মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

দেশে সারের সংকট নেই, ডিলার নিয়োগের অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দেশে সারের সংকট নেই, ডিলার নিয়োগের অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ

দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই এবং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। বিশেষ করে লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর জেলার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়গুলো জানানো হয়।

বৈঠকের শুরুতে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি আগের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি বলেন, সার বিতরণ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সার কারখানাগুলো পূর্ণোদ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সার বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সার বিতরণ, মজুত ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সারের অবৈধ মজুত, বিপণন এবং অন্যান্য অনিয়ম চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। অপর দুই সদস্য হলেন সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দীন বাবুল ও মোছা. সাবিরা সুলতানা। কমিটিটি সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। যেসব এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে ডিলারশিপের চুক্তি এখনো সম্পাদিত হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সম্পাদন স্থগিত রাখতে হবে। অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, সেসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষ করে লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর জেলার ডিলারশিপ নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে সভাপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদসহ কমিটির সদস্য সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোছা. সাবিরা সুলতানা এবং মো. গোলাম রছুল অংশ নেন।

এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে শাহীন আলম বাবু (৩০) নামে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাস পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এ দণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাহীন আলম বাবু উপজেলার তারাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি একসময় চা বিক্রি ও মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহীন আলম বাবু দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে পাকুন্দিয়া থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাঁকে বসতঘরে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র ও একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন (পিপিএম) বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত শাহীন আলম বাবুকে পুলিশি পাহারায় কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের সামনে ও বাজার এলাকায় বখাটেদের উৎপাত এবং ইভ টিজিংয়ের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

কটিয়াদীতে কৃষিজমির গর্তের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে কৃষিজমির গর্তের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাড়ির পাশের কৃষিজমির গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে হুমাইসা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে পৌর এলাকার কামারকোনা মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হুমাইসা নরসিংদী সদর উপজেলার রকি মিয়ার মেয়ে। তার মা-বাবা ঢাকায় চাকরি করেন। পরিবারের বাড়ি নরসিংদীতে হলেও হুমাইসা ছোটবেলা থেকেই কটিয়াদী পৌর এলাকার কামারকোনা মহল্লায় তার নানাবাড়িতে থাকত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সবার অজান্তে বাইরে চলে যায় হুমাইসা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের কৃষিজমির একটি গর্তে জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ জিতলেন গুরুদয়াল কলেজের ক্যাডেট মারিয়া

রেজুওয়ানুল হক পূর্ণ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ জিতলেন গুরুদয়াল কলেজের ক্যাডেট মারিয়া

জাতীয় পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের বিএনসিসি প্লাটুনের ক্যাডেট মোছা. মারিয়া আক্তার। ২য় জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ এ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই অর্জনে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ পরিবারে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।

গত ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এ আসরে স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে মারিয়া নিজের ক্রীড়ানৈপুণ্য, অধ্যবসায় ও দৃঢ় মনোবলের পরিচয় দিয়েছেন।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

প্রতিযোগিতা শেষে কলেজে ফিরলে ক্যাডেট মোছা. মারিয়া আক্তারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিদ্দিকুল্লাহ এবং কলেজের বিএনসিসি প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (পিইউও) মো. মতিউর রহমান। তাঁদের এ অভ্যর্থনা মারিয়ার অর্জনের প্রতি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও উৎসাহের বহিঃপ্রকাশ।

মারিয়ার এ সাফল্য গুরুদয়াল সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের জন্য গৌরবের। তাঁর এই অর্জন কলেজের সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিএনসিসির অন্যান্য ক্যাডেটকে ক্রীড়াক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন এবং জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের পক্ষ থেকে ক্যাডেট মোছা. মারিয়া আক্তারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়েছে।