানো হয়নি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালী ও মোচা শহরের আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা এসব এলাকা দখল করে নিয়েছিল। তবে সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইয়েমেনি সামরিক ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের রণাঙ্গনে লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে নজর রাখা ধুবাব জেলাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে সরকারি বাহিনী উপকূলীয় সমভূমির পূর্বদিকে অবস্থিত কৌশলগত পাহাড়গুলোতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

সোমবার ইয়েমেন সরকার দাবি করেছিল, তারা মোচা শহরে পৌঁছেছে। শহরটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র তাইজের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সরবরাহপথের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তবে মাঠপর্যায়ের ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ওই দাবি ছিল অকালপক্ব।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বুধবার জানিয়েছে, লড়াইয়ের সর্বশেষ পর্যায় শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে, কিন্তু নিরাপদ কোনো আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না। খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় তিনি আরও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

উভয় পক্ষই কোনো বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই দাবি করেছে, লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার অনাহারের শিকার হচ্ছে।

হুতিরা এর আগে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে বারবার হামলা চালিয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হলে নৌ চলাচল ও বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হুতিদের প্রতিহত করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। তুরস্ক মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে বলে বুধবার দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ও পাকিস্তান তাদের নবগঠিত জোটের আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মিত্র সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সিরিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন সিরীয় সামরিক কর্মকর্তা।

বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে সৌদি আরবকে হামলা থেকে রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া অথবা হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি রয়েছে। ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা মোতায়েন করতে সৌদি আরব সিরিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল।

মন্তব্যের জন্য সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একজন সিরীয় কূটনীতিক বলেন, হুতি হামলার মুখে সিরিয়া দৃঢ়ভাবে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। তবে সরকারের মূল মনোযোগ এখন দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার, যার মধ্যে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়টিও রয়েছে।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। জোটটির আশঙ্কা ছিল, ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে এবং সৌদি সীমান্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা হুতিরা বর্তমানে হাজার হাজার যোদ্ধার একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সৌদি জোটের দাবি।

তবে হুতিরা ইরানের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক প্রতিনিধি নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করে বলে দাবি করেছে। তেহরানও হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৬ জন।

বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় নিহত হয়েছেন আরও দুজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটি মঙ্গলবার ও বুধবার চালানো হয়েছে। তবে কোন দিন কোন বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে। বুধবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, ইয়েমেনের সা’দা, হোদেইদাহ, জাওফ ও মারিব অঞ্চলে হুতিদের ৮০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালায়। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কায়রো থেকে একটি ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য এডেন বিমানবন্দরটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট আরও জানিয়েছে, সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মটির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সেটি ধ্বংস করা হবে। তবে এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানানো হয়নি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালী ও মোচা শহরের আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা এসব এলাকা দখল করে নিয়েছিল। তবে সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইয়েমেনি সামরিক ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের রণাঙ্গনে লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে নজর রাখা ধুবাব জেলাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে সরকারি বাহিনী উপকূলীয় সমভূমির পূর্বদিকে অবস্থিত কৌশলগত পাহাড়গুলোতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

সোমবার ইয়েমেন সরকার দাবি করেছিল, তারা মোচা শহরে পৌঁছেছে। শহরটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র তাইজের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সরবরাহপথের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তবে মাঠপর্যায়ের ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ওই দাবি ছিল অকালপক্ব।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বুধবার জানিয়েছে, লড়াইয়ের সর্বশেষ পর্যায় শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে, কিন্তু নিরাপদ কোনো আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না। খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় তিনি আরও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

উভয় পক্ষই কোনো বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই দাবি করেছে, লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার অনাহারের শিকার হচ্ছে।

হুতিরা এর আগে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে বারবার হামলা চালিয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হলে নৌ চলাচল ও বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হুতিদের প্রতিহত করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। তুরস্ক মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে বলে বুধবার দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ও পাকিস্তান তাদের নবগঠিত জোটের আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মিত্র সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সিরিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন সিরীয় সামরিক কর্মকর্তা।

বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে সৌদি আরবকে হামলা থেকে রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া অথবা হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি রয়েছে। ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা মোতায়েন করতে সৌদি আরব সিরিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল।

মন্তব্যের জন্য সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একজন সিরীয় কূটনীতিক বলেন, হুতি হামলার মুখে সিরিয়া দৃঢ়ভাবে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। তবে সরকারের মূল মনোযোগ এখন দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার, যার মধ্যে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়টিও রয়েছে।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। জোটটির আশঙ্কা ছিল, ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে এবং সৌদি সীমান্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা হুতিরা বর্তমানে হাজার হাজার যোদ্ধার একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সৌদি জোটের দাবি।

তবে হুতিরা ইরানের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক প্রতিনিধি নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করে বলে দাবি করেছে। তেহরানও হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১০ অক্টোবর)। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ সময়ে দেশব্যাপী ইলিশ মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। এর মধ্যে এখনও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

অন্য বছরগুলোতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।

গত আগস্টে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ মাছ আমদানিকারক সমিতি। একই সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও এ বছর ইলিশের উৎপাদন পর্যালোচনা করে রপ্তানির বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয়।

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ থাকবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন বা নাকচের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্র জানায়, মতামত পাওয়ার পর রপ্তানির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। এরপর বিষয়টি আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে (সিসিআইই) পাঠাতে হয়। ফলে হাতে থাকা সময়ের মধ্যে এ বছর পূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চড়া দাম হলেও এসব অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের ইলিশ কিনতে আগ্রহী। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশের চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে। তবে ২০১২ সালে সরকার ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য বিশেষ অনুমতিতে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং পুরোটা ভারতে রপ্তানি হয়। ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে পুরোটাই রপ্তানি হয়। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫০ টন।