বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ফি ৭০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ফি ৭০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ফি বাবদ ৭০ হাজার ডলার নেওয়ার প্রস্তাব করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। বুধবার প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। বিদেশি ভিসাধারীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এফ-১ ভিসাধারী অ-অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ‘ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ’ (অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং—ওপিটি) কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো কর্ম-প্রশিক্ষণের জন্য আরও ৩০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো প্রতারণা রোধ, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বর্তমানে ‘ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০০ ডলার ফি দিতে হয়। এ কর্মসূচির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষ চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কর্ম-প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। স্নাতক বা ডিগ্রি অর্জনের পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ সুযোগ থাকে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পান।

ডিএইচএস বলেছে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এফ-১ অ-অভিবাসী শিক্ষার্থী হিসেবে অনুমোদিত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার আওতায় কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রায়ই একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ফি বাড়ানোর মাধ্যমে এ ভিসা ব্যবস্থাকেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনছে।

কয়েক দশক ধরে এইচ-১বি কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ভারত ও চীনের তরুণ প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত শিক্ষাকে উচ্চ বেতনের চাকরি এবং দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগে রূপান্তরের পথ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব কর্মীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি স্নাতক শেষ করার পর তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড দেওয়া উচিত বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অন্যান্য প্রস্তাবের মতো এই নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাবও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিদেশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে কাজ করা সংস্থা ট্যালেন্ট মোবিলিটি ফান্ডের পরিচালক ডগ র‍্যান্ড বুধবার লিংকডইনে লিখেছেন, প্রস্তাবিত নিয়মটি আদালতে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। তাঁর দাবি, ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি এবং অন্যান্য কঠোর বিধিনিষেধমূলক নীতির ক্ষেত্রেও আদালতে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল সরকার।

প্রস্তাবিত নিয়মটি চূড়ান্ত করার আগে ৩০ দিন জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। ডিএইচএস জানিয়েছে, নিয়মটি চূড়ান্ত হওয়ার পর কার্যকর করার আগে আরও ৬০ দিন অপেক্ষা করা হবে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও নিয়োগকর্তারা প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পান।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১০ অক্টোবর)। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ সময়ে দেশব্যাপী ইলিশ মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। এর মধ্যে এখনও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

অন্য বছরগুলোতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।

গত আগস্টে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ মাছ আমদানিকারক সমিতি। একই সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও এ বছর ইলিশের উৎপাদন পর্যালোচনা করে রপ্তানির বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয়।

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ থাকবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন বা নাকচের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্র জানায়, মতামত পাওয়ার পর রপ্তানির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। এরপর বিষয়টি আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে (সিসিআইই) পাঠাতে হয়। ফলে হাতে থাকা সময়ের মধ্যে এ বছর পূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চড়া দাম হলেও এসব অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের ইলিশ কিনতে আগ্রহী। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশের চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে। তবে ২০১২ সালে সরকার ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য বিশেষ অনুমতিতে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং পুরোটা ভারতে রপ্তানি হয়। ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে পুরোটাই রপ্তানি হয়। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫০ টন।

১৩ বছরের বেতন বৈষম্য কাটছে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
১৩ বছরের বেতন বৈষম্য কাটছে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের

পদমর্যাদায় দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এতদিন বেতন পাচ্ছিলেন ১১ ও ১২তম গ্রেডে। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা এই বৈষম্যের অবসান হতে যাচ্ছে। প্রায় ১০ মাস আগে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে পদমর্যাদা অনুযায়ী তাঁদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও এতদিন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়ায় সেই অনুযায়ী বেতন পাননি তাঁরা। অবশেষে দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++ সফটওয়্যারে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

গত মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। তবে বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।

প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ফল। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করা এবং গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন—উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত। পরে হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে আদালতে রিট করা ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ। তিনি সমকালকে জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরে রায় দেন।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার। একই দিন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও বেতন নির্ধারণে এর প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম গ্রেডে রাখা হয়।

বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী দশম গ্রেডে মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। এর আগে দশম গ্রেডের পুরোনো বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

সপ্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের বেতন গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় আগামী দিনের জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন পরিকল্পনায় আগামী দিনের জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনার তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সুফল টেকসই হবে না। তাই বর্তমানের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সিদ্ধান্তে আগামী কয়েক দশকের জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি) নলেজ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি পাঁচ শতাধিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিসিডিপি ওয়েব পোর্টালের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। নতুন এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্প ও বিনিয়োগের তথ্য ব্যবস্থাপনা, রিয়েল-টাইম প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, প্রকল্পের পাইপলাইন তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে জানান আয়োজকরা।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জাতীয় জলবায়ু নীতি ও পরিকল্পনাকে সমন্বিত কর্মসূচি, মানসম্মত প্রকল্প, উপযুক্ত অর্থায়ন এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপ দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, অভিযোজনমূলক বিনিয়োগের অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বাণিজ্যিক মুনাফা থাকে না। তবে এসব বিনিয়োগ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু অর্থায়নের কাঠামো তৈরি করতে হবে।

জলবায়ু প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণে নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে, ফসল উৎপাদন কমছে এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর চাপ বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি কম কার্বন নিঃসরণকারী পরিবহন এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিসিডিপির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজনের অভিজ্ঞতা সাহস ও মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের গল্প। অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব ও মালিকানা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি সহজলভ্য ও ন্যায্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক অভিযোজনের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি।

এডিবির নির্বাহী পরিচালক সত্যা শ্রীনিবাস লোল্লা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ সম্মেলনের সাফল্য শুধু আলোচনায় নয়; বরং সম্মেলন শেষে কী ধরনের পদক্ষেপ ও বিনিয়োগ আসে, তার ওপর নির্ভর করবে।

সম্মেলনের প্রথম দিনে তিনটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে জলবায়ু সহনশীলতা ও নিম্ন কার্বন প্রবৃদ্ধি, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ বাস্তবায়ন এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ৩.০ বাস্তবায়নে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, খাতভিত্তিক ব্যয় নির্ধারণ এবং জাতীয় বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সরঞ্জাম এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জ্বালানি রূপান্তর, কম কার্বন নিঃসরণকারী পরিবহন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি অধিবেশন এবং বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সচিব মুনিরা সুলতানা।