সামাজিক নিরাপত্তায় প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন: তিতুমীর
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিসংখ্যানকে উন্নয়নের বয়ান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর দাবি, ওই সরকারের সময়ে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গিয়েছিল।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটরিয়ামে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, পরিসংখ্যানকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের একটি বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। অতীতে কীভাবে মিথ্যা বলা যায়, সেই হাতিয়ার হিসেবেও পরিসংখ্যানকে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তথ্য ও অপতথ্যের লড়াই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য করা জরুরি।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিসংখ্যানকে উন্নয়নের বয়ান তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একসময় দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল। অথচ প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের তথ্যের ব্যবধান থেকেই অতীতে পরিসংখ্যান তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় সরকারের তিনটি প্রধান সংস্কার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, প্রথমত, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে মানসম্পন্ন ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিসংখ্যান তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, জননীতি প্রণয়ন ও সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষ, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিসংখ্যান সহজলভ্য করা।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়েছেন, আবার যাঁদের পাওয়ার কথা নয়, তাঁরাও সুবিধা পেয়েছেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের অপচয় হয়েছে। এ ধরনের ভুল কমাতে প্রক্সিমিটি টেস্টসহ বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিত করাও এর লক্ষ্য।
সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। পাশাপাশি ওপেন ডাটা পলিসি প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য উন্মুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালা তৈরি করা হবে।
তিতুমীর বলেন, দেশের তথ্য নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান উন্নত হবে এবং জননীতিতে জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিষয়ে অন্যদের দেওয়া ভুল ও অপতথ্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।
অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। এ সময় বিবিএসের মহাপরিচালক শামিমুল হক, পরিচালক কবির উদ্দিন আহম্মদ, পরিকল্পনা সচিব ও আইএমইডি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










Disqus comments are not configured yet.