রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্রের জবাব ঐক্যবদ্ধভাবে দেওয়া হবে। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে—যেখান থেকেই ষড়যন্ত্র হোক না কেন, তা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের বীর জনগণকে অতীতেও কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনা এবং বিরোধী দলের সরকারবিরোধী কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলছেন সরকারের মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতারা। তাঁদের দাবি, একটি নির্বাচিত সরকারকে চাপে ফেলা, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করা এবং বিএনপির নেতৃত্বে শুরু হওয়া উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করাই এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সরকারকে নানা পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

এমন বৈশ্বিক সংকটের সময়ে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলনও এ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

গার্মেন্টসশিল্পে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা শ্রমিক অসন্তোষকে উসকে দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, আসন্ন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিরপরাধ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে।

তবে শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নির্ধারণে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিদাওয়া, কর্মপরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন বা সহিংসতার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও তাঁদের অনুসারীরা সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ইন্ধন দিচ্ছেন। এসব অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হয়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে উসকানি দিচ্ছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য প্রয়োজন। কিন্তু এরই মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের উদ্দেশে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে জোটটি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লং মার্চ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর এবং সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে তৃতীয় লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্যে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি সরকার পতন ও নতুন বিপ্লবের কথাও উঠে এসেছে। সামনে বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের আট মাসের মাথায় বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক লক্ষ্য ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংসদের বাইরে আন্দোলন ও প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। তবে এসব কর্মসূচি যেন সহিংসতা কিংবা অস্থিতিশীলতার দিকে না যায়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বিরোধী দলের কর্মসূচি ও সরকারের সমালোচনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তার সুযোগ নিতে পারে অগণতান্ত্রিক শক্তি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও সংঘাতের সুযোগ নিয়ে পলাতক রাজনৈতিক শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য নাশকতার ঘটনা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। তবে বাসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর, খিলগাঁও ও মিরপুরের কালশী এলাকায় অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা এলাকায় প্রগতি সরণিতে বৈশাখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

এর আগের দিন রাজধানীর রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের সামনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িটির চালক আহত হন। এসব ঘটনায় রাজধানীতে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাশকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত বাড়লে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ পেতে পারে পতিত স্বৈরাচারের অনুসারীরা—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র ও নতুন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন রক্ষা করতে হলে নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐক্যের আহ্বানের মূল তাৎপর্যও এখানেই—দেশের স্বার্থে বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে কাজ করা।

করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবাসহ কাঞ্চন মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাঙ্গাইলের পাঠানপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার কাঞ্চন মিয়া করিমগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গাইল এলাকার পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত শাজাহান ওরফে ইসমাইলের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ- সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শামছুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী।

সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলমসহ অন্যরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, বেকারত্ব দূর করা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সমবায় কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সমবায় সমিতিগুলোকে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।

বক্তারা সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সমবায় সমিতির সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান

কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় সমবায়ের গুরুত্বারোপ

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যে কিশোরগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে শহরের খরমপট্টি এলাকার সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিপি অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম শরীফ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নবীউল ইসলাম এবং জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপসহকারী নিবন্ধক শাহানারা হাসিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায় শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। সমবায়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমবায় সমিতিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সমবায়ের আদর্শ ও চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।