কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স রিমা আক্তারের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের নার্স ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। অন্যদিকে, একই ঘটনায় রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকেও হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে পৃথক মানববন্ধন করা হয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কর্মসূচিতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নার্স ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন অংশ নেন। তাঁরা নার্স রিমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার তপন কুমার। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনরত একজন নার্সের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নার্সরা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তাসফিয়া আক্তার অন্তরা, সালমা আক্তার, মেহেরিন নেসা শাওন, জসীমউদ্দীন, মাহবুবুর রহমান নয়ন ও মাকসুদুর রহমান রকি। এ ছাড়া নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী আফজাল হোসেন শান্ত, সাদিয়া সুলতানা ও চম্পা আক্তারসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নার্সদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর স্ট্রোকজনিত অসুস্থতার কারণে মো. রায়হান উদ্দিন (৭৫) নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের মীরেরগাঁও গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলার ৬০১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, রোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা আক্তার (৪০), জামাতা কামাল উদ্দিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স রিমা আক্তারের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা রিমা আক্তারের চুলের মুঠি ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মী হায়দার মিয়াও হামলার শিকার হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে রোগীর স্বজন প্রিয়াঙ্কা আক্তার ও তাঁর স্বামী কামাল উদ্দিনের অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের মারধর করেছেন। তাঁদের এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকেও মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আলোচনা শেষে রোগীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় আহত নার্স রিমা আক্তার হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডের ১২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও পৃথক মানববন্ধনের ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, উভয় পক্ষের অভিযোগ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
Disqus comments are not configured yet.