বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় গণহত্যা বন্ধ হয়নি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গাজায় গণহত্যা বন্ধ হয়নি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অভিযোগ

গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও তুলেছে কমিশন। এসব অপরাধের মধ্যে গণহত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছে কমিশন। পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও প্রাণহানিও বেড়েছে। কমিশনের মতে, সেখানে রাষ্ট্রীয় মদদে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিমান হামলায় ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৫৪ জন।

কমিশনের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদেরও ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গাজাতেও শিশুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।

গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কমিশনের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সঙ্গে যুক্ত চারজনকে হত্যা করেছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, রোববারের অভিযানে তিনজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ইসলামিক জিহাদের সদস্য আলা আবু জায়েদ ও হামদান সুলেইমান ইব্রাহিম আবু আমরা রয়েছেন। নিহত অপর ব্যক্তি হামাসের স্নাইপার সদস্য ফাওজি সালাম ওদাত আল্লাহ সাওয়ারহা।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ২২ বছরে দিশারী, কিশোরগঞ্জে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ২২ বছরে দিশারী, কিশোরগঞ্জে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইসলামী সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে ২২ বছরের পথচলা উদ্‌যাপন করেছে দিশারী সাহিত্য সাংস্কৃতিক ফোরাম, কিশোরগঞ্জ। এ উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মুহাম্মাদ ইসরাইল মিঞা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক মাওলানা শাব্বির আহমদ রশিদের (দা.বা.)। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন মুফতী শরীফ জামী।

বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন কিংবদন্তি ইসলামী সংগীতশিল্পী এবং ঢাকার দাবানল শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে ইসলামী সংগীত, সাহিত্য ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারে নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হবে।

নিকলীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
নিকলীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি উপজেলা যুবদলের কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে বেলা ১১টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা সৈয়দ হাসানুল হুদা।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম এবং সহসভাপতি আবু সাঈদ রতন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আসা স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, বিগত সময়ে ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একটি চক্র সরকারের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। দলীয় আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় করতে যুবদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় স্থানীয় নেতারা নিকলী উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবদলের সব কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান। তাঁদের মতে, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে চায় সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে চায় সরকার

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী বছর থেকে স্কুলে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম চালু, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করা এবং গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী হবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারের অগ্রাধিকার ও উদ্যোগের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি, জার্মান, ফরাসিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পাশাপাশি শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা গেলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।

চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি এবং ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করবেন। মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে রোগের প্রকোপ কমবে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের বাংলাদেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সম্পৃক্ত করে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

সভায় দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে প্রবাসী এবং দেশে বসবাসকারী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমরা দেশে থাকি কিংবা বিদেশে থাকি, যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’

দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রবাসে অবস্থান করলেও প্রত্যেক বাংলাদেশির দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে সভায় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।