বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান হবে: গণপূর্তমন্ত্রী
বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় গত সাত মাস ধরে এ বিষয়ে বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যানের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘বণিক বার্তা’।
জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইউডিডি)। এর মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা মেট্রোপলিটন সিটিতে কাজ করছি। এর পরে বড় শহর থেকে একদম উপজেলা পর্যায়ে যেন প্রকৃত অর্থে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা যায়, সেটা দেখব। কোথায় কী হওয়া উচিত, সেভাবে জোনিং করব। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কাজ করা মানে একটি লক্ষ্যে চারটি তীর ছোড়ার মতো—কোনোটায় যেন লাগে। কিন্তু আমরা প্রিসাইজলি কাজ করতে চাই। সে জন্যই আমরা ইউডিডিকে শক্তিশালী করছি এবং এ বিভাগকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চাই।’
মন্ত্রী বলেন, যথাযথ ও পর্যাপ্ত তথ্য হাতে থাকলে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা সম্ভব। কিন্তু সর্বশেষ শুমারি অনেক দিন আগে হয়েছে। তাই পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে নতুন ও উপযুক্ত শুমারি করা প্রয়োজন।
বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বেশকিছু কাজ হাতে নিয়েছি। এখন চেষ্টা করছি আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল এবং ইলেকট্রিক্যাল প্ল্যানিং—সবকিছু মিলিয়ে যেন প্ল্যান দেওয়া হয়। সেটা অনুমোদনের পর বিল্ডিংয়ের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পেতে হলে যারা ডিজাইন করেছেন, তাদের সার্টিফাই করতে হবে যে বিল্ডিংটি সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে।’
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ভবন চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজউক ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবনের প্ল্যান অনুমোদন করেছে রাজউক। তবে এর বাইরের অনেক এলাকায় প্ল্যান ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলো এখন চিহ্নিত করা হচ্ছে।
গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় অনেক ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, এসব এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ছয়বার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি জানান, এসব এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল করা হয়নি। অনেক নামিদামি ডেভেলপার ভবন নির্মাণ করলেও বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে (এসটিপি) যুক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে তিন থেকে চারবার বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি। রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। গুলশান, বারিধারা আমাদের ডিস্টিংগুইশড এরিয়া। সেখানকার লেকের পানিই যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করব?’
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দেশের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, গত সাত মাসে রাজউকের মতো আরও ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো—ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে চারটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়ার জন্যও কাজ চলছে।
ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনই পরিকল্পনা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করে। এতে যথাযথ চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকার বসিলা এলাকার মতো জায়গায় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে অনেক ভবনের প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিকল্পনা ছাড়া নির্মিত ভবন বা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত ভবনকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে একটি বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি মাসখানেকের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে। বিধিমালাটি অনুমোদিত হলে তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
আবাসন খাতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে অর্থায়ন একটি বড় বিষয়। উন্নত অনেক দেশে ৩০ বছরের জন্য মর্টগেজ সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের সুবিধা সীমিত। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য আবাসন তৈরি কঠিন।
তিনি বলেন, আবাসন খাতের নীতিমালায় বিভিন্ন সমস্যা ছিল। আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিকল্পনার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে। আগের কাজ যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই নতুন পরিকল্পনা অনুমোদন করা হবে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে সবাইকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।
ঢাকার বাসযোগ্যতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাসযোগ্য ১৭৩টি শহরের মধ্যে ১৭১তম অবস্থানে আছে ঢাকা।’ শহরটির উন্নয়নে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সব খাতের সম্মিলিত অবদান ছাড়া এ প্রচেষ্টা সফল করা কঠিন।
গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা করে আরও সুস্থ ও পরিকল্পিত আবাসন নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array