বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রশিক্ষণের বদলে সনদ, টিটিসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রশিক্ষণের বদলে সনদ, টিটিসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সারা দেশে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র (টিটিসি)। তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক, যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও প্রশিক্ষক নেই, কোথাও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট, আবার কোথাও ভবন নির্মাণের পরও বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়নি।

কোনো কোনো কেন্দ্রে অস্থায়ী প্রশিক্ষক দিয়ে কোর্স চালানো হচ্ছে। মাঝপথে তাঁরা চলে গেলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রশিক্ষণ। আবার এক ট্রেডের প্রশিক্ষককে মাত্র কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য ট্রেডের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

এ পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে দক্ষতা অর্জনের বদলে প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু সনদ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর এমন দুরবস্থার মধ্যেই ৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উপজেলায় আরও ৫০টি টিটিসি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও দরপত্রের প্রক্রিয়াও চলছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলো কার্যকর না করে নতুন ভবন নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১০৪টি টিটিসি ও ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় ৪ হাজার ৬০০। তবে অধিকাংশ কেন্দ্র চলছে অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে। কাগজে-কলমে ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও অনেক ট্রেড দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কাঠমিস্ত্রির চাহিদা থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে কার্পেন্ট্রি ট্রেড। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গেও অনেক ট্রেডের সামঞ্জস্য নেই।

প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে, যার অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের আধুনিক কর্মপরিবেশের উপযোগী নয়। বিভিন্ন এলাকার টিটিসি ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

২০২১ সালে চালু হওয়া সুনামগঞ্জ টিটিসিতে ১০টি ট্রেড চালু থাকলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব জনবল নেই একজনও। প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ অন্য কেন্দ্র থেকে ১০ জনকে প্রেষণে এনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অস্থায়ী প্রশিক্ষক চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে জাপানি ভাষা কোর্স। অথচ এ কোর্স সম্পন্ন করে অন্তত ১২ জন জাপানে গিয়ে ভালো বেতনে চাকরি করছেন।

নোয়াখালী টিটিসিতে ১৫টি কোর্স পরিচালনার জন্য ৪৫ জন প্রশিক্ষক প্রয়োজন হলেও রয়েছেন মাত্র আটজন। রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং কোর্সে দুই বছর ধরে কোনো প্রশিক্ষক নেই। পর্যাপ্ত ল্যাব ও যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাবে সেগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এমনকি যন্ত্রের ত্রুটির কারণে দুই মাস ধরে নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরাও নেওয়া যাচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিটিসিতে অটোমেকানিকের সাতটি ট্রেডে ৩৫ জন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হলেও রয়েছেন ১২ জন। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন লেভেল-১ ট্রেডে দুই বছর ধরে কোনো প্রশিক্ষক নেই। পুরোনো যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেওয়ায় কর্মক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

বরিশাল টিটিসিতে ৪৪টি প্রশিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৬ জন। এক ট্রেডের প্রশিক্ষক দিয়ে অন্য ট্রেডের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গার্মেন্টস ট্রেডের প্রশিক্ষক লায়লা আফরোজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিষয়ে তিন দিনের একটি বুনিয়াদি কোর্স করে ওই ট্রেডের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্য প্রশিক্ষকদেরও একাধিক ভিন্ন ট্রেডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো কোনো প্রশিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। এমনকি সাবেক প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়েও ক্লাস পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাজ প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে করানোর অভিযোগও রয়েছে।

রাজশাহী টিটিসিতে বিনা মূল্যে ফরম দেওয়ার কথা থাকলেও শর্ট কোর্সে ৬০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কোরিয়ান ভাষা কোর্সের নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও অন্য কোর্সে বাধ্যতামূলক ভর্তি করে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএমইটির অনুমোদন ছাড়াই সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে কোর্স পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

রংপুর টিটিসিতে অনুমোদিত ২১টি ইন্সট্রাক্টর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন। প্রশিক্ষকদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ভিত্তিতে সরকার ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাতা দেয়। এ ভাতার জন্য অনেকে কোর্সে ভর্তি হলেও প্রশিক্ষণকে কাজে লাগান না। রংপুর টিটিসির হিসাব অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই তা কাজে লাগাতে পারছেন না। অন্যদিকে তারাগঞ্জে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। বর্তমানে সেটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।

নওগাঁ টিটিসিতে ছয়টি অনুমোদিত কোর্সের জন্য ১০ জন ইন্সট্রাক্টর প্রয়োজন হলেও রয়েছেন সাতজন। তিনটি চিফ ইন্সট্রাক্টর পদ ২০১৬ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। পাবনা টিটিসিতে ৭৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৭ জন। ছয়টি প্রধান ট্রেডে ৩০ জন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হলেও রয়েছেন ১৭ জন। কেন্দ্রটিতে আধুনিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের যন্ত্রপাতিও নেই।

টিটিসিগুলোর এ দুরবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) তথ্যমতে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মাত্র ২০ থেকে ২২ শতাংশ দক্ষ। বাকি ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ আধা-দক্ষ বা অদক্ষ। দক্ষতার ঘাটতির কারণে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীরা কম মজুরি পাচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সারা দেশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে বিভাগীয় ও বড় জেলা শহরগুলোতে ২০ থেকে ২৫টি বিশ্বমানের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুললে প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা সহজ হতো।

এ বিষয়ে বিএমইটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) শরিফা সুলতানা বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় ৪ হাজার ৬০০। অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। অস্থায়ী প্রশিক্ষক দিয়ে কোর্স পরিচালনা করতে হয়। ভালো সুযোগ পেলে তাঁরা অন্যত্র চলে যান। জাপানি ভাষা কোর্সের অনেক প্রশিক্ষক জাপানে চলে গেছেন। এ কারণে হাইব্রিড পদ্ধতিতে একজন প্রশিক্ষক একসঙ্গে একাধিক কেন্দ্রে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহার

রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়। তাঁর পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজাউল আলম সরকারকে।

আদেশ জারির পর রাজশাহী ছাড়েন ইউসুফ আলী। তিনি অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহী সফর শেষে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলান। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর প্রটোকল ভেঙে তাঁর দিকে ঝুঁকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে আলোচনা চলছে। এর পরপরই তাঁকে বদলি করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর সময় ইউসুফ আলী করমর্দনের পর তাঁর দিকে ঝুঁকে কিছুটা এগিয়ে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল ভেঙেছেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় তিনি ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে সেখান থেকে রাজশাহী যান। রাজশিয়ার কর্মসূচি শেষে রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

কুমিল্লায় কর্ণফুলী কমিউটার লাইনচ্যুত, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় কর্ণফুলী কমিউটার লাইনচ্যুত, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুমিল্লার লাকসামে নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর। তিনি জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কাজ শুরু হবে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গুজব ও উগ্রতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে তরুণদের: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
গুজব ও উগ্রতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে তরুণদের: রাষ্ট্রপতি

তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে।

আজ সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দেশ সবার। সবাইকে মিলেই দেশ গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছেন। এটি দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি বাংলাদেশের শক্তি ও অস্তিত্বের অংশ, যা যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণকে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।

ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

এর আগে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।